০৮ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ প্রতিরোধে চাই সামাজিক উদ্যোগ

  • মতিলাল দেব রায়

এই মুহূর্তে ডেঙ্গু একটি সামাজিক স্বাস্থ্য সমস্যা। ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবহনকারী এডিস মশা প্রজননের উপযুক্ত ক্ষেত্র এই সমাজেরই সৃষ্টি। কারণ অপরিষ্কার রাস্তাঘাট, পরিত্যক্ত জলাশয়, ময়লা-আবর্জনা, জমে থাকা পানি, কচুরিপানায় ভর্তি সকল পুকুর ডোবা নালা যা এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র। দেশের গ্রাম এবং শহরের একই চিত্র। আপনার বাড়ির আশপাশে কচুরিপানা ভর্তি পুকুর, আবর্জনার স্তূপসহ বাড়ির সকল ফুলের টব, ঝোপজঙ্গল, ডোবা ইত্যাদি যদি নিয়মিত পরিষ্কার রাখেন তা হলে মশার বংশ বিস্তার হবে না, পরিণামে ডেঙ্গু হবে না। সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় দেশের ৪৯৩টি উপজেলা ৬৪টি জেলা শহরসহ রাজধানী ঢাকা শহর ও দেশের সকল গ্রামের মশানিধন করা যদি না সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ শুধু চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারবে এবং সাময়িক ডেঙ্গু আক্রান্ত এলাকাতে মশা মারার ওষুধ দিয়ে মশা নির্মূল করতে পারবে। এক সময় ম্যালেরিয়া নির্মূল অভিযান নামে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি কর্মসূচী ছিল। দীর্ঘদিন এ কর্মসূচী ব্যাপকভাবে দেশব্যাপী পরিচালিত হয়। কিন্তু আদৌ কি মশানিধন হয়েছে। কারণ ওই কর্মসূচীতে জনসাধারণের অংশগ্রহণ সেভাবে ছিল না। তাই নিজের এবং সমাজের স্বার্থে সবাইকে মশা নিধনের ব্যবস্থা করতে হবে, সরকারের দিকে না চেয়ে আপনার বাড়ি এবং প্রতিবেশীর বাড়ি পরিষ্কার করুন এবং মশা ধ্বংস করার যাবতীয় ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের সাহায্য নিন।

বিশ্বে প্রায় হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে। তিন ধরনের মশা মানুষের দেহে রোগ ছড়ায়। এর মধ্যে ভয়াবহ এনফিলিস মশা, কেউলেক্স মশা, এডিস মশা। এনফিলিস মশা শুধু ম্যালেরিয়া জীবাণু বহন করে। কেউলেক্স মশা ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস, জাপানীজ এনসেফালিটিস ভাইরাস, সেন্ট লুই এনসেফালিটিস ভাইরাস এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফাইলেরিয়াসিস ও এভিয়ান ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহন করে। তৃতীয় প্রজাতির মশা যা এডিস টাইগার মসকিউটো নামে পরিচিত।

ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ অন্য জ্বরের মতো বিধায় অনেকের মধ্যে ডেঙ্গু হয়েছে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। অতিরিক্ত জ্বর সঙ্গে যদি বমি ভাব, মাথা ব্যথা, চোখ ব্যথা, মাসল পেইন, গিটে ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয় ধরে নিতে হবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী, কোন অবস্থায় অবহেলা করা যাবে না।

মশার কামড় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখাই হচ্ছে এই রোগের প্রতিরোধক। তাছাড়া বর্তমানে পৃথিবীর ১১টি দেশেই আংশিক কার্যকরী উবহমাধীরধ নামক ডেঙ্গু ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। দেশগুলো হচ্ছেÑ ফিলিপিন্স, এলসালভেডর, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিল, পেরাগুয়ে, পেরু, থাইল্যান্ড, গুয়েতেমালা, কোস্টারিকা। যারা পূর্বে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কেবল তারাই এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। এদের মধ্যে যাদের বয়স ৯-৪৫ বছর কেবল তারাই এই ভ্যাকসিন নেয়ার যোগ্য।

মশা যাতে কামড়াতে না পারে সেই জন্য শরীরের সকল অংশ কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলতে হবে, হাতে-পায়ে এক ধরনের মলম পাওয়া যায় যা হাতে পায়ে লাগিয়ে দিলে এই স্থানে মশা আর বসবে না। রাতে ঘুমাবার সময় মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমাতে হবে। সরকারের মশা মারার অভিযানের সমর্থনে রাস্তায় নেমে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করে দিলেই ডেঙ্গু থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশের শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের আবর্জনা, ঝোপঝাড়, বদ্ধ জলাশয়, পরিত্যক্ত পুকুর ইত্যাদি জায়গা মশার উপযুক্ত বাসস্থান পরিষ্কার করার জন্য দেশের মানুষ যদি স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে এগিয়ে আসে তাহলেই এডিস মশা নির্মূল করা সম্ভব হবে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই ডেঙ্গু থেকে আপনি আমি সকলে রক্ষা পাব এবং দেশের পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে।

লেখক : আমেরিকাপ্রবাসী সমাজকর্মী