১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরাসরি আলোচনার ডাক

  • তালেবানদের আলোচনার আহ্বান জানালেন আশরাফ গনি

তালেবানকে সহিংসতা বন্ধ করে আফগান সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। গ্রুপটির সঙ্গে খসড়া শান্তি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠক বাতিল ঘোষণা করার পর গনি রবিবার তিনি এই আহ্বান জানান। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এদিন বলেছেন, আফগান্তিানে শান্তি আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে এবং আফগান সেনাবাহিনীর সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখে তালেবান জঙ্গীদের চাপে রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি ও রয়টার্স।

কাবুলে বৃহস্পতিবার হামলা চালিয়ে মার্কিন সেনাসহ ১২ জনকে হত্যার পর শনিবার তালেবানের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবেই পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকটি বাতিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে গনির কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘তালেবান যখন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে তখনই শান্তি আসবে।’ শনিবার ট্রাম্প হঠাৎ করেই মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডের প্রেসিডেন্ট কম্পাউন্ডে তালেবানের ‘মুখ্য নেতাদের’ সঙ্গে গোপন বৈঠক করার পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দেন। গনির সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা করেছিলেন ট্রাম্প।

কিন্তু তালেবান বৃহস্পতিবার কাবুলে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করার পর ট্রাম্প আলোচনার পরিকল্পনা বাতিল করেন। ট্রাম্পের টুইটে তালেবানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তিনি কেবল এ পর্যায়ে আলোচনা বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছে এক কর্মকর্তা। তালেবান সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির ভেঙ্গে হামলা জোরদার করেছে। তালেবান নেতাদের ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা চলমান আলোচনার সব বিষয় নিয়ে একটি বিবৃতি দেয়ার আগে বৈঠক করবেন। দেশটিতে ১৮ বছরের যুদ্ধাবসানে একটি পূর্ণ শারিক চুক্তি নির্ভর করছে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের নেতাদের সঙ্গে আলোচনাসহ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিসহ অন্যান্য ইস্যুতে আরেকটি চুক্তি হওয়ার ওপর। কিন্তু তালেবান এ পর্যন্ত আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে। তারা আফগান সরকারকে অবৈধ এক পুতুল প্রশাসন বলেই গণ্য করে। পম্পেও জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত জালমায় খালিলজাদকে ওয়াশিংটনে ডেকে পাঠান হয়েছে এদিকে রবিবারই তালেবান জানিয়েছে, তালেবান যখন যুদ্ধ শেষ করার চূড়ান্ত পথে হাঁটছে, তখন ট্রাম্পের এই শান্তি আলোচনা বাতিলের সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানে অনেক মার্কিনীর প্রাণ বিনাশের কারণ হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি আলোচনা বাতিলের ঘোষণার পর রবিবার তালেবান এ ঘোষণা দেয়। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসের ওপর আঘাত আসতে পারে। শান্তি আলোচনাবিরোধী পক্ষগুলো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার জন্য যা করতে বলা হয় আমরা সেটি করব। আমাদের দেশে যতদিন বিদেশী সৈন্যরা থাকবে ততদিন আমাদের শান্তি-স্বস্তি কিছুই থাকবে না। আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব।’ বুধবার নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে তালেবান হামলার ১৮ বছর পূর্ণ হবে। এদিন তালেবানের বিমান হামলায় অন্তত তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। ২০০১ সালের যে কোন সময়ের চেয়ে তালেবান বর্তমানে ওই অঞ্চলটির অধিকাংশ জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

এদিকে মার্কিন কূটনীতিকরা মাসের পর মাস তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা করেছে। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহরের বিপরীতে তালেবান সদস্যদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দিতে হবে বলে তালেবান জোর দাবি জানিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান কূটনীতিকরা যে শান্তি চুক্তির খসড়া করেছিল, সেটি বাস্তবায়ন হলে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ইতি টেনে মার্কিন সৈন্যদের নিজ দেশে পাঠানো লাগত যুক্তরাষ্ট্রকে। খসড়া অনুযায়ী, আগামী মাসের মধ্যেই কাবুল হতে ৫ হাজার মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের বিনিময়ে তালেবান জঙ্গীরা যুক্তরাষ্ট্র এবং তার জোট বাহিনীর ওপর কোন ধরনের হামলা চালাবে না। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট এক হিসাবে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৫৮ হাজার সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া ৪২ হাজার যোদ্ধা মারা গেছে।