১৬ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দৃশ্যমান উন্নয়ন

রাজধানীর অসহনীয় যানজট নিরসনকল্পে অত্যাধুনিক মেট্রোরেলের উন্নয়ন কাজ যখন দৃশ্যমান হচ্ছে তখন মানুষ হাসিমুখে মেনে নিচ্ছে আপাত দুর্ভোগ। বাস্তবে পদ্মা সেতুর মতোই জাপানের সহযোগিতায় মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে আশাব্যঞ্জক গতিতে। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তত্ত্বাবধানে জাইকার সহযোগিতায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই সুবিশাল প্রকল্পের কাজের বাস্তবায়ন ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩০.৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে অগ্রগতি ৪৬ শতাংশ। সেখানে ইতোমধ্যে ফ্লাইওভারের মতো দেখতে অবকাঠামো বসেছে, যাকে বলে ভায়াডাক্ট। রেলপথ বসানো শুরু হবে নবেম্বরে। ইংল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে রেলট্রাক। জাপান থেকে আসছে রেলকোচ। পাশাপাশি চলমান বৈদ্যুতিক সংযোগসহ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাব স্টেশন নির্মাণের কাজ। উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক এক কিলোমিটার মেট্রো রেলপথে ২৪ সেট ট্রেন চলাচল করবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের এই দক্ষযজ্ঞ দেখে সাধারণ মানুষ, যাত্রীসাধারণ, সর্বোপরি যানবাহনের চালক ও সহকারীরা আপাতত মেনে নিচ্ছেন প্রতিদিনের যানজটের ভয়াবহ দুর্ভোগ ও ভোগান্তি। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে এটি একটি বাস্তবতা বৈকি। ভাল কিছু পেতে হলে সাময়িকভাবে মেনে নিতে হয় কিছু দুঃখ-কষ্ট।

এর পাশাপাশি ২০১৮-এর আগস্টে এলএনজি যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে। এটিও একটি বাস্তবতা। এর মাধ্যমে আমদানিকৃত তরল গ্যাস পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে সরবরাহ করা হয় জাতীয় গ্রিডে। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুত সঙ্কট কমেছে অনেকটাই। যদিও সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় দ্বিতীয় টার্মিনালটি থেকে আপাতত এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে ভাড়া বাবদ কিছু টাকা গচ্চাও যাচ্ছে।

কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তরল এই গ্যাস সমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় আনোয়ারায় নির্মিত সাবস্টেশনে। এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ইতোমধ্যে। প্রথম দিকে এই এলএনজি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ করা হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরীতে, বিশেষ করে ক্যাপটিভ পাওয়ার স্টেশনগুলোতে। নিকট ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হবে জাতীয় গ্রিডে। ফলে স্বস্তি নেমে এসেছে দেশের জ্বালানির বাজারে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিরাজ করছে এক ধরনের আস্থা ও বিশ্বাস। কেননা ইত্যবসরে রাজধানী ও অন্যত্র দেখা দিয়েছে কমবেশি গ্যাস সঙ্কট। সিলিন্ডার গ্যাসও দুর্লভ ও দুর্মূল্য। অনেক স্থানে পর্যাপ্ত সরবরাহ তো দূরের কথা, সুলভও নয়। এ অবস্থায় দেশে নিয়মিত এলএনজির সরবরাহ ও প্রাপ্তি সুনিশ্চিত করা সম্ভব হলে এর সামগ্রিক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জ্বালানি সেক্টরে। সার ও বিদ্যুত সেক্টরসহ শিল্প-কলকারখানাগুলো সচল থাকবে সারা বছর ধরে। বন উজাড়সহ জ্বালানি কাঠের ওপর চাপ কমবে। তবে এর জন্য সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে নিয়মিত এলএনজির সরবরাহ। উল্লেখ্য, সরকার ইতোমধ্যে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নার জন্য নতুন গ্যাস সংযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকার বরং রফতানিযোগ্য পণ্য ও উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য গ্যাস সরবরাহে সবিশেষ আগ্রহী। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য এহেন সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী নিঃসন্দেহে। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে বিদেশ থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ডিপো স্থাপন করতে হবে। এর পাশাপাশি স্থলে-জলে জোরদার করতে হবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান।