১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতেই হবে

নিজ দেশে জীবন বিপন্ন হলে কিংবা জাতিগত নিধনের শিকার হলে ওই দেশের বিপদগ্রস্ত নাগরিকদের প্রতিবেশী কোন দেশে শরণ নেয়া স্বাভাবিক ও মানবিক বিষয়। আশ্রয় প্রদানকারী দেশ শরণার্থীদের যাবতীয় নিরাপত্তা প্রদান করে থাকে। শরণার্থী হওয়া মানে সাময়িকভাবে আশ্রয় গ্রহণ করা। বছরের পর বছর শরণার্থী হিসেবে লাখ লাখ মানুষের একটি দেশে বসবাস কাম্য হতে পারে না। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এমনটিই ঘটছে। নিবন্ধিত এগারো লাখ শরণার্থী এখানে বছরের পর বছর বসবাস করছে। বিষয়টি নজিরবিহীন। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বাংলাদেশে বসবাসরত একজন রোহিঙ্গাও নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়নি। বরং তারা পাঁচটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা ভাল আছে। এই নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের খুব একটা গরজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মানবতার খাতিরে বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্বিতীয় দফা ভেস্তে যাওয়া দুঃখজনক।

এটা স্পষ্ট যে, দ্বিতীয় দফা প্রত্যাবাসন স্থগিত হওয়ায় রোহিঙ্গারা খুশি। পক্ষান্তরে স্থানীয় নাগরিকদের উদ্বিগ্নতা বেড়েছে। বছরের পর বছর লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কারণে স্থানীয় পর্যায়ে বহুবিধ সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় অধিবাসীরাই নিজভূমে প্রায় পরবাসী হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানে সমস্যা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা হত্যাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ-বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। এমন সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। প্রত্যাবাসন স্থগিত হওয়ার কারণগুলো বিচক্ষণতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার। মিয়ানমার সরকার প্রথম থেকেই কূটকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছর প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল না হওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশকেই দায়ী করেছিল। এবারও তাই করতে পারে। কিন্তু সুকৌশলে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নটির সুরাহা করছে না।

এবারও যাতে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে না যেতে পারে সেজন্য তাদের শিবিরগুলোতে রীতিমতো উস্কানি দিয়েছে কিছু এনজিওসহ কয়েকটি গ্রুপ। এজন্য রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিদ্রোহী গ্রুপগুলো কর্তৃক সশস্ত্র মহড়ার খবরও আছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে রীতিমতো অপরাধ হিসেবে পরিগণিত। এক শ্রেণীর রোহিঙ্গা শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী যেমন শরণার্থী আইন মানছে না, তেমনি কিছু স্বার্থান্বেষী এনজিও তোয়াক্কা করছে না দেশের প্রচলিত আইনের। সরকার বরাবরই এই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হুঁঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। প্রয়োজনে আরও কঠোর হতে হবে। আমরা আগেও বলেছি, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে জরুরীভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চালানো অপরিহার্য, যাতে ভবিষ্যতে সেখানে প্রত্যাবাসন নিয়ে কোন বিঘ্ন না ঘটতে পারে। তদুপরি বিদ্যমান জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। প্রত্যাবাসনের বিরোধিতাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া সমীচীন।

নির্বাচিত সংবাদ