২২ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বোঝা না বোঝার দোলাচলে ॥ ওয়ানস আপনে টাইম ইন হলিউড

  • নিশাত হোসেন বর্ণা

সিনেমার গল্পটা কি ছিল? কেন লক্ষ্যে এগিয়ে মাহারথিদের এই সিনেমা! স্পয়লার না জানতে চাইলেও হল থেকে বেরিয়ে আসার পর এই প্রশ্ন শুনতেই হবে। এখানেই যে কোন উত্তর নেই! কোন গল্পই ছিল না। তাহলে এবার গল্প না থাকার গল্পটা বলা যাক। কোয়েন্টিন টারান্টিনোর একজন ভক্ত হিসেবে অধীর আগ্রহ ছিল Once upon a time in Hollywood নিয়ে। কিছুদিন হল সিনেমাবোদ্ধারা টারান্টিনোর কারিশমা নিয়ে বলেছেন tarantined by quentin directino। কারিশমার কথার বাইরেও আছে হলিউডের কালজয়ী দুই অভিনেতা। ব্র্যাড পিট এবং লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। মার্গো রবির কথাও বলতে হবে এই দুজনের সঙ্গে সঙ্গে এবার গল্পে আসা যাক। গল্প ছাড়া যে সিনেমা হতে পারে হয়ত এই সিনেমাই তার প্রমাণ। অসাধারণ টারান্টিনীয় সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং, পিট এবং লিও’র দারুণ অভিনয়, ডায়ালগ প্রায় সব কিছুতেই সিনেমাটি দর্শকের মন ভরিয়ে দিতে পারে। মূলত ৬০ এর দশকে হলিউড অভিনেতা রিক ডালটোনের সিনেমা হলের গলিতে সংগ্রাম করার ছবি ফুটে উঠেছে এই সিনেমায়। শুটিংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় শটে অবিচ্ছেদ্য অংশ হল স্টান্ট ডাবল। ক্লিফ বুথ ছিলেন তার স্টান্ট ম্যান। কিন্তু বাস্তবে একজন স্টান্ট ডাবলের থেকে অনেক বেশি কিছু ছিলেন ক্লিফ বুথ। হয়ে উঠেছিলেন রিকের ছায়া এবং সব থেকে কাছের বন্ধু। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রিকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে দিনশেষে আলো ঝলমলে দুনিয়ার পর ক্লিফ ফিরে যেত তার পৃথিবীতে যেটা হয়তো রিকের জীবনের কাছাকাছিও না। সিনেমাতে ক্লিফ বুথের ব্যক্তিগত জীবনের অল্প হলেও দেখা গেছে। শেষ দিকে দেখা যাবে শারোন তাতেকে।

সিনেমাটি কি বাস্তব ঘটনা নিয়ে কিনা সেটা নিয়ে দর্শকরা বেশ বিভ্রান্ত। হিস্ট্রিহলিউড জানিয়েছে সম্পূর্ণ বাস্তব ঘটনা নিয়ে নির্মিত না হলেও বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত বা বাস্তবের উপজীব্য থেকেই সিনেমার চিত্রনাট্য এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। শারোন তাতের পরিবার থেকেও টারান্টিনো শুভকামনা পেয়েছিলেন।

টারান্টিনোর অন্যান্য সিনেমাগুলোর মতো দুর্দান্ত ডায়ালগ, ভায়োলেন্স আশা করলে হতাশ হতে হবে। তার ওপর ষাটের দশকের হলিউড নিয়ে জানা না থাকলে বা জানার আগ্রহ না থাকলে এই সিনেমার আকর্ষণ অনেকটাই কমে যাবে। হ্যাঁ তবে এই বিষয়ে যথেষ্ট জানা থাকলে এই সিনেমা রূপকথাই মনে হবে। ষাটের দশককেও সিনেমায় নিখুঁতভাবে দেখিয়েছেন পরিচালক। সিনেমার প্রথম দিকের ধীর গতি থাকলেও শেষদিকটা বরাবরের মতো চমকপ্রদ। সব মিলে এই সিনেমাকে একটি নতুন ধাঁচ তৈরি চেষ্টা বলেই মনে হয়েছে বেশি। তবে দুই অভিনেতায় দর্শকের মন জয় হতে বাধ্য। তবে অনেক কিছু না থাকার পরেও কেন যেন সিনেমাটিকে খারাপ বলা যায় না। টারান্টিনোর ভেলকি মনে হয় এখানেই।