১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্মিথ বীরত্বে এ্যাশেজ ধরে রাখল অস্ট্রেলিয়া

স্মিথ বীরত্বে এ্যাশেজ ধরে রাখল অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত প্রশংসার কোন শব্দই যেন স্টিভেন স্মিথের জন্য যথেষ্ট নয়। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর সাদা পোশাকে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। এজবাস্টনে ২৫১ রানের বিশাল জয়ে ১৪৪ ও ১৪২ রানের ইনিংস। লর্ডসের দ্বিতীয় টেস্টে মাথায় আঘাত পাওয়ার ম্যাচে ৯২। টেস্ট ড্র। হেডিংলির তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামতে পারেনি। বেন স্টোকসের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে ১ উইকেটের হার সফরকারীদের। ওল্ডট্র্যাফোর্ডেও বীরত্বগাথা রচনা করলেন স্মিথ। শেষদিনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ১৮৫ রানের জয়ে সাবেক অধিনায়কের নামের পাশে ২১১ ও ৮২। তিন ম্যাচেই রান ৬৭১! এও কী সম্ভব? স্মিথ বীরত্বে দীর্ঘ ১৮ বছরে ইংল্যান্ডের মাটিতে এ্যাশেজে ‘না’ হারাটা সম্ভব করল অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ টেস্টের সিরিজে টিম পেইনের দল এগিয়ে ২-১ ব্যবধানে। পাশাপাশি ছাইভস্মের ঐহিত্যের ট্রফি নিজেদের কাছে রেখে দেয়াটা নিশ্চিত। ওভালের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে জিতলে অথবা ড্র করলে আরও বড় ইতিহাস, হারলেও ট্রফি হাতছাড়া হচ্ছে না অস্ট্রেলিয়ার। উল্লেখ্য, গতবার (২০১৭-১৮) ঘরের মাটিতে ৪-০ ব্যবধানে জয়ে ৬৮৭ রান করে সিরিজসেরা হয়েছিলেন স্মিথ।

ওল্ডট্র্যাফোর্ডে স্মরণীয় জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অধিনায়ক টিম পেইনের মুখে শুরুতেই স্মিথের প্রশংসা, ‘স্মিথ সত্যিই অসাধারণ। টেস্টে আমার দেখা সেরা ব্যাটসম্যান। এভাবে রানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা কঠিনই বটে। যখন কন্ডিশন হয় ইংল্যান্ড। ইনজুরির কারণে তৃতীয় টেস্টে দলে ছিলেন না তিনি। ফিরেই রাজকীয় ইনিংস। ডাবল সেঞ্চুরি, সত্যি অবিশ্বাস্য। সে রানের জন্য ক্ষুধার্ত ছিল। তাই বলে এভাবে, হয়ত কেউই ভাবেনি। আশা করি, শেষ টেস্টেও স্মিথের কাছে আমরা বড় ইনিংস দেখতে পাব।’ ২০০১ সালের পর দীর্ঘ ১৮ বছরে ইংল্যান্ডের মাটি থেকে এ্যাশেজ ট্রফি নিয়ে ঘরে ফেরা নিশ্চিত হলো অস্ট্রেলিয়ার। গ্রেট স্টিভ ওয়াহর পাশে নাম লেখালেন টিম পেইন, ‘এ্যাশেজ জয়ের জন্য আমরা সবাই মুখিয়ে ছিলাম। আর জয়ের পর সত্যিই খুব ভাল লাগছে। গত ১৬-১৮ মাসে এই দলটাকে অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। কত ধরনের সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। তবে সে সব মাথায় না রেখে ছেলেরা যে খেলাটা খেলল, তাতে তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তাই ফুটে উঠেছে।’

সিরিজ জিততে আত্মবিশ্বাসী পেইন আরও যোগ করেন, ‘আমরা কেবল ড্র করে ট্রফি ধরে রেখেই আনন্দিত হতে চাই না, ওভালের শেষ ম্যাচ জিতে ৩-১এ এ্যাশেজ সিরিজও জিততে চাই। সেটি হবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ইতিহাসের বড় অর্জনগুলোর একটি। আমরা এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না।’ ২১১ ও ৮২ রানের দুর্দান্ত দুটি ইনিংস খেলে ফের ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে নেয়া স্মিথ বলেন, ‘সত্যিই জানি না আদৌও ভাল খেলতে পেরেছি কিনা। তবে একটুকু বলব, বাইশ গজে সময় কাটাতে পেরে দারুণভাবে উপভোগ করছি। ক্রিকেটকে উপভোগ করাই এখন আমার কাছে প্রধান লক্ষ্য।’

ইংল্যান্ডের মাটি থেকে এ্যাশেজের ট্রফি নিয়ে ফিরতে অস্ট্রেলিয়াকে অপেক্ষা করতে হলো ১৯ বছর। আর অভিষেকের ৯ বছরে এসে স্মরণীয় এই সাফল্যের রূপকার হলেন স্মিথ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্মিথের টেস্ট অভিষেক ২০১০ সালে। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে এ্যাশেজ খেলতে গিয়ে জয়ের স্বাদ পাননি। স্মিথকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট মহলে একটা শব্দ খুব প্রচলিত, ‘ইস্পাত কঠিন’। সদা হাসিখুশি ছেলেটার মধ্যে একটা বারুদ রয়েছে। চোখে মুখে আক্রমণাত্মক ভঙ্গি না থাকলেও বাইশ গজে ভীষণ কঠিন, দারুণ লড়াকু। প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দিতে চান না। আর দীর্ঘ দেড় যুগে ইংল্যান্ডের মাটিতে এ্যাশেজ ধরে রখার মিশনেও ফুটে উঠল স্মিথের দৃঢ়চেতা সেই চরিত্র।

বল টেম্পারিংয়ের অপরাধে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন বিশ্বকাপ দিয়ে। সাদা পোশাকে ইতিহাসের অন্যতম সফল প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে এ্যাশেজের প্রথম টেস্টেই জিতিয়েছিলেন দলকে। জোড়া সেঞ্চুরিতে প্রথম ম্যাচের জয়ের নায়ক দ্বিতীয় টেস্টে মাথায় আঘাত পাওয়ায় তৃতীয় ম্যাচে আর মাঠে নামতে পারেননি। লর্ডসে আহত হওয়ার দিনেও হাফসেঞ্চুরি। এবার যেন নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন ৩০ বছর বয়সী সুপার উইলোবাজ। সিরিজে স্মিথের ইনিংসগুলো দেখুনÑ ১৪৪, ১৪২, ৯২, ২১১ ও ৮২! তিন ম্যাচেই রান ৬৭১। আগের টেস্টে মাঠের বাইরে থাকা স্মিথ আহতবাস্থা থেকে ফিরে কেমন করেন, সেই প্রশ্ন ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ক্রিকেটবিশ্বকেই নাড়িয়ে দিয়েছেন সুপার উইলোবাজ। ক্যারিয়ারের ২৬তম সেঞ্চুরির পথে প্রথম ইনিংসে ২৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩১৯ বলে ২১১ রানের মনোমুদ্ধকর ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮২। নিষেধাজ্ঞার কলঙ্ক মুছতে এর চেয়ে ভাল কিছু আর হতে পারত না।