১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অথ-কিম সমাচার

  • শরিফা খন্দকার

নব্বইয়ের শেষ ভাগে আমার প্রবাস কর্মজীবনের প্রথম দিকে সহকর্মীরা কথায় কথায় আমাকে নানা প্রশ্নে যখন বলত- ইওর ইন্ডিয়া ...

উত্তর দেবার আগে সে সময় বারেবারে বলতাম-আই এম ফ্রম বাংলাদেশ, নট ফ্রম ইন্ডিয়া।

সত্যি কথা বলতে কি কাজে দেবার পর থেকেই দেখেছি শিক্ষা-দীক্ষা থাকলেও অধিকাংশ আমেরিকান এই পৃথিবীটাকে নিজেদের মতো করে ভাগ করে নিয়েছে। ইরাক আর ইরান যে দুটো দেশ লেখাপড়াওয়ালা সহকর্মীর বেশিরভাগই তা জানে না। আমার দেয়া বাংলাদেশ পরিচিতি শুনতে শুনতে একদিন দারুণভাবে রেগে গেল সহকর্মী মারিনা- আই ডোন্ট কেয়ার ইওর বাংলাদেশ! যেমন আমি কেয়ার করি না কে চাইনিজ, কে কোরিয়ান, কে সিঙ্গাপুরিয়ান আর কেইবা জাপানিজ। ইন মাই আইজ দে অল লুক এলাইক... সো আই থিঙ্ক দে আর অল চাইনিজে। ... তেমনি আমার চোখে যারা দেখতে ইন্ডিয়ান তারা সবাই ইন্ডিয়ানই। আই ডোন্ট কেয়ার এবাউট বাংলাদেশী পাকিস্তানী এটসেট্রা এটসেট্রা। তোমাদের চেহারায় তো কোন সেপারেট আইডেন্টিটি নেই।

অবশ্য নতুন শতকে পৌঁছোবার পর থেকে বাংলাদেশের বাঙালীদের গড়ে হরিবলে ভারতীয় বলে অভিহিত করার সেই দিন আর রইল না। দিনে দিনে তাদের ক্রমবর্ধিত সংখ্যাটি শুধু নয়, তাদের বিপুল কর্মোন্মাদনার কারণে বিগত শতকের অচেনা বাংলাদেশ করে নিল নিজ পরিচয়ের দৃঢ় আসন। সে পরিচয় বর্তমানে এমনি প্রগাঢ় যে নিউইয়র্ক নগরের ভোটিং ব্যালটে স্থান পাওয়া ষষ্ঠ ভাষার মধ্যে বাংলা অন্যতম। পাবলিক স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাথমিক ভাষা ইংরেজীর সঙ্গে অবশ্য পাঠ্য দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলা পড়তে পারে।

আমার প্রাক্তন সহকর্মীদের কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে খুব বিস্মিত হতো যখন উপমহাদেশের মানুষদের ভেতর থেকে ভাষা না শুনেই কাউকে উদ্দেশ করে বলতাম ব্যক্তিটি আমার স্বদেশ থেকে আগত। প্রায় নিরানব্বই ভাগ ক্ষেত্রে ভুল হতো না। তখন ওদের কারও বিস্মিত প্রশ্ন থাকত- আমাদের চোখে তো তোমরা সব দেখতে একই রকম। তুমি ফারাক খুঁজে পাও কোথায়? ওদের বলতাম উপমহাদেশের লাখ লাখ জীবনের সমুদ্র সফেন বোঝাই এ শহরে আমি স্রেফ বদন খানি দেখে একজনকে ঠিক চিনে নিতে পারি বাঙালী বলে।

নিজের কাছেই এর কোন সন্তোষজনক কারণ না থাকলেও আজও ধারণা করি সেটা তাদের চোখের ভাষা- যেটি সম্ভবত উপমহাদেশের অন্য মানুষ থেকে আলাদা! কারও ক্ষেত্রে হোক না সে ভাষা সোজা সরল, কারও ক্ষেত্রে চাতরিতে মাখা!

