১৯ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্যুতের দিগন্ত

বিদ্যুতের দিগন্ত পূর্বেকার যে কোন সময়ের তুলনায় বিস্তৃত হয়ে চলেছে, এটি পুরনো কথা। নতুন সুসংবাদ হলো এখন বিদ্যুত উৎপাদন ২২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী চারটি উৎপাদন কেন্দ্র ছাড়াও বিদ্যুতের বিশেষ অগ্রযাত্রার সূচনা করেন। দেশে বিদ্যুত খাতে অভাবনীয় উন্নতির ছবি তুলে ধরতে গিয়ে প্রাসঙ্গিক বেশ কিছু ইতিবাচক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন হলো ২১১। দেশের একমাত্র জলবিদ্যুত কেন্দ্র কাপ্তাইয়ে এবার যোগ হলো সাত দশমিক চার মেগাওয়াটের একটি সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র।

সম্প্রতি দেশের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুত বিভাগ। বর্তমানে নতুন বিদ্যুত সংযোগ দিতে লাগে ২৮ দিন। ২০২১ সালের মধ্যে সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুত সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মংলা, পায়রা ও মাতারবাড়িতে তৈরি হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে। সেই হিসেবে বর্তমান ২১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ নতুন ৪২টি ইপিজেডে স্বল্প সময়ে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া অসম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে এসব ইপিজেডে শতভাগ শিল্পায়ন ঘটবে। ফলে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগসহ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কয়েকটি শিল্প পার্কসহ নতুন এক শ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলেছে।

বলা প্রয়োজন বর্তমান সরকার যত টাকা দিয়ে বিদ্যুত উৎপাদন করছে তার চেয়ে অর্ধেকেরও কম দামে বিদ্যুত সরবরাহ করে যাচ্ছে। বিদ্যুতে এভাবে ভর্তুকি দেয়া একেবারে অভাবিত। তারপরও মানুষের কল্যাণে, মানুষের সুবিধার জন্য জনকল্যাণমুখী সরকার এটি করে চলেছে। তবে মানুষ বিদ্যুত ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবে এটিই প্রত্যাশা। সরকারপ্রধান যথার্থই বলেছেন, ‘বিদ্যুত যখন গ্রামে-গঞ্জে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় তখন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটা গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেয়া আর বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন করা। সেজন্য আমরা ঘোষণা দিয়েছি, প্রতিটি উপজেলা যেন সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুত পায়, যেন মানুষের মধ্যে একটা উৎসাহ আসে। শতভাগ বিদ্যুত ধীরে ধীরে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা, উপজেলা থেকে ইউনিয়নে পৌঁছে যাবে, সেটা আমরা পৌঁছাতে পারব।’ বিদ্যুত বিভাগ সূত্র বলছে, গত দশ বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা পাঁচগুণ বেড়ে ২২ হাজার ৩২৯ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। এখন সারাদেশে আরও ৪৮ বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে, যে কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১৬ হাজার ১৩৮ মেগাওয়াট। আটটি বিদ্যুত কেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আধুনিক যুগে বিদ্যুত সরবরাহ একটি অপরিহার্য সেবা ব্যবস্থা। শুধু ঘরবাড়ি আলোকিত করার জন্যই নয়, নির্বিঘ্ন বিদ্যুত সরবরাহ ছাড়া শিল্প, কৃষিশিল্প, সেবামূলক উৎপাদনসহ সব ধরনের উন্নয়ন স্থবির হয়ে যায়। পৃথিবীব্যাপী যে সব দেশ শিল্পে, কৃষিতে, আমদানি-রফতানিতে উন্নতি সাধন করেছে তাদের সব কিছুর আগে বিদ্যুত উৎপাদনে স্বাবলম্বী হতে হয়েছে। বাংলাদেশ আগে ছিল একটি কৃষিনির্ভর দেশ; কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ভূমিকা রাখছে রফতানি। এ ক্ষেত্রে পোশাকশিল্প প্রধান, যার জন্য নির্বিঘ্ন বিদ্যুত সরবরাহ প্রয়োজন। অদূর ভবিষ্যতে আমরা পরমাণু বিদ্যুত উৎপাদনে সক্ষম হব। পরমাণু বিদ্যুত প্রকল্প সম্পন্ন হলে বিদ্যুত কেবল পর্যাপ্তই হবে না, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যও কমবে বলে আমরা আশা করতে পারি।