২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমঝোতাই একমাত্র পথ

  • আলোচনার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলে তালেবানের আশা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার দরজা এখনও খোলা আছে বলে মন্তব্য করেছে তালেবান। প্রতিনিধি দলের প্রধান শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই বিবিসির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে বলেন, সমঝোতাই আাফগানিস্তানে শান্তি ফেরানোর একমাত্র পথ। বিবিসি।

আফগানিস্তানে ১৮ বছরের যুদ্ধ বন্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও তালেবান নেতাদের সঙ্গে ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের বৈঠকে বসার কথা ছিল। কিন্তু একদিন আগে হঠাৎ করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সে বৈঠক বাতিল করে দেন। তিনি তালেবানের সঙ্গে আলোচনাকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন। তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা স্থগিত রাখার নির্দেশের কারণ হিসেবে ট্রাম্প কাবুলে ৬ সেপ্টেম্বরের বোমা হামলায় এক মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল তালেবান। তবে স্তানিকজাই মনে করেন, শান্তি আলোচনা বন্ধের পেছনে তালেবানদের দায় নেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতোই তারা হাজার হাজার তালেবানকে হত্যা করেছে। অপরদিকে এই সময়ে যদি একজন মার্কিন সৈন্য মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তাদের এই ধরনের প্রতিক্রিয়া মানায় না। কারণ এই সময়ে উভয়পক্ষের কাছ থেকে কোন ধরনের যুদ্ধবিরতি ছিল না। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে সমঝোতার জন্য আলোচনার দরজা খোলা আছে। আমরা আশা করি, আলোচনার স্বার্থে অপরপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

তালেবানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রধান ব্যক্তি ছিলেন জালমে খলিলজাদ। এই আলোচনার পূর্ণ ও সঠিক বিবরণের খসড়া পাওয়া যায়নি। খলিলজাদ বৈঠকের দিনকয়েক আগে ৩ সেপ্টেম্বর এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে চুক্তির কয়েকটি মূল বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টিও ছিল।

চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আগামী ২০ সপ্তাহের মধ্যে সে দেশ থেকে পাঁচ হাজার ৪০০ মার্কিন সৈন্য সরিয়ে নেবে ওয়াশিংটন। সৈন্য প্রত্যাহারের বিনিময়ে দেশটিকে ভবিষ্যতে আর কখনই বিদেশী সন্ত্রাসবাদের ভিত্তিভূমি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হবে না এমন প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি ছিল তালেবান। স্তানিকজাই বলেন, আফগানিস্তানে তালেবান ও বিদেশী সৈন্যদের (ন্যাটো) মধ্যে যুদ্ধবিরতি শান্তি চুক্তির পর কার্যকর হবে।এদিকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মঙ্গলবার নির্বাচনী সমাবেশে বোমা হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। হামলায় ২৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে অন্তত ৩১ জন। পারওয়ান প্রদেশের চারিকরে ওই নির্বাচনী জনসভায় প্রেসিডেন্ট গনি ভাষণ দিচ্ছিলেন। এ সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোন গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। প্রাদেশিক হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা আব্দুল কাশিম সানজিন বলেন, হতাহতদের মধ্যে নারী এবং শিশুও রয়েছে। তিনি বলেন, হতাহতের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে এ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে। বিস্ফোরণে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।