কিন্তু ইদানীংকার দিনে স্বদেশ থেকে শৈশবে আগত কিংবা এদেশে জন্মগ্রহণকারী স্মার্ট বাঙালী দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাপারে কি বিধান? ওরা অধিকাংশই আপন গৃহে পর্যন্ত বাংলা ভাষায় যেমন কথা বলে না তেমনি বলনে চলনে, কাজে কর্মে লেখাপড়ায় চৌকস মার্কিনী। কিন্তু ওই যে বলেছিলাম চোখের ভাষা! এতসবের ভেতর সেটাই যেন বলে দেয় তার পূর্ব প্রজন্মের খবর। ওদের ক্ষেত্রেও তেমন ভুল হয় না বলে আমি মনে করি।

আমাদের বাড়ি থেকে একটুখানি এগুলে কুইন্স বুলেভার্ড নামে যে সুবিশাল পথ, সেটার ওপারে গেলেই রিগো শপিং মল। রিগো মলের ভেতর নানা নামী দোকানের সঙ্গে আছে ‘বেড বাথ এ্যান্ড বিয়ন্ড’ নামের খ্যাতনামা স্টোরটি। যেখান থেকে প্রায়শই আমাদের কেনাকাটা হয়। সেই দোকানে ইদানীং চোখে পড়ছে সদ্য টিনএজ পেরনো এক মেয়েকে- যার আইডিতে নাম লেখা ‘কিম।’

চোখের ভাষাটা ধরি ধরি করে অধরা থাকলেও ওর পানপাতা গড়নের নম্র মুখশ্রী সঙ্গে চাপার ছোঁয়া লাগা গাত্রবর্ণ দেখে আমার বিশ্বাস এ কন্যা যতই কিম নাম ধারণ করুক ও বাঙালী পরিবার থেকেই এসেছে। আমাদের সমাজে শুধু তো রবীন্দ্রনাথের কৃষ্ণকলি নেই আছে চম্পা বরণীরাও। সেই শৈশব-কৈশোরে আধুনিক গানের অনুরোধের আসরের বিখ্যাত একটি গানে ছিল ‘চম্পা বরণীগো কত নামে ডেকেছি তোমায়।’ কিম মেয়েটির নাকে আছে খুব সূক্ষ্ম এক নাকফুল সেটি যেন ওর পরিচিতি সম্পর্কে আমাকে আরও নিশ্চিত করেছিল।

ও ‘বেড বাথ এ্যান্ড বিয়ন্ড’ নামে দোকানটিতে যে কাজ করে তাকে আমাদের দেশের ভাষায় বলে সেলস গার্ল আর আমেরিকায় ঐ পেশার নাম ক্যাশিয়ার। যদিও প্রায়ই দেখা হয় আর দেখতে বাঙালী মেয়ে মনে করলেও কিমের জাত পরিচয় কখনও শুধাইনি। এর কারণ হচ্ছে পথের ওপারে আর এক স্টোরে স্কুল পড়ুয়ার মতো এক অল্প বয়সী ক্যাশিয়ারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওর বাবা-মা বাঙালী কি-না। কিছু রূঢ় আচরণের ভঙ্গিতে সে সজোরে ঘাড় নেড়ে বলেছিল- নো।

অথচ একদিন সে যখন তার দোকানের সামনে সাইডওয়াকে দাঁড়িয়ে সেলফোনে কার সঙ্গে যেন কথা বলছে তখন পথ চলতে চলতে ওকে পাস করতে গিয়ে বলতে শুনলাম পরিষ্কার বাংলা কথা- তা সে যতই মৃদু স্বরে হোক।

