২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দলিল নিবন্ধন সেবায় দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে

  • দাবি টিআইবির

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভূমির দলিল নিবন্ধন সেবার প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবি। সংস্থাটির মতে, এর কারণ হিসেবে সেবা খাতে যে দুর্নীতি-অনিয়ম হচ্ছে তা অংশীদারিত্বের ও যোগসাজশের মাধ্যমে হচ্ছে। সেখানে সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অংশীদারিত্বের দুর্নীতি হচ্ছে যা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে বলে দাবি করেছে টিআইবি। ‘ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক’ টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। সোমবার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন। অপরদিকে পুরো প্রক্রিয়াকে ই-নিবন্ধন করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাসহ সম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশন করা, জনবল, অবকাঠামোগত উন্নতি, পরিকল্পনা গ্রহণ ও উদ্যোগের ঘাটতি দূর করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে টিআইবি।

সম্মেলনে এ গবেষণাকে গুণগত গবেষণা বলা হয়। দেশের আটটি বিভাগের ১৬ জেলার ৪১ সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ে নিবন্ধন অধিদফতর ও অংশীজনদের কাছ থেকে গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানায় টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সুলতানা কামাল, উপদেষ্টা (নির্বাহী) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (রিসার্চ এ্যান্ড পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। টিআইবির ডেপুটি ম্যানেজার (প্রোগ্রাম) শাম্মী লায়লা ইসলাম ও নিহার রঞ্জন রায় গবেষণা পরিচালনা এবং প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এ খাতে ব্যাপক সুশাসনের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে সেবা দেয়ার নামে জিম্মি করে, সময়ক্ষেপণ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ ও ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। দুর্নীতির মহোৎসব চলবেই। অন্য প্রায় সব খাতের মতোই আইনী দুর্বলতা, সেবার মানোন্নয়ন ও নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে, জনবল, অবকাঠামোগত, পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটালাইজেশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত দিক থেকে অধিকাংশ ভূমি অফিস জরাজীর্ণ। সুশাসনের ঘাটতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত করছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কোন ভূমি দলিল নিবন্ধন অফিস ব্যতিক্রমও পেয়েছি। অনেক কর্মকর্তা জবাবদিহিতার সঙ্গে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সে সংখ্যা তুলনায় খুবই কম। মোটাদাগে এ খাতে যে জবাবদিহিতা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে কাজ করছে না। সার্বিক চিত্রানুযায়ী,অন্য খাতের মতোই ভূমি দলিল নিবন্ধন অফিসে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা দেখতে পাই যা সুশাসনের ঘাটতিকে জটিল ও দুর্নীতিকে আরও উগ্রতর করে। সেবা খাত মানেই সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতিপ্রবণ। দলিল নিবন্ধন ও দুর্নীতি যেন অনেকটা সমার্থক হয়ে গেছে। এই খাতে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের চিত্র বিরাজ করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত আছে যে একজন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করতে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে। তিনি বলেন, ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবা খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতে দুটি জিনিসকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। কর্তৃপক্ষের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। দুর্নীতির অংশীজনদের নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করা, দুর্নীতিপরায়ণদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সেবা গ্রহীতারা হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন, সরকারের রাজস্ব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। দ্বিতীয়ত প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি ও আধুনিকায়নকে গুরুত্ব দেয়া। যদিও সরকার এই কার্যক্রম গ্রহণ করলেও অগ্রগতি নেই। এক্ষেত্রে ই-নিবন্ধনসহ পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। এটা সম্ভব হলেই এই খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমে আসবে বলে মত দেন তিনি।