১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাশ্মীর কোন্ পথে

  • শাহরিয়ার কবির

॥ শেষ পর্ব ॥

জিন্নাহর সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্ব সম্পর্কে বাঙালীদের মোহভঙ্গ হতে পাকিস্তান সৃষ্টির পর ছয় মাসও লাগেনি। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মাটিতে এই দ্বিজাতিতত্ত্বের কবর রচিত হলেও পাকিস্তান এখনও তা আঁকড়ে ধরে আরও সর্বনাশ ডেকে আনছে। কাশ্মীর সম্পর্কে পাকিস্তানের দাবি যতভাবেই অযৌক্তিক প্রমাণ করা হোক না কেনÑ কখনও এই দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রটির বোধোদয় হবে না।

কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এবং পাকিস্তানের আত্মঘাতী কাশ্মীর নীতি কীভাবে উপমহাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষতি করেছে এ নিয়ে ভারতের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম নেতাদের ভেতর কোন দ্বিমত নেই। কাশ্মীর সম্পর্কে পাকিস্তানের অবিমৃষ্যকারিতার উদাহরণ দিতে গিয়ে মাওলানা ওয়াহিদউদ্দিন বলেছিলেন, ’৪৭-এর পর ভারত যখন জুনাগড়ে সৈন্য পাঠায় তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। আলোচনার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ও চৌধুরী মোহম্মদ আলী, যিনি পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেনÑ দিল্লী এসেছিলেন। আলোচনায় ভারতের পক্ষে ছিলেন জওহরলাল নেহরু ও সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল।

আলোচনার টেবিলে লিয়াকত আলী খান বার বার দেশীয় রাজ্য জুনাগড়ের কথা বলে ভারতের সমালোচনা করছিলেন। নবাব মুসলমান হলেও জুনাগড়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী ছিল হিন্দু। জুনাগড়ের নবাব চেয়েছেন পাকিস্তানে যোগ দিতে, অধিকাংশ অধিবাসীরা চেয়েছেন ভারতে যোগ দিতে। প্যাটেল জানতে চেয়েছিলেন হায়দ্রাবাদ ও কাশ্মীর সম্পর্কে পাকিস্তানের মনোভাব কী। লিয়াকত আলী খান তারপরও জুনাগড় জুনাগড় করতে লাগলেন। বিরক্ত হয়ে প্যাটেল বলেছিলেন, ‘জুনাগড়ের কথা বাদ দিন। কাশ্মীর আর হায়দ্রাবাদের কথা বলুন।’ হায়দ্রাবাদের নিজাম তখন পাকিস্তানের প্ররোচনায় করাচীতে মিশন খুলে বসেছিলেন। সর্দার প্যাটেল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকে বলেছিলেন, ‘আপনারা হায়দ্রাবাদের ওপর দাবি ছেড়ে দিন, কাশ্মীর আপনাদের দিয়ে দেব।’ পাকিস্তান জুনাগড়, হায়দ্রাবাদ ও কাশ্মীরÑ কোনটার ওপর থেকে দাবি ছাড়তে রাজি ছিল না। যার ফলে আলোচনা ব্যর্থ হয়।

ভারতের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা উত্তর প্রদেশের আরিফ মোহাম্মদ খান। কংগ্রেস, জনতা দল, বিজেপিÑ সব আমলেই তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন দফতর সামলেছেন। রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভা থেকে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন মুসলমানদের পারিবারিক আইন সম্পর্কে মোল্লাদের কট্টর অবস্থানের প্রতি সরকারের নমনীয়তার কারণে। মুসলিম পারিবারিক আইনের সংস্কার সম্পর্কে তার একাধিক বই আছে। ২০০৭ সালে তিনি বিজেপি ছেড়েছেন আরএসএস ও কর সেবকদের সাম্প্রদায়িক নীতির প্রতি দলের নতি স্বীকারের কারণে। দিল্লীতে একাধিকবার এই বিদগ্ধ রাজনীতিবিদের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে।

পাকিস্তানে সন্ত্রাস রফতানির নীতির পটভূমি সম্পর্কে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ১৯৭১-এর যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয় বরণের পর জেনারেল জিয়াউল হক কাকুলে পাকিস্তানের মিলিটারি একাডেমিতে এক ভাষণে বলেছিলেন, ভারতের বিরুদ্ধে প্রথাগত যুদ্ধে আমরা জয়ী হতে পারব না। এখন ভারতকে হাজারটা জখম দিতে হবে, যাতে ক্রমাগত রক্তপাতে দুর্বল হয়ে পড়ে। কাশ্মীরে জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস রফতানি করে ভারতকে ক্ষতবিক্ষত করার নীতি জিয়াউল হক নিয়েছিলেন, তালেবানদের জন্মের অনেক আগে।