ওর কথা নয় আমিতো বলছিলাম বেড বাথে চাকরি করা যার মুখের গড়ন পানপাতার মতো সেই মেয়েটির কথা। আইডিতে ওর নাম দেখি কিম এবং এই শহরে অসংখ্য মেয়ে রয়েছে, যদিও তারা প্রায় সকলেই চাইনিজ। কিন্তু আমি স্বভাবতই সুনিশ্চিত সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ উঁচু সুন্দর নাকের বাঙালী চেহারার এই মেয়েটি কোনমতেই চাইনিজ অরিজিনের নয়। তারপরেও মনে হয়েছে সে যখন ওদেরই নাম ধারণ করেছে তখন তাকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন না করাই ভাল। ওর কাছ থেকে প্রায়শঃই কেনাকাটা হলেও কখনও হাই হ্যালোর বেশি কথা বাড়াইনি।

আমি গত বছর থেকে ভোটের দিন নিউইয়র্ক ইলেকশন কমিশনে কাজ করবার দায়িত্ব পেয়েছি। এ বছরের এক ভোটের দিনে কথা বলার অবকাশে কাকতালীয়ভাবেই ভোট কেন্দ্রে কিম নামটা নিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং অভিজ্ঞতা হলো। যে তরুণের কাছ থেকে ওটা পাওয়া গেল সে কোরিয়ান ভাষার ইন্টারটোর হিসেবে কাজ করছিল সেখানে- পুরুষ হলেও তার নামও কিম।

উপমহাদেশের মানুষদের ভেতর থেকে বাঙালী চিনতে পারলেও এদেশে চাইনিজ কোরিয়ান মায় জাপানীদের চেহারা ফারাক করা অন্য সকলের মতো আমার কাছেও দুঃসাধ্য। বিগত বছরের আর এক ভোটের দিনে সে সময় সহযোগী একটি রসিক চীন বংশোদ্ভূত যুবক আমাকে এ বিষয়ে অদ্ভুত এক জ্ঞান দান করেছিল। তার কথায় চীনা মানুষকে যদি চিনতে চাও তবে দেখবে তাদের মুখগুলোর আকার হবে গোল আর কোরিয়ানদের বেলায় সেটা হবে চৌকো।

ওটা যে ওর ফাজলামি ছিল ব্যাপারটা সেদিন বুঝলাম ইন্টারপ্রেটার কোরিয়ান পুরুষ কিমের চৌকো নয় গোল মুখের দিকে তাকিয়ে।

-আচ্ছা আমাকে একজন চাইনিজ বলেছিল কোরিয়ানরা হয় চৌকো মুখের কিন্তু তোমার মুখতো চীনাদের মতো গোল?

সে কিছুক্ষণ ভ্রƒকুঁচকে থেকে হাসিতে ভেঙে পড়ে বলেছিল- এটা এক্কেবারে গুলবাজি। এ দেশে ভোটারদের তেমন হুড়োহুড়ি থাকে না বিশেষত ভরদুপুর।

সেই অবকাশে গল্পে গল্পে ওর কিম নাম বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম!

-আমি এই শহরে কিম নামে যাদের চিনি তারা তো সবাই মেয়ে। তোমার নামটি মেয়েদের কেন?

যুবকটি খুব রসিক সে তখন একটা মজার প্রশ্ন করল আমাকে- বহুল আলোচিত নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম ঝন উংয়ের নাম শোননি? এই ডিক্টেটর কি মেয়ে নাকি!

কি কা- এটা তো আমার মেমোরিতেই ছিল না। লজ্জা পেয়ে বলি

-তাইতো তাইতো। ...

