১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহাসড়কে টোল ব্যবস্থা

বাংলাদেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে টোল নেয়ার কোন ধরনের ব্যবস্থাপনা আগে ছিল না। কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর এক সিদ্ধান্তে তেমন প্রস্তাবনা গৃহীত হলে তা কার্যক্রমের আওতায় আসার অপেক্ষায়। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তিনটি মহাসড়কে টোল আদায় করা হচ্ছে। এই তিন মহাসড়কের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী টোলের হারেরও রকমফের হয়। টোল আদায়ের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আসায় তা বিভিন্ন দেশের ব্যবস্থার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের টোল ব্যবস্থাপনায় দেখা যায়, শুধু সড়ক-মহাসড়ক হলেই টোল আদায় করা যাবে না। সেই সঙ্গে কিছু আনুষঙ্গিক বিকল্প ব্যবস্থাপনাও দৃশ্যমান করতে হয়। যেমন, সাধারণ মানুষের জন্য বিকল্প রাস্তা রাখাও জরুরী। যা উন্নত দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় স্পষ্টভাবে দেখা যায়। টোল আদায় করা মহাসড়কে যান চলাচলেও বিশেষ সুবিধা দেয়া বাঞ্ছনীয়। বিদেশে মূলত বেসরকারী সংস্থার ব্যবস্থাপনায় নির্মিত সড়ক-মহাসড়কে টোল দেয়ার নিয়ম আছে। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যানবাহনের লাইসেন্স থেকে যে কর আদায় করা হয়, সেখানেই মূলত সড়ক ব্যবহারের অর্থ উঠে আসে। এখানেও আছে কিছু নিয়মবিধি। সরকার নিয়ন্ত্রিত সড়ক-মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কায় পরিবহন মূলত বেসরকারী সংস্থায় নির্মিত সড়কের ওপর দিয়েই যায়। আর টোল দিতে হয় এসব বেসরকারী রাস্তায়। এসব রাস্তায় অবাধ ও মুক্ত গতিতে কোন সঙ্কেত ছাড়াই যাতায়াত করতে পারে যানবাহন। এতে সময় বাঁচে, ভোগান্তি কমে এবং নির্বিঘেœ গন্তব্যেও পৌঁছানো যায়। আর যেসব জায়গায় টোল দিতে হয় তার আশপাশে টোলমুক্ত যাত্রাও বিশেষ দৃশ্যমান। এসব বাস্তব তথ্য উঠে আসার পর পর টোল আদায় নিয়ে নানা যুক্তি-তর্কেরও অবতারণা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টোল আদায়ের আগে সড়কে পরিবহনকে বাড়তি সুবিধা দিতে হবে অন্যান্য দেশের মতো। দ্রুততার সঙ্গে সঙ্কেত ছাড়াই সড়ক অতিক্রম করার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে উন্নত বিশ্বের টোল আদায়ের সঙ্গে আমাদের নতুন ব্যবস্থাপনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তার আগে পাশাপাশি দুটো সড়কের ব্যবস্থাপনায় ধীর ও দ্রুত গতির যানবাহনকে ভিন্নভাবে চালিত করতে হবে। বাড়তি সুবিধা না দিলে যানবাহন থেকে টোল আদায় সড়ক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পরিলক্ষিত হতে পারে। জনগণ থেকে আদায় করা ট্যাক্স থেকেই সরকার সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সংস্কার, সংরক্ষণসহ প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম চালায়। ধীরগতির গাড়ি এবং সাধারণ জনগণ সরকার নির্মিত সড়কে যাতায়াত করবে সেখানে তাদের টোল দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তবে সরকারী নির্দেশনায় টোল আদায়ের অর্থ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। বাংলাদেশের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা নতুন কিছু নয়। বর্ষণস্নাত এবং নদীমাতৃক বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কের দুর্দশা সব সময়ই দৃশ্যমান। এমন সব বিপন্ন সড়ক মেরামত করতেও বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়। টোল থেকে আদায়কৃত টাকায় সড়ক-মহাসড়কের বিপর্যস্ত অবস্থার সুরাহা করতে কাজে লাগবে। তবে সরকার সব সড়ক কিংবা মহাসড়ক নয়, শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-রংপুর সড়কেই টোল আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছে। সুতরাং সবদিক বিবেচনায় এনে জনস্বার্থের অনুকূলে নতুন প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরী।