২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লাইফওয়ের আট কর্মকর্তা জেলে

কোর্ট রিপোর্টার ॥ রাজধানীর উত্তরায় লাইফওয়ে নামে কোম্পানি খুলে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ৮ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন আসামির জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শনিবার ৪ ঘণ্টার অভিযানে তাদের আটক করে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)। এ সময় উত্তরার বিভিন্ন বাসায় আটকে রাখা ১৫০ যুবককেও উদ্ধার করে র‌্যাবের সদস্যরা। সোমবার মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা তুরাগ থানার এসআই মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তের স্বার্থে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামিরা হলো জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জের মোঃ মর্তুজা (২৮), গাজীপুর জয়দেবপুরের মোঃ হোসাইন আহম্মেদ খান ওরফে শাহাদৎ (২২), রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মোঃ আরিফ হোসেন ওরফে আহসান হাবিব (২০), মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মোঃ আমিনুল ইসলাম (২২), পাবনার আতাইকুলার মোঃ ওবাইদুল হক (২৭), যশোরের অভয়নগর উপজেলার মোঃ ইয়ামিন ইসলাম (২০), পাবনা সদরের মোছা. নাজনীন সুলতানা নিশা (২৯) ও রাজশাহী চারঘাটের মোঃ ইসমাইল হোসেন (২৭)।

র‌্যাব-১ এর কাছে অভিযোগ আসে, এমএলএম কোম্পানির আদলে তৈরি লাইফওয়ে কোম্পানি চাকরি দেয়ার নামে যুবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। কেউ টাকা দিতে না পারলে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো। এরপর উত্তরায় একটি বাসায় অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, ওই কোম্পানির কোন পণ্য নেই। একজন যোগদান করার পর তাকে বলা হয়, ১৫ দিন থাকা খাওয়া, প্রশিক্ষণ ও পোশাকের জন্য ২০ হাজার টাকা লাগবে। ওই টাকা দেয়া হলে এক সপ্তাহ পর আবার ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরের টাকা না দিলে চাকরি হবে না আবার পূর্বের টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়।

১৫ দিন পর প্রথমে যোগদান করা ব্যক্তিকে দুজন ব্যক্তি জোগাড় করে আনতে বলা হয়। একজনের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেয়া হয়ে গেলেই এবার তাকে বলা হয়, দুজন লোক জোগাড় করে আনতে। আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধব অথবা পরিচিতজনকে সহজেই নিয়ে আসা যাবে বলে পরামর্শ দেয়া হয়। একপর্যায়ে উপায় না পেয়ে পরিচিত কাউকে নিয়ে এসে কোম্পানিতে ঢুকিয়ে দেন। এতে সামান্য কিছু টাকা পেলেও নতুন করে দ্বিতীয় ব্যক্তিও প্রতারণার শিকার হয়ে যান। ওই ঘটনায় তুরাগ থানায় মোহাম্মদ মিলন নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।