২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শতাধিক বছরেও মেলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীরটা। শরীরের চামড়া কুচকে গেছে। হাঁটার শক্তি নেই। তারপরও বেঁচে থাকার তাগিদে খাবারের সন্ধানে প্রতিদিনই বাড়ি থেকে বের হতে হয়। তাকে রাস্তায় দেখলে এলাকার পরিচিত লোকেরা কিছু পয়সা দেন। তাতেই চলেন ১০৪ বছরের সখিনা বিবি।

চার সন্তানের জননী সখিনার বাড়ি মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ি গ্রামে। স্বামী আফেল উদ্দিন মারা গেছেন ১৯৭৩ সালে। তারপর থেকে মানুষের বাড়িতে কাজ করে পেটের ভাত যোগাত সখিনা। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতা শেষ হয় তার। তারপর থেকে এলাকার মানুষের কাছে চেয়েচিন্তে চলে তার দিন। তার ৩ ছেলে ১ মেয়ে। বড় ছেলে আঃ হামিদ শেখ খুলনায় শ্রমিকের কাজ করেন। মেজো ছেলে আব্বাস আলী শেখ মানসিক রোগী। এক বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর আলী শেখ শহরে ভ্যান চালিয়ে জীবনযাপন করছে। মাঝে মধ্যে মা সখিনা বেগমকে ভরণ-পোষণের জন্য ৩/৪ শ’ টাকা পাঠিয়ে দেন। বড় ছেলেও মাকে মাঝে মধ্যে ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। আর মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ের স্বামী মারা গেছে কয়েক বছর আগে। খুলনা শহরে মানুষের বাসায় কাজ করে পেট চলে তার মেয়ের। তারপরও মাঝে মাঝে মায়ের জন্য কিছু টাকা দেন। আসলে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। এত কষ্টে থাকলেও সরকারী কোন সহযোগিতা জোটেনি সখিনার কপালে। এলাকায় বাইরে থাকার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র হয়নি সখিনার। জাতীয় পরিচয়পত্র নেই সে অজুহাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাকে কোন প্রকার সহযোগিতা করেননি কখনও। সখিনা বলেন, আমি ভিক্ষা করি না। ভিক্ষা করা পাপ। তবে হাঁটার পথে পরিচিতজনরা খুশি হয়ে কিছু দেয়। তাই দিয়ে চলি। বেশি হাঁটতে পারি না। মাথা ঘুরায়। সরকারী সাহায্য কোনদিন পাইনি। সরকার তো অনেক দেয় শুনি। আমার কপালে নাই। বারইখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান লাল বলেন, সখিনা বিবি বহুদিন এলাকায় ছিল না। তার আইডি কার্ড নেই। তাই তাকে বিধবা ভাতা দেয়া যায়নি। তবে পরিষদে গেলে তাকে চাল দেয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সখিনা বিবিকে খুঁজে বের করা হবে। আইডি কার্ড না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থায় তাকে সাহায্যের আওতায় আনা হবে।