আমার অপ্রস্তুত মুখের দিকে চেয়ে সে বলল আসলে কিম নামটা চাইনিজ এবং কোরিয়ান দুই সমাজেই আছে। তবে ফারাকটা হচ্ছে চাইনিজ কমিউনিটিতে মেয়েদের নাম হয় কিম আর কোরিয়ান সমাজে পুরুষদের। এছাড়া দু’দেশের কিম নামের বড় পার্থক্য হলো কিম হচ্ছে চাইনিজদের লাস্ট নেম আর কোরিয়ানদের ফার্স্ট নেম। কিম ইজ দ্য মোস্ট পপুলার সারনেম ইন কোরিয়া।

আমি সঙ্গে সঙ্গে জোগান দিয়ে বলি- যেমন কিম ঝন উং!

কিন্তু জাপানীদের ক্ষেত্রে কি বিধান? তোমরা তো একইরকম দেখতে।

কোরিয়ান কিমের উত্তর ছিল- আসলে চীন কোরিয়ার মতো এমন ব্যাপকভাবে জাপানে কিম নামের কোন প্রচলন নেই।

যাই হোক, আবার ফিরে আসি বাঙালী চেহারার কিমের কাছে। এক ছুটির দিনে বাড়ির কর্তা ও আমি দু’জনে বেড বাথে কেনাকাটা করতে গেছি যখন, ডাক পড়ল ওর কাছ থেকে। জিজ্ঞেস করল- তোমাদের কাছে কি আমাদের স্টোরের ক্রেডিট কার্ড আছে?

-নাহ। ...

-করে দেব?

-ঠিক আছে।

কার্ড করতে গেলে বেশ সময় লাগে- কাস্টমারের ক্রেডিট লাইন ইত্যাদি চেক করা আছে তারপর ওর কাছে ওপর থেকে আসবে এপ্রুভাল। সেই অবকাশে কথা হচ্ছিল।

বলল- এবার সে কলেজ শেষ করে একটা ভাল জবের জন্য অপেক্ষা করছে।

একসময় কথার ফাঁকে এতদিনের রুদ্ধ জিজ্ঞাসা ফস করে বেরিয়ে গেল মুখ থেকে- তোমার চেহারা দেখে মনে হয় যেন বাঙালী মেয়ে।

ও একটু হাসল- নাহ। তবে আমাকে কেউ কেউ এই কথা বলে। কারণটা মনে হয়...বলতে বলতে ও তার নাক ফুলে হাত রাখল।

বললাম- সেটা ছাড়া তুমি দেখতেও তো বাঙালীদের মতো।

শুনে সে জানাল ও বাঙালী নয়, গাইয়ানিয়ান। খুব ছোট বেলায় বাবা-মার সঙ্গে গায়ানা থেকে আমেরিকায় এসেছে। পিতা-মাতা ইন্ডিয়ান অরিজিন তবে তারা হিন্দি জানে না। যদিও বলিউড ছবি তাদের খুব পছন্দ।

কিন্তু দুনিয়ায় এত নাম থাকতে তোমার নাম তারা চাইনিজ রাখল কেন?

কৈ না তো। আমার নাম তো আসলে কিম্বারলি-অনেক আমেরিকানেরও এই নাম। যেটিকে অনেকেই ছোট করে এদেশে কিম বলেই তো ডাকে।

সত্যি কথা আমেরিকানদেরও যে কিম নাম হয় সেটা তো টেলিভিশনে নিত্য দেখেও বেমালুম মাথায় রাখিনি। বিখ্যাত এই নারী কিম তো আমেরিকানই চাইনিজে কোরিয়ান কোনটাই নন। তিনি আমেরিকার বিখ্যাত রিয়ালিটি টিভি স্টার কিম কার্দাশিয়ান।

