১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আফগানদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লক্ষ্য জয়

  • তাজিকিস্তানে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাই ফুটবল

রুমেল খান ॥ একদিকে ‘দ্য বেঙ্গল টাইগার্স’। অন্যদিকে ‘দ্য লায়ন্স অব খোরাসান।’ বাঘ-সিংহের লড়াইয়ে জিতবে কে? সেই প্রশ্নের জানা যাবে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় খেলা শেষ হওয়ার পর। যাতে ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপ (এটা আবার ২০২৩ সালের এশিয়ান কাপের বাছাইও বটে) বাছাইপর্বে ‘ই’ গ্রুপে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের। খেলাটি হবে তাজিকিস্তানের দুশানবের রিপাবলিকান সেন্ট্রাল ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে (আফগানিস্তানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় এবং নিরাপত্তার ঘাটতি থাকায় ফিফা এই নিরপেক্ষ ভেন্যু ঠিক করেছে)। খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলা টিভি।

বাংলাদেশের গ্রুপের বাকি দলগুলো হচ্ছেÑ ভারত, ওমান ও বিশ্বকাপের স্বাগতিক কাতার। হোম এ্যান্ড এ্যাওয়ে ভিত্তিতে মোট আটটি করে ম্যাচ খেলবে প্রতিটি দল। আফগানিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচে তারা তাজিকিস্তানের শীর্ষ লীগের দল এএফসি কুকটশের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে সিসকা পামিরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে।

আফগানদের সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে টার্ফে। এ কারণে জামাল ভূঁইয়ারা একটু আগেভাগেই সেখানে গেছেন। যাতে করে তারা টার্ফ, আবহাওয়া এবং কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।

ম্যাচ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে বলেছেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি বেশ ভাল হয়েছে এবং গত দুটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচে আমি তাদের খেলা দেখে অনেক সন্তুষ্ট হয়েছি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক কঠিন হতে যাচ্ছে, তার কারণ তাদের বেশকিছু ফুটবল ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মাইনর লীগ খেলে। তবে এ নিয়ে আমরা মাথা ঘামাতে চাই না। চাই নিজেদের সেরা ও স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে। আমরা এখন দল হিসেবে আগের চেয়ে অনেক পরিণত। গত কয়েক ম্যাচে আমাদের ফলাফল বেশ আশাব্যঞ্জক। সেই ম্যাচগুলোর নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতাই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে বজায় রাখতে চাই।’ বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার ভাষ্য, ‘আফগানিস্তান অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের সঙ্গে ম্যাচটি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করি। আমরা তাজিকিস্তানে গত ৯ দিন ধরে অনুশীলন করেছি। প্রস্তুতি ভালই। সেই সঙ্গে আফগানদের বিরুদ্ধে সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয়ার জন্য আমরা দলের সবাই তৈরি ও রোমাঞ্চিত।’

আফগানিস্তানের কোচ আনৌস দস্তগীর বলেছেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে মুখিয়ে আছি। তাদের সঙ্গে খেলারটা একটু ভিন্নমাত্রার হবে বলে মনে করি। কাতারের মতো বাংলাদেশেরও আছে একাধিক ভাল খেলোয়াড় এবং নতুন কোচ। এর আগে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ৫ বার মুখোমুখি হয়ে ১ বার হেরেছি, ১ বার জিতেছি। তবে সেসব পরিসংখ্যান এখন অতীত। তাছাড়া কেউই বলতে পারবে না মঙ্গলবারের ম্যাচে কারা জিতবে। তবে একটা কথা জোর দিয়ে বলতে পারি, আমার দলের খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের চেয়ে শারীরিকভাবে এবং টেকনিক্যালি অনেক এগিয়ে আছে। এটাই আমাদের প্লাস পয়েন্ট।’

আফগানিস্তানের অধিনায়ক ফারশাদ নূর বলেন, ‘মঙ্গলবার বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান উভয় দলের জন্যই ম্যাচটি হবে অনেক ইন্টারেস্টিং। খেলাটি অনেক উপভোগ্য হবে বলে আশা করি। আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েই খেলব। আমাদের আক্রমণভাগ শক্তিশালী। আশা করি এই দিকটাই দুই দলের মাঝে পার্থক্য গড়ে দেবে।’ সোমবার বাংলাদেশ-আফগানিস্তান উভয়দলই পরস্পরকে মোকাবেলার আগে শেষবারের মতো অনুশীলনে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়। বাংলাদেশের ‘ই’ গ্রুপের পাঁচ দলের মধ্যে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে কাতার। ৫৫তম অবস্থানে আছে এশিয়ান কাপের চ্যাম্পিয়নরা। বাকিরাও র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের (১৮৩তম) চেয়ে। ওমান ৮৬তম, ভারত ১০১তম এবং আফগানিস্তান ১৪৯তম স্থানে আছে। তাই বাংলাদেশের জন্য লড়াইটা খুব সহজ হবে না।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নিয়েছে (১৯৮৬-২০১৮)। খেলেছে মোট ৪৮ ম্যাচ। জিতেছে মাত্র ৮টিতে। ড্র করেছে ৫টিতে। আর হেরেছে ৩৫ ম্যাচে। ৩৩ গোল করার পাশাপাশি হজম করেছে ১১২ গোল। প্রতিবারই বাছাইপর্বেই বাদ পড়ে গেছে। তবে এবার ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে লাল-সবুজ বাহিনী। প্রশ্ন উঠতে পারে, কোন্ সাহসে এবং কিসের ভিত্তিতে এই স্বপ্ন দেখছে তারা? উত্তর হচ্ছেÑ জেমি ডে নামের এক কুশলী দ্রোণাচার্য্য এবং একঝাঁক নবীন-দক্ষ ফুটবলারদের কারণে। বাংলাদেশের গ্রুপের ম্যাচগুলো হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৯ জুন পর্যন্ত। আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা চার রানার্সআপ মোট ১২ দল পাবে বিশ্বকাপের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডের টিকেট। এই ১২ দল সরাসরি এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করবে। পরের সেরা ২৪ দল নিয়ে আলাদা আরেকটি বাছাইপর্ব হবে, সেখান থেকে নির্ধারিত হবে চীনে ২০২৩ সালের এশিয়ান কাপের বাকি দলগুলো। ২০২২ সালের ২১ নবেম্বরে শুরু হবে কাতার বিশ্বকাপ। ফাইনাল হওয়ার কথা ১৮ ডিসেম্বরে। দুই লেগ মিলিয়ে লাওসকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম রাউন্ড পেরুয় বাংলাদেশ। লাওসের মাঠে ১-০ গোলে জেতা জেমি ডের দল ফিরতি পর্বে নিজেদের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছিল।

বাংলাদেশ দল ॥ আশরাফুল ইসলাম রানা, শহিদুল আলম সোহেল, আনিসুর রহমান জিকু, বিশ্বনাথ ঘোষ, টুটুল হোসেন বাদশা, সুশান্ত ত্রিপুরা, রহমত মিয়া, ইয়াসিন খান, রিয়াদুল হাসান, ইয়াসিন আরাফাত, মাসুক মিয়া জনি, জামাল ভূঁইয়া (অধিনায়ক), মামুনুল ইসলাম, সোহেল রানা, রবিউল হাসান, বিপলু আহমেদ, আরিফুর রহমান ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নাবিব নেওয়াজ জীবন, মাহবুবুর রহমান সুফিল, মতিন মিয়া, সাদ উদ্দিন ও জুয়েল রানা।