১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাশ্মীর কোন্ পথে -শাহরিয়ার কবির

  • উপসংহার

ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা এবং ৩৫-এ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত এই রাজ্যটিকে ভারতের অঙ্গীভূত করার পক্ষে ও বিপক্ষে বিতর্ক আরও অনেকদিন চলবে। সময়ের ব্যবধানে মহারাজা হরি সিং কর্তৃক স্বাধীন জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের ভারতভুক্তি চুক্তি, কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ কর্তৃক সংবিধানে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ৩৭০ ধারার অন্তর্ভুক্তি, পরবর্তী সময়ের ইন্দিরা-শেখ আবদুল্লাহ চুক্তির মতো মোদি সরকারের বর্তমান পদক্ষেপও একদিন ইতিহাসে পরিণত হবে, কিন্তু কাশ্মীর থাকবে। কাশ্মীরের মানুষও থাকবে। কাশ্মীরীদের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও ভাষাও থাকবে। শ্রীনগরের ডাল লেকের শিকারা থাকবে, পাইন আর চীনারের বন থাকবে, অপূর্ব হস্তশিল্পের ঐতিহ্যও থাকবে। কিন্তু কাশ্মীরের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক মানবিকতার চেতনায় ভাস্বর সমাজ ও সংস্কৃতি কি থাকবে?

গত তিরিশ বছর ধরে কাশ্মীরী সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির যে মৌলবাদীকরণ, সাম্প্রদায়িকীকরণ ও পাকিস্তানীকরণ হয়েছে, সুফী-ঋষি-সন্ন্যাসী ও ভিক্ষুদের অসাম্প্রদায়িক সৌভ্রাতৃত্বের চেতনা যেভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে, সেখান থেকে কাশ্মীরকে বের করে আনার প্রধান উদ্যোগ সমন্বিতভাবে গ্রহণ করতে হবে দিল্লী ও শ্রীনগরকে।

দিল্লীর কাশ্মীরনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধী থেকে আরম্ভ করে ভিপি সিং পর্যন্ত কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ বার বার ভুল করেছেন, যা এখন আর শোধরানো যাবে না। কাশ্মীর দখল করার জন্য পাকিস্তান তিনবার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ভারতের বিরুদ্ধে, ছায়াযুদ্ধ এখনও বন্ধ হয়নিÑ এতে ভারতের যত না ক্ষতি হয়েছে তার শতগুণ ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানের। এর মাশুল গুণতে হচ্ছে হতভাগ্য কাশ্মীরীদের। যতদিন পর্যন্ত পাকিস্তান জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস উৎপাদন, বিপণন ও রফতানিকরণ নীতি পরিত্যাগ না করবে, ততদিন পাকিস্তানের সামগ্রিক অবস্থা খারাপ থেকে আরও খারাপ হবেÑ এটা পাকিস্তানীদের বুঝতে হবে। এই সন্ত্রাসের আগুনে কিভাবে কাশ্মীরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জনজীবনÑ সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে তা কাশ্মীরীদেরও বুঝতে হবে।

ভারত এবং যে সব দেশ জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়ছে তাদেরও বুঝতে হবে এই সন্ত্রাস মাফিয়াদের মতো নিছক সন্ত্রাস নয়। এর আদর্শিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি এবং আন্তর্জাতিক বলয় অত্যন্ত শক্তিশালী। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে এই সন্ত্রাস দমন করা যেতে পারে বটেÑ এই সন্ত্রাস নির্মূল করতে হলে আরও শক্তিশালী আদর্শিক ও রাজনৈতিক হাতিয়ার প্রয়োজন এবং সেটি হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ মানবিকতার দর্শন, যার উৎপত্তি হয়েছে এই ভারতবর্ষে।

কাশ্মীরে পাকিস্তান থেকে রফতানি করা জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসের উন্মাদনাবোধ সেখানকার যুব সমাজকে যেভাবে প্রভাবিত করেছে, ওহাবিবাদ ও মওদুদীবাদ যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তাত্ত্বিক লড়াইকে খাটো করে দেখলে চলবে না। মানবতার বোধ আস্তিকতা ও নাস্তিকতা দুইয়ের ভেতরই আছে। কাশ্মীরের মানুষদের আদি ধর্ম ছিল হিন্দু বা সনাতন ধর্ম। এরপর বৌদ্ধ ধর্ম এসেছে। বৌদ্ধ ধর্মের পাশাপাশি জৈন ধর্মও কাশ্মীরে এসেছে ভারতের মূল খন্ড থেকে। ইসলাম এসেছে মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে। শিখধর্ম এসেছে প্রতিবেশী রাজ্য পাঞ্জাব থেকে। খ্রিস্টধর্ম এসেছে পশ্চিম গোলার্ধ থেকে ভারতবর্ষ হয়ে। বহিরাগত কিংবা স্থানীয় শাসকরা কখনও ধর্মের নামে বৈষম্য, বিরোধ ও সংঘাতের চেষ্টা করেছে বটে, ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আগে এই বিরোধ এত প্রকট ছিল না। গোটা ভারতবর্ষে কাশ্মীরী জাতি ও সমাজ কতটা অসাম্প্রদায়িক ছিল তার কিছু তথ্য আগে উল্লেখ করেছি।

