১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আশ্রয় ক্যাম্পে সক্রিয় সশস্ত্র রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট

আশ্রয় ক্যাম্পে সক্রিয় সশস্ত্র রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট
  • হুমকির মুখে স্থানীয়দের নিরাপত্তা

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া উন্নয়নসমৃদ্ধ দেশকে রোহিঙ্গা নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে কিনা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলেন, মানবতার খাতিরে রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। তবে তাদের কর্মকান্ড ও আচরণে মনে হচ্ছে মানবতা ভালবাসার মায়াজালে বিশ্বাসী নয় ওরা। উখিয়া-টেকনাফবাসীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে জানিয়ে সচেতন মহল বলছে, স্বার্থ কমে গেলে ওরা স্থানীয়দের ওপরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে। উখিয়া টেকনাফে অবস্থানরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা ফুঁসে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা নিরাপদ দূরত্বে পাহাড়ের পাদঘেঁষে জঙ্গী আস্তানা ঘরে তুলতে পারে। স্থানীয়রা বলেন, কয়েক বছর ধরে টেকনাফের পল্লানপাড়ায় ডাকাতের অত্যাচার নির্যাতনে একাধিক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ওই রোহিঙ্গা ডাকাতের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন টেকনাফ পৌরসভা যুবলীগের নেতা নুরুল কবির, প্রাণ হারিয়েছেন সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজ মেম্বার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা বৃহস্পতিবার চোখ উপড়ে ফেলে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে হ্নীলা যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে।

রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার আবদুল হাকিমকে প্রশাসন অনেকবার ধরার চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু কুখ্যাত হাকিম ডাকাত মানবতার খাতিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। তারপরও প্রশাসন কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে হাকিম ডাকাতসহ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার চেষ্টা চালাচ্ছে।

উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী ও থাইংখালী, টেকনাফের শাল বাগান ক্যাম্প, নয়াপাড়া, পুঠিবনিয়া ও শামলাপুর ক্যাম্পে গড়ে উঠেছে নতুন-পুরান রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের বড় সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। বৃহস্পতিবার রাতে শালবাগান ক্যাম্পে যেখানে যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুককে হত্যা করা হয়েছে, রবিবার দুপুরে সেখানেই ফারুকের ভাইকেও হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা। একাধিক সূত্র জানায়, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের তৎপরতা শুরু হয় শালবাগান ও নয়াপাড়া ক্যাম্পে। সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে রয়েছে হাকিম ডাকাত, নুর মোহাম্মদ তার সেকেন্ড ইন কমান্ড সেলিম। এসব সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা ডাকাতকে অস্ত্রশস্ত্র জোগান দিচ্ছে পুরনো রোহিঙ্গা নেতা আয়ুব মাস্টার, মৌলবি ইদ্রিছ মৌলবি, রহিম মৌলবি, আয়াছ মৌলবি ও হাফেজ হাসিমসহ বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা অন্তত ২০-২৫ আরএসও রোহিঙ্গা জঙ্গী।

নির্বাচিত সংবাদ