১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্পেন ও ইতালির টানা ছয় জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইউরো বাছাই ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য ছন্দে এগিয়ে চলেছে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ও স্পেন। দুটি দলই নিজেদের গ্রুপে টানা ছয়টি করে ম্যাচে জয় পেয়েছে। এর ফলে চূড়ান্ত পর্বে খেলার পথও প্রায় পরিষ্কার হয়ে গেছে দল দুটির।

রবিবার রাতে ঘরের মাঠে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন ৪-০ গোলে হারিয়েছে ফ্যারো আইল্যান্ডসকে। আর ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে স্বাগতিক ফিনল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। বাছাইয়ে প্রথম ম্যাচে নিজেদের মাঠে ফিনল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল আজ্জুরিরা। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত ফিনল্যান্ড। তবে চতুর্থ মিনিটে সাউলির লক্ষ্যভ্রষ্ট হেডের পর টইভিয়োর হেডও ঠিকানা খুঁজে পায়নি। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৯ মিনিটে চিরো ইমোবিলের হেড থেকে গোলে এগিয়ে যায় ১৯৬৮ সালে প্রথম ও একমাত্র চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইতালি। ৭২ মিনিটে স্পট কিকে টিমু পুক্কি সমতায় ফেরান ফিনল্যান্ডকে। ম্যাচর ৭৯ মিনিটে জর্জিনহোর পেনাল্টি গোলে ফের এগিয়ে যায় ইতালি। ডি বক্সে সাউলির হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় অতিথিরা।

ম্যাচ শেষে ল্যাজিওতে খেলা ইতলিয়ান স্ট্রাইকার ইমোবিল বলেন, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গোল না পাওয়ায় আমি কিছুটা চাপ অনুভব করছিলাম। তবে জানতাম সময় আসবেই। এই ম্যাচটি খুব সহজ ছিল না। তবে আমরা ভালই করেছি। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বঞ্চিত হওয়ার পর আমরা ফের শক্তি সঞ্চার করতে শুরু করেছি। ছয় ম্যাচ থেকে পূর্ণ ১৮ পয়েন্ট নিয়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এখন যেন আকাশে উড়ছে। বাছাইপর্বে এখনও চার ম্যাচ তাদের হাতে আছে। এর আগে গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইতালির চেয়ে ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা আর্মেনিয়া ৪-২ গোলের রোমঞ্চকর এক জয় পেয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোবিনার বিপক্ষে। এখন আগামী মাসে গ্রীস কিংবা লিচেনস্টেইনের বিপক্ষে জয় দিয়ে মূলপর্বের টিকেট নিশ্চিত করার সুযোগ আছে ইতালির।

ফ্যারো আইল্যান্ডসের বিরুদ্ধে স্পেনের দাপুটে জয়ে দুটি করে গোল করেন রডরিগো ও পাকো আলকাসের। এর আগে গত জুনে প্রথম দেখায় ফারো আইল্যান্ডসের মাঠে ৪-১ গোলে জিতেছিল তিনবারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ১৩ মিনিটে রডরিগো প্রথম গোল করেন স্পেনের হয়ে। বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ানো স্পেন সাফল্যও পেয়ে যায় দ্রুত। ৫০ মিনিটে থিয়াগো আলকান্টারার থ্রু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফের গোল করেন রডরিগো। খেলার শেষদিকে তিন মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন পাকো আলকাসের। ৮৯ মিনিটে আলকান্টারার পাস পেয়ে টোকা দিয়ে ব্যবধান বাড়ান তিনি। আর যোগ করা সময়ে হেডে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চার নম্বর গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড। এই ম্যাচ দিয়ে স্পেনের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস। ১৬৭ ম্যাচ খেলে এতদিন এককভাবে রেকর্ডটির মালিক ছিলেন সাবেক তারকা গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস।

তবে রেকর্ডটি যে রামোস এককভাবে নিজের দখলে নিতে যাচ্ছেন সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। স্পেনের পরের ম্যাচেই গৌরবময় এ কীর্তি গড়বেন তিনি। কেননা ক্যাসিয়াস অনেক আগেই জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন। চার ম্যাচ বাকি থাকতেই চূড়ান্ত পর্বের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে স্পেন। এ প্রসঙ্গে দলটির কোচ রবার্ট মরেনো বলেন, আমরা বলতে গেলে বাঁছাই হয়ে গেছি। তবে গানিতিক নিয়মে এখনও হইনি। বাকি সব ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের দলকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। অবশ্য আমাদের মূল লক্ষ্য কোয়ালিফাই হওয়া।

ম্যাচ শুরুর আগে সদ্য পদত্যাগ করা স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুইস এনরিকের ৯ বছর বয়সী মেয়ের অকাল মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ক্যান্সার আক্রান্ত মেয়ের চিকিৎসা ও দেখভালর জন্য গত জুনে কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এনরিকে। স্পেনের কোচ হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মরেনো।