কাশ্মীরের হিন্দু ধর্মের উদারনৈতিকতা যেমন প্রচার করেছেন শৈব সন্ন্যাসিনী লালেশ্বরী (১৩২০-১৩৯২ খ্রিঃ), তাঁর ভাবশিষ্য সুফীসাধক হযরত নূরউদ্দিন ওয়ালি (১৩৭৭-১৪৪০ খ্রিঃ) প্রচার করেছেন শান্তি ও সম্প্রীতির ইসলাম, যার জীবিতকালে কাশ্মীরের ৭০% মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। নূরউদ্দিন ওয়ালির ধর্ম-মা লালেশ্বরীর বুকের দুধের ঋণ শোধ করার জন্য তার মুসলিম ভক্ত ও অনুগামীরা প্রতিজ্ঞা করেছিল তারা কখনও গরুর মাংস খাবে না, কারণ গরুকে তাদের হিন্দু ভাইবোনেরা দেবতা মনে করে। তখন কাশ্মীরের শাসক ছিলেন সুলতান গিয়াসউদ্দিন জয়নুল আবেদিন (রাজত্বকাল ১৪১৮-১৪৭০ খ্রিঃ), যার সুশাসনের কথা ‘রাজতরঙ্গিণী’র দ্বিতীয় ভাগে জনরাজা এবং তৃতীয় ভাগে তার শিষ্য শ্রীভর উল্লেখ করেছেন। কাশ্মীরের মানুষ তাকে ‘বুধ শাহ’ বা মহান রাজা হিসেবে সম্বোধন করত। তার রাজত্বকালে জনসংখ্যার ৭০% মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও হিন্দু ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য সুলতান ফরমান জারি করে গোহত্যা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। নিজে সংস্কৃত ও তিব্বতী ভাষা শিখেছেন, কলহনের ‘রাজতরঙ্গিণী’ ও ‘মহাভারত’ তার নির্দেশেই ফার্সি ভাষায় অনূদিত হয়ে ইউরোপে গিয়েছে। তার পিতার আমলে যে সব হিন্দু জিজিয়া করের প্রতিবাদে কাশ্মীর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তাদের তিনি আবার ফিরিয়ে এনেছেন, জিজিয়া কর বাতিল করে এবং হিন্দু ব্রাহ্মণ প-িতদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রচলন করে।

কাশ্মীরে হিন্দু ডোগরা রাজাদের শতাধিক বছরের শাসনকালে (১৮৪৬-১৯৪৭ খ্রিঃ) জম্মু ও কাশ্মীরে বহু মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন মন্দির নির্মাণ এবং রাজমন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মহারাজা গুলাব সিং ক্ষমতায় এসে সবার জন্য কর ধার্য করেছিলেন। ততদিনে কাশ্মীরে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭%-এ দাঁড়িয়েছিল। কাশ্মীর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিয়াজ পাঞ্জাবী বলেছেন, মহারাজাদের আমলে কখনও মুসলমান প্রজারা এই কর প্রদানে আপত্তি করেনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য।

কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির বহু উদাহরণ আছে যা দক্ষিণ এশিয়াসহ সাম্প্রদায়িক সমস্যাসঙ্কুল যে কোন দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। অথচ এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে কাশ্মীরে পাকিস্তানের জিহাদ রফতানি এবং কাশ্মীরী মুসলিম সমাজের মৌলবাদীকরণ ও পাকিস্তানীকরণ নীতি। কাশ্মীরে হিন্দু পণ্ডিতদের হত্যা, নির্যাতন এবং তাদের হাজার বছরের ভিটেমাটি ত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য নিঃসন্দেহে পাকিস্তান থেকে আসা মুজাহিদীনরা দায়ী, যাদের দাপট ১৯৮৯ সালে এতটাই বেড়েছিল শ্রীনগরের সাধারণ মানুষের অনেকে তখন মনে করেছেন কাশ্মীর পাকিস্তানের হয়ে গেছে।

সে সময় দিল্লীতে ক্ষমতায় ছিলেন ভিপি সিং। বিজেপির পরামর্শে তিনি জগমোহন মালহোত্রাকে দ্বিতীয় দফায় কাশ্মীরের গবর্নর নিযুক্ত করে পাঠিয়েছিলেন ১৯৯০-এর ১৯ জানুয়ারি, যখন গোটা কাশ্মীর উপত্যকাকে হিন্দুশূন্য করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা, যাদের কেউ কেউ এখন ‘অল পার্টি হুরিয়াত কনফারেন্স’-এর নেতা। জগমোহন জঙ্গী সন্ত্রাস দমনে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হিন্দু পণ্ডিতদের নেতাদের বলেছেন, তিনি তাদের নিরাপত্তা দিতে পারবেন না। তারা যদি কাশ্মীর থেকে চলে যেতে চান জম্মুতে তাদের জন্য শরণার্থী শিবির নির্মাণ করা হয়েছে। যারা কাশ্মীরে সরকারী চাকরি করছেন তারা জম্মুতে একই বেতন পাবেন। পুলিশ পাহারায় সরকারী পরিবহনে হিন্দু পণ্ডিতরা প্রাণ বাঁচাবার জন্য জম্মু এসেছিলেন।

