২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোরে মশাবাহিত নতুন রোগে ২৮ গরুর মৃত্যু

  • সাড়ে ৩ মাসে আক্রান্ত সাড়ে ১৬ হাজার

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ মশাবাহিত ‘লামপি স্কিন ডিজিজ’ নামে একটি নতুন ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদিপশু। এতে আক্রান্ত গরুর প্রথমে পা ফুলে যায়। এরপর জ্বর হয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে গোটা শরীরে বসন্তের মতো ফোঁসকা দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে ঘায়ে পরিণত হচ্ছে। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গরুপালক ও খামারিদের মাঝে। বাংলাদেশে এ বছরই প্রথম এ রোগ দেখা দিয়েছে।

যশোরেও এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত জুন থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যশোরের ৮ উপজেলায় ১৬ হাজার ৬শ’ ৭১টি গরু আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮টির। এছাড়া আক্রান্ত হওয়ার পর গর্ভপাত হয়েছে ১০৪টি গাভীর।

আক্রান্তের মধ্যে হালের বলদ, দুধের গাভী, সদ্যোজাত বাছুরও রয়েছে। আক্রান্ত গরুগুলোর পা ফুলে গেছে, সারা শরীরে বসন্তের মতো গুটিগুটি ফোঁসকা হয়েছে। পায়ের খুরায় ক্ষত দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত গরুগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে না। সারাক্ষণ চুপচাপ থাকছে। খাওয়ারও কোন আগ্রহ নেই। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ভবতোষ কান্তিসরকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নতুন এ রোগ নির্ণয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ইপিডেমিওলোজি ইউনিট এবং সাভারের প্রাণিসম্পদ ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা রোগাক্রান্ত গরুর নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সঠিক রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৫শ’ ৭৪টি গরু আক্রান্ত হয়েছে মনিরামপুর উপজেলায়। মৃত্যু হয়েছে ৫টি গরুর। এছাড়া এ উপজেলায় আক্রান্ত হওয়ার পর গর্ভপাত হয়েছে ২৫টি গাভীর। কেশবপুরে আক্রান্ত ৩ হাজার ২শ’ ৭৯ ও মৃত্যু ৩, গর্ভপাত ১০; শার্শা উপজেলায় আক্রান্ত ২ হাজার ৭শ’ ৫ ও মৃত্যু ২, গর্ভপাত ১২; অভয়নগরে আক্রান্ত ২ হাজার ৬শ’ ২৮ ও মৃত্যু ৩, গর্ভপাত ৭; ঝিকরগাছায় আক্রান্ত ২ হাজার ১শ’ ৪৭ ও মৃত্যু ৩, গর্ভপাত ১৪; সদর উপজেলায় আক্রান্ত এক হাজার ৩শ’ ১৩, মৃত্যু ৫, গর্ভপাত ২০; চৌগাছায় আক্রান্ত ৫শ’ ৮৪, মৃত্যু ৪, গর্ভপাত ৭; বাঘারপাড়ায় আক্রান্ত ৪শ’ ১১ ও মৃত্যু ৩, গর্ভপাত ৯। ডাঃ ভবতোষ কান্তি সরকার এই রোগ নিয়ে বিচলিত না হয়ে খামারি ও গরুপালকদের মশারির মধ্যে গরু রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

যশোর ডেইরির স্বত্বাধিকারী রিয়াজ মেহমুদ খান পাভেল জানান, প্রায় ৪ মাস নতুন এ সংক্রামক রোগ দেখা দিয়েছে। খামারি ছাড়াও গরুপালকেরা এ রোগ কিভাবে প্রতিরোধ করবে বুঝতে পারছে না। কিন্তু জেলা বা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যা হতাশাজনক। তবে ডাঃ ভবতোষ কান্তি সরকার জানান, এই রোগ অতটা মৃত্যুঝুঁকি নয়। তবে এতে গরুর অনেক ক্ষতি হয়। তাছাড়া গরুর মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি বলেন, এই রোগ দেখা দিলে অন্য গরু থেকে আক্রান্ত গরুকে আলাদা করে রাখতে হবে। মশার মাধ্যমে ছড়ানোর কারণে অবশ্যই রোগাক্রান্ত গরুকে মশারির মধ্যে রাখতে হবে। সুস্থ গরুও মশারির মধ্যে রাখলে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা কম থাকে। রোগের উপসর্গ দেখে চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন তিনি। আর এভাবে ৪ থেকে ৫ দিন অতিবাহিত হলে যদি ক্ষত জায়গা বেশি খারাপ হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে আগে কখনো দেখা যায়নি এ রোগ। তবে ৯০-এর দশকে আফ্রিকাতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল। মূলত মশার কামড় থেকে এ রোগ ছড়ায়। এবার বাংলাদেশের অনেক স্থানেই এই রোগ দেখা দিয়েছে।