২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিয়ে আশাহত হবেন না : মেয়র সাঈদ খোকন

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিয়ে আশাহত হবেন না : মেয়র সাঈদ খোকন

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে নগরবাসীর কাছে আমরা দুই বছর সময় চেয়েছিলাম। তাদের বলবো, আপনারা আশাহত হবেন না। সময় দিয়েছেন, এখন আশা রাখুন। আপনাদের একটি বাসযোগ্য শহর উপহার দেবো, যেখানে গণপরিবহনে কোনো বিশৃঙ্খলা থাকবে না।

শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে (আইইবি) পুরকৌশল বিভাগ ও নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের যৌথ আয়োজনে ‘গণপরিবহনে শৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, রাজধানীর ৩৫০টি রুটকে ২২টি রুট করতে কাজ করছি, সাড়ে সাত হাজার গণপরিবহনকে ছয়টি কোম্পানির অধীনে আনা হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধান করে ১০টি সংস্থার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করেছেন, ইতোমধ্যে ১২টি সভা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে আমরা ছোট ছোট কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি, উত্তরা, মতিঝিল, এয়ারপোর্ট, আজিমপুর অঞ্চলে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। চাইলেই তো আর একসঙ্গে সাড়ে সাত হাজার নতুন গাড়ি আনতে পারি না। এখানে অর্থের বিষয় আছে, মালিক-সরকার মিলে বসতে হবে, জনগণকে এর সঙ্গে আনতে হবে। নগরবাসীকে আশাহত হলে হবে না, আমাদের ওপর আশা রাখতে হবে।

সাঈদ খোকন বলেন, আমরা যখন নতুন নতুন গাড়ি নিয়ে, এর শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলছি, উন্নত বিশ্ব তখন ভিন্ন চিন্তা করছে। তারা জ্বালানি থেকে বেরিয়ে বিদ্যুতের দিকে যাওয়ার কথা ভাবছে। আমাদের এখানেও সেটা করা যায় কি-না দেখতে হবে। কারণ, আমরা বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ, অনেক বিদ্যুৎ অপচয়ও হয়। পরিবহনে বিদ্যুৎ এলে এর অপচয় কমার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের খরচ কমবে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, পরিবহন নিয়ে অনেক পরিকল্পনা হলেও এর বাস্তবায়ন হয় না। ছাত্র আন্দোলনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যার একটিরও কাজ হয়নি। ঢাকা টু গাজীপুর ২৮ রুটে দুই হাজার গাড়ি চলছে ৪৫ কোম্পানির অধীনে। এখানে যাত্রীর জন্য রয়েছে অসম প্রতিযোগিতা। আবার, ভারত থেকে গাড়ি আমদানির কারণে খরচ বেশি পড়ে, যার অর্থের উৎস হতে হয় সাধারণ যাত্রীদেরই। এসব বিষয় দেখতে হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, নগরে পরিবহনের শৃঙ্খলা আনতে যেসব পরিকল্পনা করি, সেগুলো অবৈজ্ঞানিক। আবার, বিজ্ঞানভিত্তিক তালিকা করতে পারি না যে, আগামী পাঁচ বছর পর কী হবে, কী করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক গাড়ি ভাড়া নেওয়ায় প্রতিনিয়ত চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। চালকের লক্ষ্য থাকে কীভাবে ভাড়ার টাকা আগে ওঠানো যায়। এতে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

তার মতে, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে শুধু পরিকল্পনা করলে হবে না। এর জন্য চালকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। দেখতে হবে, তারা যেন মাদকাসক্ত না হয়। ট্রাফিক পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) প্রবীর কুমার রায় বলেন, পরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে নিরলস কাজ করছি আমরা। আমাদের জনবল বাড়ানো হয়েছে, তবে সচেতনতার অভাব রয়েছে জনগণের মধ্যে। ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও পথচারীরা তা ব্যবহার করেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছেন। এজন্য আমরা নিয়মিত কাউন্সেলিং করছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বলছি, মাইকের মাধ্যমে ঘোষণা করা হচ্ছে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদ, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আমিতোষ পাল, সাধারণ সম্পাদক মতিন আব্দুল্লাহ প্রমুখ।