২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাঁচ বিভাগের বিদ্রোহীদের কাছে আওয়ামী লীগের শোকজ নোটিস পাঠানো শুরু

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের দেড় শতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে শোকজ নোটিস পাঠানো সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তাদেরকে বিদ্রোহী হিসেবে ধরে নিয়েছে দলটি। কেন দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিস সংবলিত চিঠি সোমবার পাঁচ বিভাগের বিদ্রোহীদের কাছে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব বিভাগের বিদ্রোহীদের কাছে এই শোকজ নোটিস যাবে।

দলের নানা সূত্রে জানা গেছে, সরাসরি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করা হলেও বিদ্রোহীদের মদদদাতা কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী-এমপিদের কাছে এখনই কোন শোকজ নোটিস পাঠানো হচ্ছে না। আসন্ন জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে কোন্দল বাড়ার আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী ও জনপ্রিয় কিছু সংসদ সদস্যকে শোকজের চিঠি আপাতত না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব মদদদাতা নেতাকে শোকজের চিঠি না দিয়ে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হবে।

গত ১২ জুলাই গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলটির উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ওসব নেতাকে শোকজের সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে সজাগ দৃষ্টি রাখার পাশাপাশি এবার দলের দিকে তীক্ষè দৃষ্টি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে যেসব জায়গায় দল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল ও দ্বন্দ্ব-বিবাদ তুঙ্গে সেসব জেলায় শক্তহাতে দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মাঠে নামছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

শোকজের জবাবের জন্য তিন সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। ডাকযোগে অভিযুক্তদের ঠিকানা বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেড়শ’ জনের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হলেও তা বেড়ে দুই শতাধিক হতে পারে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়া প্রায় ১৪০ উপজেলা চেয়ারম্যানের নামও রয়েছে। এসব বিদ্রোহীর কাছে কয়েক ধাপে নোটিস যাবে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছ থেকে শোকজ নোটিসের জবাব পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তা যাচাই-বাছাই করে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের চূড়ান্তভাবে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য একটি তালিকা প্রস্তুত করে তা দলের পরবর্তী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে উপস্থাপন করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় ওই বৈঠকে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত বহিষ্কার হওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতাদের তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশ করবে।

জানা গেছে, শোকজের জবাবের মধ্যেই জানতে চাওয়া হয়েছে কোন কোন কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী-এমপি কিংবা জেলার নেতারা তাদের উৎসাহিত করেছে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে। কারা কারা তাদের মদদ কিংবা সমর্থন দিয়েছে। এসব বিষয় শোকজ পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের জবাবের মধ্য থেকেই সংগ্রহ করে পুনরায় তা যাচাই-বাছাই করে মদদদাতাদের সতর্ক করা হবে। পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত ৪৭৩টি উপজেলার নির্বাচনে ১৪৯টিতে চেয়ারম্যান পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১৪০ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী।

দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সম্মেলনের আগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃণমূল, বিশেষ করে জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্মেলনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়া বিদ্রোহীদের কাউকে বড় কোন পদ-পদবি দেয়া হবে না। এমনকি যারা দলের বড় পদে থেকে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের সেই পদও কেড়ে নেয়া হতে পারে।