১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্কাউটিং ও মানবসম্পদ

আজকের শিশুই একদিন দেশ ও সমাজের হাল ধরবে। তাই শিশুর মানসিক বিকাশ ও যথাযথ শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ। শিশুকে মানুষ করে তোলার ব্যাপারে সমাজ ও রাষ্ট্রের তাই বিশেষ করণীয় রয়েছে। জনকল্যাণমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্র শিশু বিকাশে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। সব শিশুই যদি সত্যিকারের মানুষ হতো তাহলে বিশ্বে হানাহানি থাকত না। উগ্র জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ ও ধর্মবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারত না। আমাদের দেশে শিশুশিক্ষার বিষয়টি আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য শিশুর অভিভাবককে কোন ব্যয় করতে হয় না। সব খরচ রাষ্ট্রের। এমনকি সীমিত আকারে হলেও শিশুদের জন্য মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় গত এক দশকে বেশ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এর শুরুটা হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই। ১৯৭৩ সালে ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রার শুভ সূচনা করেছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে প্রায় ২৬ হাজার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের গৃহীত আরও পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তিন দফায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচী। এ কর্মসূচীতে শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিনেই রঙিন বই তুলে দেয়া, উপবৃত্তি কার্যক্রম, অনগ্রসর এলাকায় স্কুল ফিডিং চালু, সরকারী বিদ্যালয়ে দফতরি-কাম-প্রহরী নিয়োগ, স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্যালয়ে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী প্রায় শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি, শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সমতা আনা, নতুন শিক্ষাক্রমে নতুন পাঠ্যবই, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু, অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও শিক্ষার মান বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক, যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। শিশু বয়স থেকে ‘কাব স্কাউটিংয়ের’ মাধ্যমে শিশুদের বিশেষভাবে গড়ে তোলার পদ্ধতিটি গ্রহণ করে থাকে অনেক দেশ। আমাদের দেশেও কাব স্কাউটিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশে নতুন করে ৭ লাখ ৩৫ হাজার কাব তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশংসনীয়। কেননা, স্কাউটিংয়ে ইতিবাচক দিক রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে। স্কাউটিং এমন একটি আন্তর্জাতিক, শিক্ষামূলক ও অরাজনৈতিক আন্দোলন যার মাধ্যমে শিশু, কিশোর ও যুবকদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, বুদ্ধিভিত্তিক ও আধ্যাত্মিকভাবে যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়। এটি বিশ্বের একমাত্র সংগঠন যেখানে যোগদান করতে হলে আত্মশুদ্ধি পালন করতে হয়। আগ্রহীদের অতীত জীবনের সব বদাভ্যাস পরিত্যাগ করার শপথ নিতে হয়। স্কাউট-প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হয়।

১৯১৪ সালে বাংলাদেশ ভূখন্ডে প্রথম স্কাউট আন্দোলন শুরু হয়। স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ স্কাউটস’ নব উদ্যমে নতুন প্রেরণায় অগ্রযাত্রা শুরু করে। সংখ্যা ও মানের দিক থেকে বাংলাদেশ স্কাউটসের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। এর মধ্যে কাব রয়েছে সাত লাখ ৬৫ হাজার। আর প্রস্তাবিত নতুন উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে কাব সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ লাখে। আমরা আশাবাদী, পর্যায়ক্রমে স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে দেশে গড়ে উঠবে যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও প্রশিক্ষকবৃন্দের শতভাগ আন্তরিকতা এবং অঙ্গীকার পরম কাক্সিক্ষত।