২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদেও জুয়ার আসর

  • র‌্যাবের অভিযান

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব বলছে, এই ক্লাবেও জুয়ার আসর বসার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। ঢাকায় জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে শনিবার সন্ধ্যার পর চট্টগ্রাম নগরীর তিনটি ক্লাব ঘিরে অবস্থান নেন র‌্যাব সদস্যরা। প্রথমে নগরীর আইস ফ্যাক্টরি রোডের মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদে ঢুকে তল্লাশি শুরু করে র‌্যাবের অভিযানিক দল। ওদিকে সদরঘাট এলাকার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং হালিশহর এলাকার আবাহনী লিমিটেড ক্লাব ঘিরে রেখেছেন র‌্যাব সদস্যরা।

অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজামউদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদে তল্লাশির এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে জুয়া খেলা হতো-এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। জুয়া খেলার চিপ, কার্ড ও খাতাপত্র পেয়েছি। কিছু টেবিল পাওয়া গেছে সেগুলোতে জুয়ার আসর বসত বলে ধারণা করছি।’ অভিযানের জন্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়া র‌্যাবের এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অভিযান হতে পারে বুঝতে পেরে ক্লাব থেকে জুয়ার সরঞ্জাম সরিয়ে রাখা হয়েছে। ‘আমরা সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’ অভিযানে এই ক্লাবে কাউকে পাননি র‌্যাব সদস্যরা। এই ক্লাব পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হারুন-আর-রশিদ।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের কমান্ডার মোঃ সাহাবুদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট ক্লাবটি পরিচালনা করত। ‘বছর তিনেক আগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।’ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম মহানগরের সহ কমান্ডার খোরশেদ আলম বলেন, তিন বছর আগে খসর নামে একজনকে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকায় ক্লাবটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। বেশ কিছু দিন ধরে বৃষ্টি হলে পেছনের নালা দিয়ে ক্লাবে পানি ঢোকে।

‘ক্লাবটি মেরামত করে না দেয়ায় ছয় মাস আগে আর চুক্তি নবায়ন করেননি খোরশেদ। এরপর কয়েক মাস ধরে এখানে আর কার্ড খেলা হয় না।’ গত বুধবার ঢাকার ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রসহ চারটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, মদ, বিয়ার ও জুয়ার কয়েক লাখ টাকা উদ্ধার করে র‌্যাব। ক্যাসিনো চালানোয় যুবলীগের ঢাকা মহানগরের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবারও কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ও ধানমণ্ডি ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। কলাবাগান ক্রীড়াচক্র থেকে ক্লাবের সভাপতি কৃষকলীগ নেতা সফিকুল আলম ফিরোজসহ পাঁচজনকে অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। চট্টগ্রামেও শুক্রবার রাতে জুয়াবিরোধী অভিযান চালানো হয়। নগরীর আলমাস মোড়ে ‘হ্যাং আউট’ নামের একটি ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অনুমতি ছাড়া পুল ও স্নুকার খেলা হতো, ওই ক্লাব মালিকের ছেলে খলিকুজ্জামান ও কর্মচারী রবিউল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।