১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পর্যটক হয়ে মহাকাশে বেড়ানোর সুযোগ, রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

পর্যটক হয়ে মহাকাশে  বেড়ানোর সুযোগ,  রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা
  • আগামী বছর থেকে শুরু স্বপ্নের স্পেস ট্যুরিজম

মোরসালিন মিজান ॥ জীবনের বোঝা সত্যি খুব ভারি। তবে আপনি চাইলেই ভারমুক্ত হতে পারেন। সুযোগ আছে। অনেকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, বেশি করে কাঁদো। কেঁদে হাল্কা হও। না, হাল্কা হওয়ার জন্য আর চোখের পানি, নাকের পানি এক করতে হবে না। বরং স্পেস স্টেশন থেকে ঘুরে আসুন। এর ভেতরে প্রবেশ করতেই তুলোর মতো হাল্কা হয়ে যাবে শরীর। মনের মতো ভেসে বেড়াতে পারবেন আপনি। ভাবছেন, আমি চাইলেই কি আর নাসা আমাকে নেবে? নেবে। পর্যটক হয়ে মহাকাশে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন আপনিও। তবে, হ্যাঁ, এ জন্য কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা থাকা চাই। অযুত লক্ষ নিযুত কোটি বিনিয়োগ করতে হবে। বেশিরভাগ মানুষ শেষ বয়সে এসে অর্থবিত্তের মালিক হন। ততদিনে শরীরে বাতের ব্যথা। এমন ব্যথা বা দুর্বলতা থাকলেও চলবে না। অর্থের পাশাপাশি ফিটনেসের পরীক্ষায় পাস করতে হবে। তবেই মহাকাশ ভ্রমণের বিরল অভিজ্ঞতা নেয়া সম্ভব হবে। সম্প্রতি মহাকাশ স্টেশনে পর্যটক পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। আগামী বছর থেকে শুরু হতে পারে প্রক্রিয়া। নাসার ঘোষণার পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্পেস ট্যুরিজম।

পৃথিবীর কোন্ প্রান্তে কী বিস্ময় লুকিয়ে আছে, মোটামুটি তা জেনে গেছে মানুষ। এখন তাই মহাকাশের দিকে মূল দৃষ্টি। সে লক্ষ্যে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করা হয়েছে। এ উপগ্রহ স্পেস স্টেশন নামে পরিচিত। এটি শুধু বসবাসযোগ্য নয়, বাসাবাড়ির মতোও বলা যায়! পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সমন্বিত প্রকল্প পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায়। তবে বহু বহুদূরে এর অবস্থান। স্টেশনটি দিনে ১৫.৭ বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। পৃথিবীতে অসম্ভব অথবা কঠিন এমন কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয় স্পেস স্টেশনে। কিন্তু পর্যটক হয়ে সেখানে যাওয়ার যে রোমাঞ্চ তার কোন তুলনা হয় না। যে কারও জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হতে পারে এ ভ্রমণ।

নাসা জানাচ্ছে, ব্যক্তিগত খরচে ২০২০ সাল হতে পর্যটকরা মহাকাশ স্টেশনে যেতে পারবেন। দুটি বেসরকাঈ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই আনা-নেয়ার কাজ হবে। একটি ইলন মাস্কের স্পেস এক্স। প্রতিষ্ঠানটি পর্যটক পরিবহনে ড্রাগন ক্যাপসুল ব্যবহার করবে। একই কাজ করবে বোয়িং। সে লক্ষ্যে স্টারলাইনার নামে মহাকাশ যান তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

নাসার প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা জেফ ডেউইট সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী পাঠাতে তাদের এখন খরচ হয় আট কোটি ডলার। পর্যটক পাঠানো হবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে। সে ক্ষেত্রে পর্যটকদের জনপ্রতি পাঁচ কোটি আশি লাখ ডলার খরচ করতে হতে পারে। বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৪৯৩ কোটি টাকা। প্রতিরাতের ভাড়া হিসেবে দিতে হবে ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতিদিন লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম এবং প্রসাধনী ব্যবহার বাবদ গুনতে হবে ১১ হাজার ২৫০ ডলার। খাওয়া, দাওয়া, অক্সিজেন ও চিকিৎসায় ব্যয় করতে হবে সাড়ে ২২ হাজার ডলার। এত খরচের পরও প্রতিবছর কয়েকজনের বেশি পর্যটক এই সুযোগ পাবেন না। যারা সুযোগ পাবেন তারা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে একমাস পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন।

কিন্তু এত এত টাকা খরচ করে পর্যটকরা মহাকাশ স্টেশনে যাবেন। তার পর? সেখানে গিয়ে কী করবেন তারা? এমন প্রশ্ন যে কারও মনে উঁকি দেবে। তাদের জন্য বলা, জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্যই এই ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মহাকাশ স্টেশনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘জিরো গ্র্যাভিটি।’ পর্যটকরা হঠাৎ ওজনহীন হয়ে যাওয়া শরীর শূন্যে ভাসিয়ে দিতে পারবেন। মহাকাশের বিস্ময়কর সব দৃশ্য দেখার সুযোগ পাবেন। সেখান থেকে দেখা যাবে পৃথিবীকেও। নাসা বলছে, ব্যাডমিন্টন খেলারও নাকি সুযোগ রাখা হতে পারে। নাসার ওয়েবসাইট ঘুরে স্পেস স্টেশনে বসে দাবা খেলার ছবি দেখা গেছে বটে। ব্যাডমিন্টন কী করে সম্ভব? না, উত্তরটি সাধারণের কাছে এখনও পরিষ্কার নয়।

অবশ্য বাণিজ্যিকভাবে পর্যটক নেয়ার একটি বড় কারণও আছে। সে কথা জানিয়ে নাসার কর্মকর্তা বিল গেরস্টেনমেইনার বলেছেন, আমরা ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে প্রথম মহিলা নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করছি। একই সঙ্গে নতুন করে চন্দ্র অভিযান শুরু করা হবে। এর পর মঙ্গলগ্রহেও অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হবে। এ জন্য তহবিল গঠন করতে স্পেস স্টেশন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, এর আগেও ব্যক্তিগত খরচে স্পেস স্টেশন ভ্রমণের নজির আছে। নিজ খরচে স্পেস স্টেশন ঘুরে এসেছেন দুই ব্যক্তি। একজনের নাম প্যাট্রিক বাড্রি। আফ্রিকার ক্যামেরুনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মের সময় এটি একটি ফরাসী কলোনি ছিল। এ কারণে তাকে একজন ফরাসী নাগরিক হিসেবেও গণ্য করা হয়। পরে একই রকম ভ্রমণে যান মার্ক রিচার্ড শাটলওয়ার্থ। দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক একজন উদ্যোক্তা। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ দুই হাজার ২৫০ লাখ০ মার্কিন ডলার! অর্থাৎ, প্রচুর টাকা এবং সেই টাকা খরচ করার মতো বড় মন থাকলেই মহাকাশে বেড়িয়ে আসতে পারবেন আপনি।