আরিফ মোহাম্মদ খান আরও বলেছেন, ‘পাকিস্তান কখনও ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে না। যদি করে একদিন ওদের ভবিষ্যত প্রজন্ম এমন প্রশ্ন করতেই পারে- ভারতে তো পাকিস্তানের চেয়ে বেশি মুসলমান রয়েছে। দুটো দেশ যদি শান্তিতে থাকতে পারে তাহলে ১৯৪৭ সালে দেশটা ভাগ করার কী দরকার ছিল? পাকিস্তানের শাসকরা কখনও তাদের প্রতিষ্ঠাতাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেবে না। এ জন্যই আমি সব সময় বলেছি, পাকিস্তানের জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস কাশ্মীরের সরকার কখনও মোকাবেলা করতে পারবে না। এ কাজ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই করতে হবে।’

২০১৪ সালে বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণার আগেই সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন আরিফ মোহাম্মদ খান তিনটি কারণে। প্রথমত. সন্ত্রাস দমন, দ্বিতীয়ত. দুর্নীতি দমন এবং তৃতীয়ত. রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন। তিনি বলেছেন, কাশ্মীরের দাবি করা উচিৎ রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা নয়, রাজ্যের অধিক ক্ষমতা। আজ কাশ্মীর যদি রাজ্যের হাতে অধিকতর ক্ষমতার দাবি করে কাল অন্য সব রাজ্য কাশ্মীরের পাশে এসে দাঁড়াবে।

যারা ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে বলছেন, কাশ্মীরের ভাষা-সংস্কৃতি নামনিশানা থাকবে না, তাদের জানা দরকার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলে। বাঙালী যেমন পশ্চিমবঙ্গে তাদের বাঙালিত্ব বিসর্জন দেয়নি, তেমনি তামিল, তেলেগু, মারাঠী কিংবা নাগা, মিজো, মণিপুরীরা ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে।

ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতার ভবিষ্যত এবং কাশ্মীর সমস্যা সম্পর্কে ২০০০ সালে আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। বিজেপির এই শীর্ষ নেতার রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা সম্পর্কে বিরোধী শিবিরেও দ্বিমত নেই। বাজপেয়ী আমাকে বলেছিলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র। ভারতে বহু ধর্ম, বহু ভাষা, বহু জাতিসত্তার মানুষ আছে- সবাইকে নিয়েই ভারতবর্ষ। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি এই বহুত্ববাদকে একসূত্রে গেঁথে রেখেছে। ভারত কখনও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থেকে সরে যাবে না।

কাশ্মীর সম্পর্কে তার একটি উক্তি প্রায়শ উদ্ধৃত হয়- ‘কাশ্মীরীয়াৎ, জমহুরিয়াৎ অওর ইনসানিয়াৎ।’ কাশ্মীরীসত্তাকে বাজপেয়ী গণতন্ত্র ও মানবতার সমার্থক মনে করতেন।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কাশ্মীরী সঙ্গীতশিল্পী কৈলাশ মেহরার সঙ্গে জম্মুতে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে কাশ্মীরের যৌগিক (ঈড়সঢ়ড়ংরঃব) সংস্কৃতি নিয়ে। কৈলাশ মেহরা কাশ্মীরী ও ডোগরী ভাষাভাষীদের কাছে ‘মালিকা-এ গজল’ হিসেবে সুপরিচিত। তিনি কাশ্মীরী ও ডোগরী ছাড়াও উর্দু, ফার্সি, পাঞ্জাবী, পাহাড়ী, হিন্দী ভাষায় গান গেয়ে শুধু ভারতীয় নয়, পশ্চিমা শ্রোতাদেরও মুগ্ধ করেছেন। তিনি আমাকে লালেশ্বরীর ভজন শুনিয়েছেন, হাবা খাতুনের গজল শুনিয়েছেন, কাশ্মীরের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার গান শুনিয়ে বলেছেন- এসব মিলিয়েই আমাদের কাশ্মীরীয়াৎ। কৈলাশ মেহরা আমাকে বলেছেন, পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গী মৌলবাদীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের হাজার বছরের যৌগিক সংস্কৃতির কাশ্মীরীয়াৎ।

৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সুফল পেতে হলে কাশ্মীরীয়াৎকে বিসর্জন দেয়া যাবে না। শুধু কাশ্মীর নয়, গোটা উপমহাদেশে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস মোকাবেলা করতে হলে মুসলিম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ভেতর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ১৯৯০-এ কাশ্মীর ছাড়ার আগে গভর্ণর জগমোহন বলেছিলেন, ‘কাশ্মীরের প্রত্যেক মুসলমান আজ জঙ্গী হয়ে গেছে। তারা প্রত্যেকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায়। আমি শ্রীনগরের দূরদর্শনের কিছু অনুষ্ঠান ছেঁটে ফেলেছি কারণ ওখানে যারা কাজ করে তারা প্রত্যেকে জঙ্গী।...’ (কারেন্ট, মে ১৯৯০)

