১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমাজনে দাবানল

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রেইনফরেস্ট বা বৃষ্টিবিধৌত বনাঞ্চল আমাজন পুড়ছে। আমাজনকে বলা হয় বিশ্বের ফুসফুস। যেমন বাংলাদেশের ফুসফুস সুন্দরবন। পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেনের জোগান দিয়ে থাকে দুষ্প্রাপ্য অর্কিড ও গাছপালা শোভিত এবং একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য ও কীটপতঙ্গ, সরীসৃপে ভরপুর বনাঞ্চলটি। দুঃখজনক ও পরিতাপের বিষয় হলো গত কয়েক বছর ধরে এই বনটি জ্বলছে। এমনিতে কম বৃষ্টিপাতে বন শুকিয়ে গেলে অথবা বজ্রপাতে বন-জঙ্গলে আগুন লাগা তথা দাবানল ছড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমাজনে নিয়মিত আগুন লাগার ঘটনা মোটেও স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক নয়। বরং নিয়মিত এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা মনুষ্যসৃষ্ট ও সুপরিকল্পিত। আমাজনে প্রতি মিনিটে একটি ফুটবল মাঠের সমান বনাঞ্চল পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইনপে’র সচিত্র সমীক্ষার মতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বনটিতে ৭২ হাজার ৮৪৩টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এই হার ৮৩ শতাংশ বেশি। অগ্নিকা- তথা দাবানলের পাশাপাশি সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে চার পাশের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা ও প্রায়ান্ধকার পরিবেশ, যা বৈশ্বিক আবহাওয়া ও জলবায়ুর জন্যও সমূহ ঝুঁকিপূর্ণ এবং হুমকিস্বরূপ। আরও যা দুঃখজনক তা হলো, আমাজনে এই আগুন লাগানো নিয়ে চলছে চাপানউতোর খেলা। ব্রাজিলের চরম ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইরা বোলসোনেরো এর জন্য সরাসরি দোষারোপ করছেন দেশটির এনজিওসহ কৃষকদের। অন্যদিকে পরিবেশবিদসহ প্রতিপক্ষ বলছেন দেশের কৃষকদের হাতে রাখতে প্রেসিডেন্ট নিজেই এই আগুন লাগানোয় মদদ দিচ্ছেন। প্রধানত গবাদিপশুর খামার প্রতিষ্ঠাসহ চাষাবাদে উৎসাহিত করতেই এহেন হীন অপচেষ্টা। এ অবস্থায় জি-৭ সম্মেলনের উদ্যোক্তা হিসেবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেছেন আমাজন নিয়ে বিশ্বের অবশ্যই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। সদস্য রাষ্ট্রগুলোরও উচিত হবে আমাজনের এই জরুরী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা তথা যথাসাধ্য ভূমিকা রাখা। কেননা, আমাজন বনাঞ্চল হলো পৃথিবীর ফুসফুস। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও বলিভিয়া ইতোমধ্যে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন না। ফলে এর সুফল প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে প্যারিসে বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের কথা বলা হলেও তা থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এখন দেখা যাচ্ছে যে, ব্রাজিলও সেই পথেই হাঁটছে। অতঃপর এর অনিবার্য প্রভাব পড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধিসহ আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর।

তবে এর মধ্যেও বাংলাদেশের অন্যতম গর্ব এবং বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে শীর্ষক সংবাদটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে গত বছর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি। তিন বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ১০৬। যৌথভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে এই জরিপ পরিচালনা করেছে বন বিভাগ, বেসরকারী সংস্থা ওয়াইল্ড টিম ও যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান কনজারভেশন বায়োলজি ইনস্টিটিউট। অবশ্য সুন্দরবনের বাইরেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে কয়েকটি বাঘ থাকা বিচিত্র নয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইন-২০১৭ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদে। যে কোন দেশের বন-জঙ্গল সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত থাকলে জীববৈচিত্র্য স্বভাবতই বাড়বে এবং প্রাকৃতিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। মনে রাখতে হবে যে, পৃথিবীটা কোন একটি বা দুটি দেশের নয়, বরং সবার।

নির্বাচিত সংবাদ