১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লঙ্কানদেরও উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

জাহিদুল আলম জয় ॥ বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশ বরাবরই সফল। ইদানীং জাতীয় দলও সাফল্য পেতে শুরু করেছে। মেয়েদের ফুটবল তো স্বর্ণালি সাফল্য পাচ্ছে গেল কয়েক বছর ধরেই। সবমিলিয়ে দেশের ফুটবলে আবারও সুদিন ফেরার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

যার নমুনা রেখে চলেছেন বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কল্যাণীতে চলমান সাফ অনুর্ধ-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স প্রদর্শন করে চলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মুকুট ধরে রাখার মিশনে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে মোস্তফা আনোয়ার পারভেজের দল। রবিবার দুপুরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৫ জাতীয় ফুটবল দল ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা অনুর্ধ-১৫ জাতীয় দলকে। কল্যাণী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে হ্যাটট্রিকসহ একাই চার গোল করেন আল-আমিন রহমান। দলের বাকি তিন গোল করেন অধিনায়ক রাকিবুল ইসলাম, আল মিরাড ও গোলাম রাব্বি। লঙ্কানদের হয়ে একমাত্র সান্ত¡নাসূচক গোলটি করেন ফরোয়ার্ড মুহাম্মেদ শাকিল।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে বাংলার কিশোররা। রাউন্ড রবিন লীগ ভিত্তিতে হওয়া এই টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে পাঁচটি দেশ। বাংলাদেশ পরবর্তী দু’টি ম্যাচ খেলবে আগামী ২৭ ও ২৯ আগস্ট যথাক্রমে নেপাল ও স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে। মূলত সবচেয়ে দুর্বল দু’টি দলের বিরুদ্ধে খেলে ফেলেছে বাংলাদেশ। শেষ দুই ম্যাচ তাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। সবার সঙ্গে সবাই খেলার পর সবচেয়ে সেরা দু’টি দেশ ৩১ আগস্ট ফাইনালে মুখোমুখি হবে। আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মতো টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোলোৎসব করে জিতেছে স্বাগতিক ভারত। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয়া ভারতের কিশোররা রবিবার ৭-০ গোলে নাকাল করেছে ভুটানকে।

এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারত দু’দলের ভা-ারে জমা হয়েছে দুই ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট করে। তবে গোলগড়ে ভারত এক ও বাংলাদেশ আছে দ্বিতীয় স্থানে। টানা দুই ম্যাচে হেরে ভুটানের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন একপ্রকার শেষ হয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কা ও নেপাল দু’টি করে ম্যাচ খেলে একটিতে জয় পেলেও আরেকটি হেরেছে। যে কারণে এই দুই দলেরও ফাইনালে খেলা খুব কঠিন। এখন পর্যন্ত ফাইনালে খেলার পথে টুর্নামেন্টের দুই টপ ফেবারিট বাংলাদেশ ও ভারতই এগিয়ে আছে।

লঙ্কানদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট অনেকটা একতরফা খেলেও গোল পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অবশেষে ৩২ মিনিটে সাফল্য ধরা দেয়। সংঘবদ্ধ আক্রমণে সতীর্থের পাস পেয়ে ডি বক্সে ঢুকে লঙ্কান গোলরক্ষক থারুসা রাশমিকাকে পরাস্ত করেন হ্যাটট্রিকম্যান আল-আমিন সরকার। প্রথম সাফল্য পাওয়ার পর দ্বিতীয় গোলের আগে আরও কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হয়। ৪২ মিনিটে অধিনায়ক রাকিবুল গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দর্শনীয় ভঙ্গিতে গোলটি করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাঝমাঠ থেকে গোছালো আক্রমণে লঙ্কান বক্সের কিছুটা আগে বল পান তিনি। এরপর কয়েজজনকে কাটিয়ে ডি বক্সে প্রবেশ করে নান্দনিক প্লেসিং শটে লক্ষ্যভেদ করেন। দুই মিনিট পর আল-আমিন নিজের দ্বিতীয় ও দলের তিন নম্বর গোল করেন। এবারও বক্সের মধ্য থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। তিন গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরে শুরু থেকে আরও বেশি চড়াও হয়ে খেলতে থাকে বাংলার কিশোররা। ফল পেতেও দেরি হয়নি। এ অর্ধের তৃতীয় মিনিটেই অর্থাৎ ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মিরাডের লক্ষ্যভেদে চার নম্বর গোল আদায় করে বাংলাদেশ। অপূর্ব মালির থ্রো ইন থেকে চোখ ধাঁধানো হেডে গোলটি করেন মিরাড। চার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর এক গোল হজম করে শিরোপা প্রত্যাশীরা। ৫০ মিনিটে বাংলাদেশী ডিফেন্ডার হেডে ঠিকমতো বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন। ফলে শ্রীলঙ্কার ফরোয়ার্ড শাকিল ফাঁকায় বল পেয়ে প্লেসিং শটে দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন।

ভুলে গোলটি হজম করা বাংলাদেশ আর কোন সুযোগ দেয়নি প্রতিপক্ষকে। ৬০ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন আল-আমিন; পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন। ৬৭ মিনিটে দলের হয়ে ছয় নম্বর গোলটি করেন বদলি ফরোয়ার্ড গোলাম রাব্বি। ডি বক্সের মধ্যে জটলা থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন। বাংলাদেশের হয়ে গোলোৎসবের শুরু করেছিলেন আল-আমিন, শেষও করেন তিনি। ৭১ মিনিটে দলের সাত নম্বর ও নিজের চতুর্থ গোল করেন এই সম্ভাবনায় ফরোয়ার্ড। বাকি সময়ে বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি আনোয়ার পারভেজের দল। যে কারণে গোলের মালাটা আর বাড়েনি।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া