১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিমানের রাজহংস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের চতুর্থ ড্রিমলাইনার রাজহংসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে বাংলাদেশ বিমানে সংযুক্ত হয়েছে গাঙচিল, হংসবলাকা ও আকাশবীণা। এতে করে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমানবহর আরও উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ হলো নিঃসন্দেহে। এর পাশাপাশি আরও তিনটি ড্যাশ বোম্বার্ডিয়ার বিমান কেনার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ বেশ ভাল থাকায় প্রধানমন্ত্রী বোয়িং কোম্পানির বিক্রির সারিতে থাকা আরও দুটি বিমান কেনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দেশ-বিদেশে জাতীয় পতাকাবাহী রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি যাত্রী সেবার মান বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এসব ক্ষেত্রে বিমানের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা সংবলিত নতুন বোয়িং, যেটি রাজহংস নামে সর্বশেষ সংযুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ বিমান বহরে। ২০১৭-এর ৫ সেপ্টেম্বর ড্রিমলাইনার আকাশবীণার প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরে উড়ে যায় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর। শ্রুতিমধুর নামগুলোও তাঁরই দেয়া। প্রাথমিকভাবে ঢাকা-সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহন করছে আকাশবীণা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অপেক্ষাকৃত সুদূর গন্তব্যে ড্রিমলাইনারের মাধ্যমে যাতায়াত সুগম ও সাশ্রয়ী হয়। সে অবস্থায় বাংলাদেশ বিমানের উচিত হবে নতুন করে ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইটের পাশাপাশি ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর সর্বাত্মক চেষ্টা করা। রাজহংসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিমানে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬টিতে। তবে বিমানের লাভ-লোকসান নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এর অবসান হওয়া দরকার অনতিবিলম্বে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরী ও অত্যাবশ্যক।

বাংলাদেশ বিমানের অনিয়ম-অব্যবস্থা-ঘুষ-দুর্নীতি-অদক্ষতা নিয়ে এমনিতেই অভিযোগের অন্ত নেই। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বাংলাদেশ বিমান পরিচালনায় বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত চৌকস ও অভিজ্ঞ পাইলটদের নিয়োগ দিয়েও তেমন সুফল মেলেনি। এমনকি বিদেশী পেশাদার প্রধান নির্বাহী নিয়োগেও আদৌ কোন ইতিবাচক উন্নতি হয়নি বিমানের। সংস্থাটির শক্তিশালী ইউনিয়ন ও অসাধু চক্র নিয়েও সময়ে সময়ে অভিযোগ উঠেছে বিস্তর। কথায় কথায় বিমানের চাকা বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও আছে। সর্বোপরি আছে বছরওয়ারি ভিত্তিতে অপরিমেয় লোকসানের বোঝা। তবে এসব কিছু ছাপিয়েই বাংলাদেশ বিমানের সমালোচনার অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক ফ্লাইট নিয়ে নানাবিধ বিপত্তি, যা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, স্পর্শকাতরও বটে। রাষ্ট্রীয় কার্যোপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী যতবারই বাইরে গেছেন, প্রায় ততবারই প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতিসহ কোন না কোন অঘটন ধরা পড়েছে। জঙ্গী সন্ত্রাসী ও জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিমানের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে গ্রাউন্ডেড করা হলেও সেটি থমকে আছে সেখানেই। প্রশ্ন হলো, প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটেই কেন বার বার এ রকম অনিয়ম-অঘটন, অপতৎপরতা, অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার ঘটনা ঘটবে? সত্য বটে, প্রশাসনের স্তরে স্তরে স্বাধীনতাবিরোধী দুষ্টচক্র তথা জামায়াত-বিএনপি-জঙ্গী ইত্যাদি ঘাপটি মেরে আছে। বিমানও এর ব্যতিক্রম নয়। এদের ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে অবিলম্বে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে কোন হেলাফেলা কাম্য নয়। এর পাশাপাশি সর্বতোভাবে লাভজনক করে তুলতে হবে বাংলাদেশ বিমানকে।