২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেহাল ও বেদখল

  • আবদুর রহমান জামী

ফুটপাথ তৈরি করা হয়েছে পথচারীদের দাঁড়াবার জন্য, পথচারীদের চলাচলের জন্য, গণপরিবহনে ওঠার জন্য। কিন্তু সেই ফুটপাথ আজ অরক্ষিত, অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। ফুটপাথ যেন হয়ে উঠেছে মরণফাঁদ। বিআইডব্লিউটিসির সহব্যবস্থাপক কৃষ্ণা রাণী চৌধুরীর কথা আমরা সবাই জানি। তিনি ফুটপাথে দাঁড়িয়ে ছিলেন গাড়ির অপেক্ষায়। এমন সময় ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেসের একটি বাস ফুটপাথে উঠিয়ে দিয়ে কৃষ্ণা রাণীর পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বাসের ধাক্কায় ফুটপাথে পড়ে মাথা ফেটে মারা গেলেন আরেক কর্মজীবী নারী ফারহা নাজ। ৫ সেপ্টেম্বর সকাল নয়টার দিকে রাজধানীর মহাখালীর আমতলীতে ফ্লাই-ওভারের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফুটপাথ পথচারীদের জন্য ক্রমশ: হয়ে উঠছে অনিরাপদ ক্ষেত্রে। এখন স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে ফুটপাথ তৈরি হলো কিসের জন্য, কাদের জন্য? অবশ্য ফিটনেসবিহীন গাড়ির অবাধ চলাচল এবং লাইসেন্সবিহীন- মাদকাসক্ত চালকদের দৌরাত্ম্যের কারণে ফুটপাথও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে।

এদিকে ফুটপাথকে কেন্দ্র করে চলছে চাঁদাবাজির মহড়া। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে সারা দেশে সড়ক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হওয়ার সুযোগে বাস- ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানের পাশাপাশি ফুটপাথ থেকে চাঁদা তুলছে স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়ন, রাজনৈতিক সংগঠন, পুলিশসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী। চাঁদাই এখন ফুটপাথ বেদখলের চালিকাশক্তি। চাঁদাবাজির অর্থ প্রশাসনের সর্বপর্যায়ে ভাগ বাটোয়ারা হয়, এটি একটি ওপেন সিক্রেট। টাউট রাজনীতিবিদ এবং চাঁদাবাজির অশুভ চক্র ভাঙতে সরকারকে হতে হবে দৃঢ় প্রত্যয়ী। পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে গণপ্রতিরোধ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে