২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএমডব্লিউ গাড়ি বাংলাদেশে সংযোজন : অর্থমন্ত্রী

বিএমডব্লিউ গাড়ি বাংলাদেশে সংযোজন : অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ বা মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি বাংলাদেশে সংযোজন (এ্যাসেম্বল) করার প্রস্তাব দিয়েছে জার্মানি। গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ গ্রুপ মার্সিডিজ বেঞ্জের কিছু পার্টস এদেশে তৈরি করা হবে, কিছু পার্টস আমদানি হবে বিদেশ থেকে। পরবর্তীতে সংযোজন বা এ্যাসেম্বল করে তৈরি হবে বিএমডব্লিউ গাড়ি।

সোমবার শেরে বাংলা নগরের নিজ কার্যালয়ে জার্মান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, গাড়ি সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করবে প্রতিনিধিদলটি। শুধু তাই নয়, তারা প্রধানমন্ত্রীকে আগামী মার্চ মাসে জার্মান সফরে যাওয়ার প্রস্তাব করবেন। সেখানে এ বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ডের মতো বাংলাদেশেও বিএমডব্লিউ অথবা মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের গাড়ির এ্যাসেম্বলি করতে চাইছে জার্মানি। এতে করে দেশের বাইরে থেকে এসব ব্র্যান্ডের গাড়ি আমদানি করা লাগবে না। কম টাকায় বাংলাদেশেই এসব গাড়ি কেনা যাবে।

তিনি বলেন, জার্মানদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তারা এ মুহূর্তে আমাদের প্রস্তাব দিচ্ছেন যে, তারা বড় আকারে আমাদের পাট শিল্পকে ব্যবহার করতে চান। পাট শিল্প ম্যানেজ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তাই এটা অত্যন্ত উত্তম প্রস্তাব। আমরা বলেছি, আপনারা আসেন এবং ব্যবসা করেন। আর মার্সিডিজের ভেতরে ব্যবহৃত অনেক কিছুই পাটের পণ্য। জার্মানির যত গাড়ি আছে, সব গাড়ির ভেতরে পাটের অনেক জিনিস আছে। জার্মানির বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ বাজার-সুবিধার (জিএসপি) বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের বলেছি, বাংলাদেশের জিএসপি যেন বন্ধ হয়ে না যায়। তারা এ বিষয়ে সর্বতভাবে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজ মডেলের গাড়ি বিক্রি এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের মধ্যে বেশ বেড়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র পরিবেশক এক্সিকিউটিভ মোটরস ২০১৬ সালে ৬০টি গাড়ি বিক্রি করেছে, যার একেকটির দাম প্রায় আড়াই কোটি টাকা। দেশের মানুষের আয় বেড়েছে, যা গাড়ি কেনাবেচার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএমডব্লিউ চার বছর আগেও এদেশে গাড়ি বেচাকেনা নিয়ে তেমন আশ্বস্ত ছিল না। এখন গাড়ি বিক্রিতে এশিয়ায় শীর্ষ দশের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম। এই ব্র্যান্ডেরে একেকটি গাড়ির দাম আগে ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ছিল।

এখন তা ৭০ লাখ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালে সারা বিশ্বে গাড়ি বিক্রি করে বিএমডব্লিউর আয় হয়েছিল ৯ হাজার ৪০০ কোটি ইউরো, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার সমান।