২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়ক আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হচ্ছে

  • জেলার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হবে

রফিকুল ইসলাম আধার, শেরপুর, ২০ সেপ্টেম্বর ॥ অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে এ জেলার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামষ্টিক উন্নতির পথ আরও প্রশস্ত হবে। রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সঙ্গে শেরপুরের লাখ লাখ মানুষের চলাচল সহজ ও গতিময় হওয়ার পাশাপাশি দূর-দূরান্তের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান গারো পাহাড়ের পাদদেশে পর্যটন সুবিধার আরও বিকাশ ঘটবে। এছাড়া ঢাকা থেকে সবচেয়ে কম ২শ’ কিলোমিটার দূরত্বের ভারতীয় সীমান্তে ইমিগ্রেশনসহ নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতুবন্ধনও সুদৃঢ় হবে।

জানা যায়, প্রান্তিক-সীমান্তবর্তী কৃষি ও খাদ্য সমৃদ্ধ জেলা শেরপুরের পাশাপাশি জামালপুরের বকশীগঞ্জ, কামালপুর এবং উত্তরাঞ্চলের রাজীবপুর-রৌমারী-কুড়িগ্রামসহ রংপুর এর-গাইবান্ধার কিছু অংশের মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম শেরপুর-ময়মনসিংহ ভায়া ফুলপুর সড়ক। কাজেই শেরপুরসহ ওইসব অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের রাজধানী ঢাকা এবং বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম ও পর্যটন এলাকা কক্সবাজারসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও বৃহত্তর জেলাগুলোতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ওই সড়কটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর ৮০’র দশক পর্যন্তও ছিল না শেরপুর-ময়মনসিংহ ভায়া ফুলপুরে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। পরবর্তীতে ৯০ দশকের শুরুতে শেরপুর-ময়মনসিংহ সংযোগস্থলে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর চীন-মৈত্রী ব্রিজ (শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ)সহ শেরপুর-ময়মনসিংহ সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং তার মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যাতায়াতে সূচিত হয় নতুন দিগন্ত।

কিন্তু তার পর থেকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাতায়াত বাহন গাড়ি বেড়ে গেলেও সড়ক প্রশস্ততার অভাবে যানজটসহ নানা সমস্যায় প্রতিদিন ওই পথে যাতায়াতকারী লাখো যাত্রী সাধারণকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওই দুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘদিন থেকেই শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়কটি ফোর লেনসহ জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করার দাবি উঠে আসছিল। ২০১৫ সালে শেরপুরসহ চার জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের লিখিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেই দাবিতে যোগ হয় নতুন মাত্রা। পরিষদের তরফ থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং সড়ক যোগাযোগ ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব নজরুল ইসলামসহ বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ ও সেই দাবি আদায়ে তৎপরতায় মেলে ব্যাপক সাড়া। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের এক সভায় ময়মনসিংহ (রঘুরামপুর)-ফুলপুর-নকলা-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-৩৭১) নামে বৃহৎ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, ওই প্রকল্পের আওতায় শেরপুর-ময়মনসিংহ ভায়া ফুলপুর-নকলা আঞ্চলিক মহাসড়কটি ফোরলেনের কাছাকাছি প্রায় ৩৬ ফুট প্রশস্ত করা হবে। এর মধ্যে শেরপুর সড়ক বিভাগের আওতায় ৩০.৪০ কিমি. ও ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগের আওতায় ৩৭.৮৬ কিমি. সড়কসহ মোট ৬৮.২৬ কিমি. সড়ক রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৫৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

একনেকের সভায় শেরপুর-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ায় শেরপুর ও ময়মনসিংহসহ সংশ্লিøষ্ট সুবিধাভোগী অঞ্চলের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান তার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এর মধ্য দিয়ে শেরপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ এবং প্রতীক্ষার অবসান হলো। সেইসঙ্গে তিনি দ্রুততম সময়ে মানসম্পন্নভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে আঞ্চলিক মহাসড়কটি ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন। শেরপুর নাগরিক সংগঠনের নেতা মনিরুল ইসলাম লিটন ও জনউদ্যোগ আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শেরপুরের সঙ্গে রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের যোগাযোগ সহজ করা। আর তাই এখন দ্রুত শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হলে আমাদের সেই দাবি পূরণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটন এলাকা গারো পাহাড়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের যাতায়াত বাড়বে। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত আরও সমৃদ্ধ হবে।

এ বিষয়ে শেরপুরের সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার দুপুরে দৈনিক জনকণ্ঠকে জানান, শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করা বিষয়ে ইতোমধ্যে একনেকের সভায় অনুমোদন হয়েছে। এটিই মূলত প্রধান কাজ ছিল। এখন পদ্ধতিগত ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় নেয়া হবে। আশা করছি পরবর্তী দু’এক মাসের মধ্যে ফান্ড বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সড়কের দু’পাশের গাছপালা নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পাশাপাশি দরপত্র আহ্বান করা হবে। দ্রুততম সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে সমান্তরালেও কাজ চলতে পারে। তিনি জানান, শেরপুর অংশে এখন সড়কের প্রশস্ততা ১৮ ফুট। নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ না করেও আঞ্চলিক মহাসড়কের আওতায় তা ৩৬ ফুটের স্থলে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়া শহরের থানামোড় থেকে খোয়ারপাড় মোড় পর্যন্ত জায়গা কম থাকায় ওই অংশের প্রশস্ততা আরও একটু কম হতে পারে।