২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জয়নুলে বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের ছাপচিত্র প্রদর্শনী

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিচিত্র বিষয়ের চিত্রকর্মগুলো শোভা পাচ্ছে প্রদর্শনালয়জুড়ে। সেসব ছবিতে আছে প্রকৃতি থেকে জীবনের চিত্রায়ন। বিশেষ রূপে আবির্ভূত হয়েছে নারীর অবয়ব। বাদ যায়নি শিল্পিত অনুভবের কল্পনার জগত। দেখা মেলে মূর্ত থেকে বিমূর্ত রীতির ছবি। কোনটি ঝুলছে ইজেলে, কোনটি ঠাঁই পেয়েছে দেয়ালের গায়ে। কাঁচ ঢাকা টেবিলেও সজ্জিত হয়েছে ছবি। আর সবগুলো চিত্রকর্ম চিত্রিত হয়েছে ছাপচিত্র মাধ্যমে। ছবিগুলো এঁকেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীরা। উভয় দেশের মধ্যে শিক্ষা ও শিল্প-বিনিময়ের কর্মসূচীর ফসল হচ্ছে প্রতিটি চিত্রকর্ম। দুই দেশের ছাপচিত্রীদের অংশগ্রহণে কর্মশালার মাধ্যমে সৃজিত চিত্রকর্ম নিয়ে চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে চলছে প্রদর্শনী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০১২ সালে শিক্ষা ও শিল্প-বিনিময় চুক্তি হয়। সেই চুক্তির আওতায় উভয় দেশের শিল্পীদের মধ্যে প্রতিবছর পরিচালিত হচ্ছে নানা কার্যক্রম। সেসব আয়োজনে ঘটছে শিল্প-সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক ভাব-বিনিময়। সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের সূত্র ধরে চলছে শিল্প-বিষয়ক ধারণার আদান-প্রদান। শিল্পিত সেই পথরেখায় চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগ ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি অংশ নেয় একটি কর্মশালায়। ২ সেপ্টেম্বর থেকে চারুকলায় শুরু হয় সপ্তাহব্যাপী কর্মশালা। উভয় দেশের ছাপচিত্রীরা এচিং, লিথোগ্রাফি, উডকাট, সেরিওগ্রাফিসহ ছাপচিত্রে নানা রণকৌশলে বিবিধ বিষয়ের চিত্রকর্ম সৃজন করেছেন। পরবর্তীতে কর্মশালা থেকে সৃষ্ট চিত্রকর্মগুলো নিয়ে জয়নুল গ্যালারিতে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় চারদিনের প্রদর্শনী।

প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশের ১১ চারুশিক্ষার্থী এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববদ্যালয়ের শিক্ষক ও চারুশিক্ষার্থীসহ ৭ শিল্পী। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের শিক্ষার্থী শিল্পীরা হলেনÑ শায়লা শারমিন, ফৌজিয়া, ফারিহা, নাসরিন রেহানা ইভা, তাহিয়া হোসেন, অভিজিত ম-ল, নুসরাত জাহান, মাজহারুল ইসলাম মাহিম, তাফান্নুম কাগজী, রফিকুল ইসলাম, শাওন দাস ও আমান উল্লাহ। ভারতের বিশ্বভারতী থেকে অংশগ্রহণকারীরা হলেন- দুই সহকারী অধ্যাপক ড. প্রশান্ত ফিরাঙ্গি ও মৈরাংথেন থমাস সিং এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিহান দাস, জাসনিত সিং, শ্রীলেখা আদক, রাজা বোরো ও সুজন বেজ।

চারদিনের এ প্রদর্শনী শেষ হবে ১১ সেপ্টেম্বর। প্রতিদিন সকাল ১১টা রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নজরুল একাডেমির আয়োজনে নজরুল সম্মেলন ॥ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নজরুল সম্মেলনের আয়োজন করেছে নজরুল একাডেমি। সোমবার বিকেলে একাডেমির মগবাজারের নজরুল ভবনে সম্মেলনের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি জাহানারা আরজু। সভাপতিত্ব করেন ভাষাসৈনিক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর গফুর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী। আলোচনায় শেষে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কলকাতার অগ্নিবীণা নজরুল চর্চা কেন্দ্রের ১১ শিল্পী এবং নজরুল একাডেমির শিল্পী ও অতিথি শিল্পীবৃন্দ।