আমার কিম্বারলী নামের শ্বেতাঙ্গিনী একটি বন্ধুর কাছে একবার জেনেছিলাম ওর নামটির ইতিহাস। এই নাম দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত হীরা-খনির কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত এক শহরের নাম। সে বলেছিল, ধারণা করা হয় এই নামটি এসেছে কিম্বারলাইট থেকে- যে শব্দের উৎপত্তি হয়েছে এক ধরনের পেরিডোসাইট শিলা থেকে। এই পেরিডোসাইট পাথরটি ধারণ করে হিরোককে। ওর কাছে আরও জেনেছিলাম ইংরেজ রাজত্বে- তারপরেও দীর্ঘকাল ধরে এটা পুরুষের নাম হিসেবে রাখা হতো। অষ্টাদশ শতকে ব্রিটিশ কলোনিয়াল যুগে লর্ড কিম্বারলি ছিলেন একজন সুবিখ্যাত কলোনিয়াল সেক্রেটারি- আমরা জেক মন্ত্রী বলে থাকি। কেউ বলেন আফ্রিকার সেই হীরার কেন্দ্র সেই শহরের নামকরণ হয়েছিল তারই নাম অনুসারে। শুরুতে সে নাম পুরুষের হলেও পরবর্তী সময়ে ক্রমে ক্রমে কে জানে হয়তো হীরার ঝলকেই বুঝি সেটি হয়ে উঠল মেয়েদের নাম।

কার্ডের জন্য এপ্রুভাল পাবার অপেক্ষায় সামনে দাঁড়ানো গাইয়ানিয়ান কিম সেদিন আর এক কথা জানাল

-আমার জানা চেনাদের মধ্যে বেশিরভাগ কিম্বারলিকেই কখনও তার পুরো নাম কিম্বারলি বলে ডাকা হয় না। সবাই কিম নামে ডাকে। কিন্তু আবার অনেক মার্কিন মেয়ে কিম্বারলি নামের সংক্ষিপ্তকরণ পছন্দ করে না। আমারই এক সহপাঠী কখনোই নিজেকে কিম বলে পরিচিত করত না শুধু নয় আমাকেও কিম বলে ডাকত না। বলত, এই নামটি আসলেই খুব শ্রুতিমধুর! তাই আমি মনে করি, এমন একটি অপূর্ব নাম সংক্ষিপ্ত করে কিম বলা বা ডাকা আমার কানে বাজে শোনায়. এই সুন্দর নামটিকে এককভাবে সযতনে রেখে দেয়া উচিত। আমার মা সবসময় আমাকে আমার পুরো নাম দিয়ে ডাকে।’

এবার সে যুক্ত করল ওর নিজের অন্য এক কথা।

-তবে আমার মা-বাবাও আমাকে কখনই কিম ডাকে না।

তারা তাদের জানা একটি মাত্র ইন্ডিয়ান শব্দে সম্বোধন করে আমায় ডাকেন ‘বে...টা’। এমন কি ড্যাড যদি কখনও এই স্টোরে আসেন দূর থেকে ডাক দেন ‘বে টা’

বলতে বলতে ওর পানপাতা মুখের ওপর যেন ঝলকালো হীরের দ্যুতি।

কার্ড নিয়ে কেনাকাটা করে বিদায় নেবার সময় দু’জনেই ওকে ‘বাই বেটা’ না বলে পারিনি।

পুনশ্চঃ কিম নাম্নী এই মেয়েটিকে বাঙালী হিসেবে বিশ্বাস করার জন্য একটা খচখচানি ছিলই মনের ভেতর। গায়ানিজ জাতি সম্পর্কে তাই জানবার ইচ্ছায় শুরু করলাম তথ্যবাজারের এখানে সেখানে ঘাটাঘাটি। আর সেখানে যা পেলাম তা হচ্ছে তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারত থেকে ১৮০০ সালে ভারতের যে সব প্রভিন্স থেকে লোকজন গায়ানায় গিয়েছিল তার মধ্যে একটি ছিল অবিভক্ত বেঙ্গল প্রভিন্স। আর এটা জেনে বাঙালী চেনার নিজের বিশ্বাসটি যেন প্রাণ পেল। মনে হলো হয়তোবা কিম্বারলিকে আমি ভুল চিনিনি।

লেখিকা : নিউইয়র্ক প্রবাসী

নির্বাচিত সংবাদ