কাশ্মীরী মুসলমানদের সম্পর্কে বিজেপির সাবেক গবর্নরের এই পর্যবেক্ষণ সঠিক নয়। আমি কাশ্মীরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরেছি, রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী এমনকি জঙ্গীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। বেশি কথা বলেছি সাধারণ মানুষের সঙ্গে। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ সন্ত্রাস পছন্দ করে না। সন্ত্রাস দমনের নামে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাড়াবাড়িও তারা পছন্দ করেনি। জগমোহনের মতো সাম্প্রদায়িক মন্তব্যও তারা পছন্দ করবে না। যে কারণে দ্বিতীয়বার ছয় মাসের আগেই (২৬ মে ১৯৯০) জগমোহনকে কাশ্মীর থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

জগমোহনের পর কাশ্মীরের গবর্নর নিযুক্ত করা হয় গিরীশ সাকসেনাকে। তিন বছরের ভেতর তিনি কাশ্মীরের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে পেরেছিলেন কাশ্মীরের স্থানীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষকে আস্থায় আনতে পারার কারণে। জঙ্গী মোকাবেলায় সামরিক বাহিনীর চেয়ে তিনি পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর বেশি নির্ভর করেছিলেন। তার সময়ে বহু পথভ্রষ্ট যুবক জঙ্গীবাদ ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিল। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল তার মৃত্যুর পর জাতীয় পর্যায়ে বিজেপি ও কংগ্রেস ছাড়াও কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্সসহ বিভিন্ন দল গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ড. ফারুখ আবদুল্লাহ বলেছিলেন, কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টাকে আমরা হারিয়েছি। তার পুত্র প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, আমার রাজনৈতিক জীবনের সূচনাপর্বের চলার পথে সব সময় তিনি আমাকে সহযোগিতা করেছেন।

কাশ্মীর সমস্যা সম্পর্কে করণ সিং ১৯৯৯ সালে আমাকে বলেছিলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আলোচনার ভেতর থেকে সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের ভেতর তিনি ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পক্ষে তার অভিমত ব্যক্ত করে এও বলেছেন, ফারুখ আবদুল্লাহ আর মেহবুবা মুফতিদের যেভাবে দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে এটা ঠিক নয়। শেখ আবদুল্লাহর সঙ্গে কাশ্মীরের শেষ মহারাজা হরি সিংয়ের সম্পর্ক তিক্ত হলেও তাঁর পুত্র ড. ফারুখ আবদুল্লাহর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যথেষ্ট হৃদ্যতাপূর্ণ ছিল।

কাশ্মীরে শেখ আবদুল্লাহ এবং তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারত্বের পাশাপাশি পারিবারিক উত্তরাধিকারত্ব উপেক্ষা করা যাবে না। এ বছর (২০১৯) সারা ভারতে বিজেপির ভূমিধস বিজয় কাশ্মীরে ফারুখ আবদুল্লাহর দুর্গে আঁচড় কাটতে পারেনি। তিনি রেকর্ড পরিমাণ ভোটে জয়ী হয়ে লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংবিধানের ৩৭০ ধারার প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে নিজের জীবন বিসর্জনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেও ফারুখ আবদুল্লাহ জনসাধারণকে শান্ত থাকতে বলেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে মেহবুবা মুফতি ও কাশ্মীরের অন্য নেতাদের পাশে নিয়ে তিনি কাশ্মীরের জনগণকে বলেছেন, ‘আপনারা এমন কোনও কাজ করবেন না, যাতে কাশ্মীরে শান্তির সম্ভাবনা তিরোহিত হয়।’ কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হচ্ছে- অতীতের অপশাসনের ক্ষত নিরাময়ের পাশাপাশি রাজ্যের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও হতাশা দূর করে দ্রুত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোডম্যাপ ঘোষণা করা।

১৯৯৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত আট বার কাশ্মীর সফর করতে গিয়ে যখনই সুযোগ হয়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাছে জানতে চেয়েছি- আপনারা কী চান, স্বাধীনতা না শান্তি? কাশ্মীরের আমজনতা শান্তির পক্ষে বলেছেন। গত ৩০ বছরে জঙ্গী মৌলবাদীরা যেভাবে স্বাধীনতার দাবি করছে- কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কাছে স্বাধীনতা এখন সন্ত্রাসের সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে- যা তাদের জীবন ও জীবিকা বার বার বিপর্যস্ত করেছে। কাশ্মীরের মানুষদের সন্ত্রাস থেকে মুক্ত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও অবিশ্বাস থেকেও মুক্ত করতে হবে, যা হবে কাশ্মীরের শান্তি ও সম্প্রীতির পুনরুজ্জীবন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত।