২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পবিত্র আশুরা আজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র আশুরা আজ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে আজকের এই দিনে মহান আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। এই দিনে বিশ্বের লয় ঘটবে। এ ছাড়া আরও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা এইদিন ঘিরে হলেও কারবালার প্রান্তরে শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে এ দিনটি বিশেষভাবে পালন করা হয়ে থাকে।

এই দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পবিত্র আশুরা যথাযথভাবে পালনের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সোমবার বাদ যোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা নিয়ে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল হয়েছে। আজ মঙ্গলবারও বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হবে। এদিকে দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপ্রতি মোঃ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে তারা আশুরা শোকবহ ও ত্যাগের ঘটনার তাৎপর্য তুলে ধরে বিশ্বের মুসলিম উম্মার সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন ইসলামে আশুরা গুরুত্ব এই বেশি যে এই দিনে নবী করিম (সাঃ) রোজা পালনের জন্য বলেছেন। এ রোজার বিনিময়ে অতীতের এক বৎসরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। তবে ইহুদীদের অনুকরণ যেন না হয় সেজন্য অতিরিক্ত আরও একটি রোজা রাখার জন্য বলেছেন। নবী করিম (সাঃ) তার উম্মতদের এই দিনে গুরুত্ব সহকারে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে বরকত হাসিল করার জন্য আহ্বান জানান। তারা বলেন, আশুরার মূল চেতনা হলো চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ত্যাগ ও কোরবানির মাধ্যমে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তাই মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও বিভেদ ভুলে কারবালার ত্যাগের মহিমায় পরিশুদ্ধ হয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের তাগিদ দেয় আশুরা।

ইসলামী পঞ্জিকা অনুযায়ী মহরম হচ্ছে চান্দ্রবর্ষের প্রথম মাস। মহরম অর্থ অধিক সম্মানিত। আর এই মাসের দশমতম দিনকে বলা হয় আশুরা। আশুরা দিনে বিশ্বে সংগঠিত অনেক অলৌকিক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ঘটনার কারণে মুসলমানদের কাছে বিশেষ মহামান্বিত্ব। ইাসলামী বিশেষজ্ঞরা বলেন, আশুরার দিনেই আসমান জমিন সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রথম মানব আদম (আ.) আজকের এই দিনে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই দিনে আল্লাহ তাআলা অনেক নবী রাসুলকে নিজ নিজ শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। এই দিনে নুহ (আ.)-এর প্লাবন শেষ হয় তাঁর জাহার জুদি পাহাড় নামক স্থানে অবতরণ করেন। এই দিনে মুসা (আ.)-এর শুত্রু ফেরাউনকে নীল নদে ডুবিয়ে দেয়া হয়। এই দিনে দাউদ-এর তাওবা কবুল হয়েছিল। নমরুদের অগ্নিকু- থেকে ইব্রাহিম (আ.) উদ্ধার পেয়েছিলেন। আইয়ুব (আ.) দুরারোগ্য ব্যাধি থেকেও মুক্তি লাভ করেন। এই দিনেই আল্লাহ তাআলা ঈসা আকে উর্ধাকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন বলেও কথিত রয়েছে।

এদিকে আশুরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো এই দিনে কারবালার প্রান্তরে হৃদয়বিদারক ও শোকাবহ ঘটনা। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে এই দিনটি বিশেষভাবে পালন করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই দিনে কারবালার বিষাদময় ঘটনা পালনের জন্য বিশেষ কর্মসূচী নিয়ে থাকে। এবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল বের করাসহ মাতম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

হিজরী ৬১ সনের ১০ মহরম এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) ও তাঁর পরিবার এবং অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। হিজরী ৬০ সালে এজিদ বিন মুয়াবিয়া পিতার মৃত্যুর পর নিজেকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেন। তার সম্পর্কে বলা হয় তিনি মদ্যপানকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। একই সঙ্গে দুই সহোদর বোনকে বিয়ে বৈধ ঘোষণা করেন। শাসক হিসেবে সে ছিল স্বৈরাচারী ও অত্যাচারী। ইমাম হুসাইন এজিদের আনুগত্য করতে অস্বীকার করেন। তিনি এই সময় মদিনা ছেড়ে মক্কায় চলে আসেন। মক্কা থেকে মদিনায় চলে আসেন তিনি। এখন থেকে দলবল নিয়ে কুফার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এখন থেকে যান কারবালার প্রান্তরে। এই সময় উমর ইবনে সাদ আবি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে চার হাজার সৈন্য কারবালায় প্রবেশ করে। কারবালায় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। শুরু হয় যুদ্ধ। এই অসম যুদ্ধে ইমাম হুসাইন এবং তাঁর ৭২ জন সঙ্গী শাহাদাতবরণ করেন। শিমার ইবনে জিলজুশন মুরাদি নিজে কণ্ঠদেশে ছুরি চালিয়ে ইমাম হুসাইনকে হত্যা করে। সেদিন ছিল হিজরী ৬১ সনের ১০ মহরম। মূলত মহরমের দিনে শোকাবহ এ ঘটনাকে বেশি স্মরণ করা হয়ে থাকে।

কারবালার ঘটনা স্মরণ করে বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল রয়েছে। কারবালার শোকাবহ এই ঘটনা অর্থাৎ পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সকলকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়। এদিকে আশুরা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। আজ হোসনী দালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল বের হবে।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া শোক মিছিলে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।