জগমোহন ঘোষণা দিয়েছিলেন- ‘কাশ্মীর সমস্যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে বুলেট। জঙ্গীরা সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত উপত্যকায় শান্তি ফিরে আসবে না।’ তিনি ভেবেছিলেন সামরিক বাহিনীকে দিয়ে শক্তি প্রয়োগ করে কাশ্মীরকে জঙ্গীমুক্ত করে পণ্ডিতদের আবার ফেরত আনবেন। বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টোটি। কাশ্মীরের সিভিল প্রশাসনে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশির ভাগ শিক্ষক ছিলেন হিন্দু পণ্ডিত। তারা কাশ্মীর ছেড়ে চলে আসার পর এই উপত্যকায় জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস কমেনি, বরং বেড়েছে। প্রশাসন ও শিক্ষাব্যবস্থার মৌলবাদীকরণ ও পাকিস্তানীকরণ সহজ হয়েছে। পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থে হাজার হাজার মাদ্রাসা ও মসজিদ স্থাপন করা হয়েছে ওহাবিবাদ প্রচার এবং জঙ্গী রিক্রুট করার জন্য। আজকের বিজেপি যখন কাশ্মীর সম্পর্কে কংগ্রেসের ‘ঐতিহাসিক ভুলে’র সমালোচনা করে, তাদের মনে রাখা দরকার জঙ্গীদের দাবিতে কাশ্মীর হিন্দুশূন্য করার দায় তাদেরও নিতে হবে। ধর্মের নামে রাজ্যের বিভাজন যদি আমরা মেনে নিইÑ জিন্নাহর সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার আর থাকে না।

জম্মুতে দুদিন শরণার্থী শিবিরে কাটানো আমার জন্য ছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো। ঠিক যেন ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সল্টলেক, বশিরহাট, বারাসাত, বনগাঁ আর বহরমপুরের সেই সব শরণার্থী শিবির, সেই সব দুঃসহ অভিজ্ঞতা! বাংলাদেশের মানুষের সৌভাগ্য সেই দুঃসহ জীবন নয় মাসের বেশি কাটাতে হয়নি। জম্মুর হতভাগ্য শরণার্থীরা গত তিরিশ বছর ধরে এই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

পুরখু ক্যাম্পের ভূষণলাল ও চুনীলাল আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাদের এক প্রতিবেশীর কাছে, যার ঘরে দুই বয়স্থা কন্যা। বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেছে, অর্থাভাবে বিয়ে দিতে পারেননি। অসহায় দৃষ্টি মেলে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল মেয়ে দুটি। মুট্ঠি ক্যাম্পের বৃদ্ধা তার অভিজ্ঞতার কথা বলা শেষ করে আমাকে প্রশ্ন করেছিলÑ ‘বল, আমরা কোথায় যাব? আর কতদিন এ দুর্ভোগ পোহাব?’

জম্মুর এই ছিন্নমূল মানুষদের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে বিবেকসম্পন্ন পাকিস্তানের নাগরিকদের, যাদের দেয়া করের অর্থে পাকিস্তান মদদ জোগাচ্ছে কাশ্মীর থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত যাবতীয় সন্ত্রাসী ও জঙ্গী তৎপরতাকে।

মৃত্যু তো দুদিকেই হচ্ছে। জঙ্গীদের গুলিতে যেমন সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে জঙ্গীরাও মারা যাচ্ছে। ‘গ্রেটার কাশ্মীর’-এর সাংবাদিক বন্ধু এহসান চিশতি আমাকে অনেক ছবি দিয়েছে। যা দিয়েছে, দেখিয়েছে তার দশগুণ। ছবি দেখতে গিয়ে একসময় দেখি পর পর শুধু লাশের ছবি। দেখে বোঝার উপায় নেই এ লাশ জঙ্গীদের না শান্তিপ্রিয় মানুষের, হিন্দুর না মুসলমানের। এহসানকে প্রশ্ন করেছিলাম, কী করে বুঝব কোন্টা কার লাশ। সব লাশই তো একরকম দেখতে।’ এহসান জবাব দিয়েছে, ‘ক্যাপশন দেখে বুঝতে হবে।’

জঙ্গীদের শত শত সন্ত্রাসের ঘটনা জানার পরও খারাপ লেগেছে যখন দেখেছি সারি সারি তরুণের লাশ মাটিতে পড়ে আছে, ক্যাপশনে যাদের জঙ্গী বলা হয়েছে। এদের কারও বাবা-মা থাকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলে, কারও পরিজন থাকে পাকিস্তানে বা অন্য কোন দেশে। এই সব লাশের পিতামাতা, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা ও আপনজনরা কখনও জানবে না কোথায় কিভাবে হারিয়ে গেছে তাদের প্রিয় মানুষটি।

(ক্রমশ.)

নির্বাচিত সংবাদ