২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাইবার সিকিউরিটির ওপর পিএইচডি করতে যাওয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থী মো. ফিরোজ-উল আমিন রিয়েলের (২৯) আর বিয়ে করা হলো না। বিয়ের জন্য দেশে ফিরার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট ব্যাটন রুজে তিনি সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন। ফলে তার বিয়ের আনন্দ উৎসবের পরিবর্তে নিহতের গাজীপুরের বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম। রিয়েলের লাশের জন্য অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। নিহতের বাড়িতে ভীড় করছেন তার স্বজন ও সহপাঠীরাসহ প্রতিবেশীরা। সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর ইটাহাটা এলাকায় নিহত রিয়েলের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য।

নিহতের ভগ্নিপতি মোঃ তালিম হোসেন ও স্বজনরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্কলারশীপ নিয়ে লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাইবার সিকিউরিটির ওপর পিএইচডি করতে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে যান মেধাবী ছাত্র ফিরোজ-উল আমিন রিয়েল। তিনি গাজীপুর মহানগরীর ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজ সংলগ্ন ইটাহাটা এলাকার মরহুম রুহুল আমিনের ছেলে। দুই ভাই বোনের মধ্যে রিয়েল ছিল ছোট। রিয়েল যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণার পাশাপাশি স্থানীয় ইস্ট ব্যাটন রুজে এক প্রবাসী বাংলাদেশীর মালিকানাধীন মি. লাকিস ভ্যালারো গ্যাস স্টেশনে খন্ডকালীন চাকুরি করতেন।

স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক বন্দুকধারী ওই গ্যাস স্টেশনে গিয়ে রিয়েলকে গুলি করে ক্যাশ থেকে টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এতে গুলিবিদ্ধ রিয়েল ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহতের চাচা অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি কাটাতে আগামী ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে ফিরার কথা ছিল রিয়েলের। মায়ের আশা ছিল এবার ছেলে দেশে এলে মহাধুমধামের সঙ্গে রিয়েলকে বিয়ে করিয়ে তিনি ঘরে পুত্রবধূ আনবেন। ছেলেকে বিয়ে করিয়ে হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছিলেন রিয়েলের বিধবা মা ফেরদৌসী বেগম। এজন্য পারিবারিকভাবে রিয়েলকে বিয়ে করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। রিয়েলের জন্য কণে নির্বাচন করে বিয়ের কথা পাকাপাকি করেন বর-কণে পক্ষ।

বিয়ে অনুষ্ঠাণের চুড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করা না হলেও প্রাথমিকভাবে আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বিয়ের সময় ঠিক করা হয়। রিয়েলের পরিবার তার বিয়ে অনুষ্ঠাণের জন্য বাড়ির পার্শ্ববর্তী তেলীপাড়া এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারকে নির্বাচন করে প্রস্তুতি নিতে থাকে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছিল রিয়েলের দেশে ফিরার উপর। রিয়েল দেশে এলেই সবকিছুই চুড়ান্ত করা হতো। এজন্য তার স্বজনরা অধীর আগ্রহের সঙ্গে রিয়েলের আগমনের অপেক্ষা করছিল। কিন্তু ঘাতকের বুলেট মুহুর্তেই সেসব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুড়মার করে দেয়। বিয়ের আনন্দ উৎসবের পরিবর্তে এখন রিয়েলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা এখন রিয়েলের লাশের জন্য অপেক্ষা করছে।

নিহত রিয়েলের চাচি জানান,একবছর আগে নিহত রিয়েলের বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়ি এসে মাকে শান্তনা দিয়ে আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান রিয়েল। মায়ের বড় আশা ছিল ছেলে এবার বাড়ি আসলে বিয়ে দিয়ে ছেলে বৌ ঘরে আনবেন। কিন্তু মায়ের সে আশা আর পুরণ হলো না। এলাকায় খুব শান্তশিষ্ট প্রকৃতির ছিল রিয়েল। কারো সঙ্গে কোন মনমালিন্যও ছিলনা। রিয়েল ধার্মিক। সে নিয়মিত নামাজ পরতো ও রোজা রাখতো।

নিহতের ভগ্নিপতি মোঃ তালিম হোসেন ও স্বজনরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্কলারশীপ নিয়ে লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাইবার সিকিউরিটির ওপর পিএইচডি করতে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে যান মেধাবী ছাত্র ফিরোজ-উল আমিন রিয়েল। তার বাড়ি গাজীপুর মহানগরীর ইটাহাটা এলাকায়। যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণার পাশাপাশি তিনি ইস্ট ব্যাটন রুজে এক প্রবাসী বাংলাদেশীর মালিকানাধীন মি. লাকিস ভ্যালারো গ্যাস স্টেশনে খন্ডকালীন চাকুরি করতেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক বন্দুকধারী ওই গ্যাস স্টেশনে গিয়ে রিয়েলকে গুলি করে ক্যাশ থেকে টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এতে গুলিবিদ্ধ রিয়েল ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সোমবার সকালে গাজীপুরে নিহতের বাড়ি গিয়ে জানা যায়, মেধাবী ছাত্র রিয়েল নিহত হওয়ার সংবাদ গাজীপুরের বাড়িতে পৌছলে শুরু হয় শোকের মাতম। এসময় নিহত রিয়েলের মা ও একমাত্র বোন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা বিলাপ করে কাঁদতে থাকেন। পুত্র শোকে নিহতের মা ফেরদৌসী বেগম বারবার মূর্ছা যেতে থাকেন। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। স্বজনরা তাদের সান্তনা দেওয়া চেষ্টা করে। কিন্তু সান্তনা দেওয়ার ভাষাও যেন তারা হারিয়ে ফেলেন। নিহত রিয়েলের মা-বোনসহ স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এদিকে রিয়েল নিহত হওয়ার খবর পেয়ে তার সহপাঠি, স্বজন ও এলাকাবাসি নিহতের বাড়িতে ভীড় জমায়। এসময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

নিহতের সহপাঠি ও স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই রিয়েল ছিল অত্যন্ত মেধাবী। সে গাজীপুর জেলা শহরের রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি, ঢাকার সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স শেষ করেন। পরে তিনি স্কলারশীপ নিয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাইবার সিকিউরিটির ওপর পিএইচডি করতে যান।

নিহতের মা ফেরদৌসী বেগম দাবী করে বলেন, সন্ত্রাসীর গুলিতে আমার কলিজার টুকরো এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। আমি চাই কোন ঝামেলা ছাড়া তার লাশ দ্রুত দেশে এনে সমাহিত করতে। এজন্য তিনি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।