১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র

দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) নিয়মিত সভায় প্রায় ২৩৮৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। ভেজাল খাদ্যসহ বিভিন্ন কারণে দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তবে চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র হলো মূলত ঢাকায়। অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার নিরাময়ের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) সম্প্রতি এক তথ্যে রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুহারের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এই প্রাণঘাতী রোগটির কারণে মৃত্যু হয় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষের। অথচ চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতার কারণে অনেকে ঠিকমতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পায় না। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আক্রান্ত গরিব রোগীদের রাজধানীতে এসে চিকিৎসা সেবা নেয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।

ঢাকা ছাড়া বিভাগীয় অন্যান্য শহরে চিকিৎসা কেন্দ্রে ক্যান্সার নিরোধক কোন ধরনের ক্যামোথেরাপি কিংবা প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকায় রোগীরা বিপন্ন অবস্থায় পড়ে যায়। কিছু বেসরকারী হাসপাতালে ক্যান্সার নিরাময় কেন্দ্র থাকলেও তা এত ব্যয়বহুল যে, সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে থাকে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি দশ লাখ লোকের জন্য ১টি করে রেডিওথেরাপি চিকিৎসা সুবিধা সংবলিত ক্যান্সার সেবা কেন্দ্র থাকা আবশ্যক। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য ১৬০টি ক্যান্সার কেন্দ্র থাকা বাঞ্ছনীয়। ব্যাপারটির গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকার ক্যান্সারের জন্য একটি বৃহৎ কর্মপ্রকল্প গ্রহণ করেছে। নতুন এই প্রকল্পে বিভাগীয় ৮ শহরের মূল চিকিৎসালয়ের সঙ্গে ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। দুই তলার বেজমেন্ট ও ১৫ তলার ফাউন্ডেশনে ১৭ তলা ভবন নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। চলতি অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২২ সালে এই বিরাট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দায়িত্বে এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের প্রয়োজনে কেনাকাটার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা পালনের নির্দেশ দেন। কারণ ইতোমধ্যে রূপপুর বিদ্যুত প্রকল্পের বহুতল ভবনের আসবাবপত্র, বালিশ এবং মশারির মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সারাদেশে হৈ চৈ পড়ে গেছে। এমন অনাকাক্সিক্ষত বিতর্কের ব্যাপারেও সবাইকে সাবধান হতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন ধরনের অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অবহিত করবেন। এর সমাধান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। আর আবাসন প্রকল্পের নির্মাণে পুকুর, জলাশয়, সুপেয় পানির আধার কিংবা অনাবশ্যক গাছ কাটার মতো কোন বিপন্ন অবস্থা যেন তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গাছ তো কাটাই যাবে না, বরং নতুন বৃক্ষরোপণ করে সবুজ প্রকৃতিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ মানুষ জনবান্ধব এই সব প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করে।