১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তৎপরতায় হিযবুত

শুক্রবার জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীরের নতুন করে তৎপর হওয়ার যে চিত্র উঠে এসেছে তা উদ্বেগজনক। এরা এখন সরকার উৎখাতে উস্কানি দিচ্ছে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছে এবং সেইসঙ্গে জঙ্গীবাদী নিজস্ব গঠনতন্ত্র বিতরণ করছে। বছরে কয়েককবার এই জঙ্গী সংগঠনের কর্মীদের পাকড়াও করার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সংগঠনের সক্রিয় তৎপরতার তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ সংক্রান্ত সফলতা বেশ কম।

বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হিযবুত তাহরীর কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও বিভিন্ন সময় সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। খোদ রাজধানীতেই তারা ঝটিকা মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্স করে এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিশ্ববিদ্যালগুলোতে ব্যাপক পোস্টারিং করে হিযবুত তাহরীর তাদের সাংগঠনিক শক্তি জানান দেয়ার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে আরও বেশি সংগঠিত ও শক্তিশালী হয়েছে তারা। আমরা লক্ষ্য করেছি সচ্ছল পরিবারের সন্তান ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া যুবকদের টার্গেট করে কার্যক্রম চালায় তারা। বছর কয়েক ধরে তাদের নারী সংগঠনও সক্রিয় রয়েছে। বাড়ছে তাদের নারী কর্মীর সংখ্যা। দলের কর্মীদের দাবি, সবকটি বিভাগীয় শহরে তাদের সংগঠন রয়েছে। কোন কর্মী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলে কিংবা সংগঠনের যে কোন খবর মিডিয়ায় প্রকাশের লক্ষ্যে কর্মীরা নিয়মিত গণমাধ্যম অফিসে গিয়ে হাতে হাতে প্রেস রিলিজ পৌঁছে দেয়ার ঘটনাও ইতোপূর্বে ঘটেছে।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাতের আঁধারে, কখনও দিনের বেলায় দেয়ালে লাগানো হচ্ছে সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক উগ্রবাদী পোস্টার। কৌশলে তুলে দেয়া হচ্ছে তাদের কথিত গঠনতন্ত্র। এছাড়া পোস্টার ও প্রচারপত্রে ‘খিলাফত রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠায় আমাদের দেশপ্রেমিক সুশৃঙ্খল বাহিনীকেও উস্কানি দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ৫ বছরে ঢাকাসহ সারাদেশে আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্ত হয়েছে হিযবুতের অন্তত সাড়ে চার শ’ সক্রিয় সদস্য। শতাধিক হিযবুত সদস্য বিদেশে পালিয়ে গিয়ে সংগঠনকে সক্রিয় করছে বলেও তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হিযবুত তাহরীরের তৎপরতাকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। এ তৎপরতা বন্ধে এর সদস্যদের ধরতে বিশেষভাবে সক্রিয় হতে হবে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

হিযবুত তাহরীর ভবিষ্যতে আইএসের চেয়েও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা পোষণ করেন পর্যবেক্ষক মহল। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা হিযবুত তাহরীরকে চরম উদ্বেগের কারণ হিসেবে অভিহিত করে যথার্থই বলেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। যারাই সংগঠনটির সদস্যদের মদদ দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। আর আদালত থেকে যাতে জঙ্গীরা জামিন নিতে না পারে সেজন্য মামলা পরিচালনা, তদন্তসহ সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপগুলো সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।