১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে ৫ বছরের প্রকল্প নেবে ডিএসসিসি

ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে ৫ বছরের প্রকল্প নেবে ডিএসসিসি
  • সিঙ্গাপুর সফরের অভিজ্ঞতা জানালেন মেয়র খোকন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ, নির্মূল এবং এ সমস্যাকে স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে ৫ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ডেঙ্গু রোগীদের এলাকাভিত্তিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নে কারিগরি সহায়তা নিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর যান মেয়র সাঈদ খোকন। সফর শেষে দেশে ফিরে অভিজ্ঞতা জানাতে মঙ্গলবার ডিএসসিসির নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র একথা বলেন। এ সময় ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদসহ সংস্থাটির উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গুর তথ্য প্রদানে অসহযোগিতা সম্পর্কে মেয়র বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরকে বারবার বলা হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ডেঙ্গু রোগীদের এলাকাভিত্তিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় কত ডেঙ্গু রোগী রয়েছে, সে বিষয়ে আমরা বারবার বলার পরেও স্বাস্থ্য অধিদফতরে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের নির্দিষ্ট করে এলাকাভিত্তিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তালিকা দেয়া হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হতো।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সব প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমরা আগস্টে ঘোষণা দিয়েছিলাম সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে। এখন সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ চলে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব যে একেবারে শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে বিষয়টা এমন নয়। তবে ঢাকায় এর প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কিন্তু সারাদেশে প্রকোপ এখনও রয়েছে। ৫ বছর মেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ সম্পর্কে সাঈদ খোকন বলেন, আমাদের বিদ্যমান জনবল কাঠামো সংশোধনের মধ্য দিয়ে কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল এ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট নামে একটা বিভাগ তৈরি করতে চাই। যার মাধ্যমে আমাদের গৃহীত প্রকল্প ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি।

সাঈদ খোকন বলেন, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে তারা সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে এডিস মশক নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন, কর্মপদ্ধতি অবলোকন, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনস্বাস্থ্যগত নানা বিষয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছি। সিঙ্গাপুর থেকেই ডেঙ্গু কম্প্রিহেন্সিভ ম্যানেজমেন্ট, সার্ভিলেন্স, ডেঙ্গু কন্ট্রোল, রিস্ক এ্যাসেসমেন্ট, কেস ম্যানেজমেন্ট, ডেঙ্গু আউটব্রেকসহ সার্বিক বিষয়ে আমরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছি। সিঙ্গাপুর সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন দেশটির মিনিস্ট্রি অব এনভায়রনমেন্ট, মিনিস্ট্রি অব হেলথ এবং হেলথ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য একমত হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার পর আমাদের মধ্যে একটি স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই শহরে এবারের মতো পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, আগামী বছর যাতে আমরা আমাদের নাগরিকদের ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারি সেই প্রচেষ্টা নেয়া হচ্ছে।

গত আগস্টে মেয়র সাঈদ খোকন বলেছিলেন ডিএসসিসির ১১টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুমুক্ত, সেই ওয়ার্ডগুলোর এখন কী অবস্থা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ওই সময় স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সার্ভে করে আমাকে বলেছিল ডিএসসিসির কয়েকটি ওয়ার্ড এডিসের লার্ভামুক্ত। আবার বেশকিছু ওয়ার্ডে লার্ভার ঝুঁকি রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, সেখানে সারাবছর ধরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলে। মাঠ পর্যায়ে জরিপ এবং তদারকি হয়, ল্যাবে গবেষণা হয়। প্রযুক্তির ব্যবহার করে মোবাইল অ্যাপ এর মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হয়।

ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ আহমেদ ডেঙ্গুর সম্পর্কে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।