১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘পরিবেশের সঙ্গে যিনি খাপ খাওয়াতে সক্ষম তাকেই বিদেশে পাঠানো উচিত‘

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। নৈতিক অভিবাসনের বিপক্ষে যদি কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে চাই। এখানে কোন আপোস নয়। রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে (আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে) ‘অভিবাসী নারী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে করণীয়’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক জনাব সেলিম রেজা, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক ড. নুরুল ইসলাম, ড. তাসনিম সিদ্দিকী, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, রিফিউজি এ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু), লিলি জাহান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশী অভিবাসী মহিলা শ্রমিক এ্যাসোসিয়েশন (বোমসা), মোঃ ফারুখ আহমেদ, মহাসচিব ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য রাইটস অব বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্টস, সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডাঃ ফওজিয়া মোসলেম, ডাঃ মাখদুমা নার্গিস, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রৌনক জাহান আরও বলেন, আমাদের দেশ জনসংখ্যার ভারে ভারাক্রান্ত। এই জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। অভিবাসনের ক্ষেত্রে যে দালালচক্র সক্রিয় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নিলে অভিবাসীদের ঝুঁকি কমে আসবে। বিদেশ গিয়ে কাজ করতে যিনি সক্ষম, দক্ষ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম তাকেই পাঠানো উচিত। অভিবাসন প্রক্রিয়াকে গুণগত দিক থেকে উন্নত করতে আমাদের সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে।

আয়শা খানম বলেন, নারী অভিবাসনের বহুমাত্রিক সম্ভাবনা আছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গিয়ে অনেক আর্থসামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া নারী নিজেকে দক্ষ না করেই কাজের জন্য বাইরে যাচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এরজন্য আমাদের কাজ করতে হবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের অর্জনের দিক অনেক। কিছু নেতিবাচক দিক আছে অভিবাসনে সেক্ষেত্রে দক্ষ উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাছাইকৃত কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আরও জোর দিতে পারলে অভিবাসন প্রক্রিয়ার সুফল আমরা পাব।

এ্যাম্বাসি অব সুইজারল্যান্ডের মাইগ্রেশন এ্যান্ড লোকাল গবর্নেন্স এর প্রোগ্রাম অফিসার নাদিম রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক নীতিমালা অবমুক্ত করা হয়েছে। এখানে ৭৩টি কার্যক্রমের কথা বলা হয়েছে যেটি বাস্তবায়ন করতে পারলে অভিবাসী নারীদের জন্য ফলপ্রসূ হবে। পাশাপাশি যেসব নারী কর্মী হিসেবে যাবেন তাদের যাওয়ার পূর্বে কর্মস্থলের বিষয়ে সঠিক ধারণা দিতে হবে। নিজেদের মনোসামাজিক দিকে প্রস্তুত রাখতে হবে।

রিফিউজি এ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন অভিবাসন কে দুটিদিক থেকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে- উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে এবং যারা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে তাদের মানবেতর জীবনযাপন। গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষের চেয়ে ৩.১২ ভাগ অভিবাসী নারী বেশি উপার্জন করছে । অভাবে পড়ে অনেক নারী নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করতে দেশের বাইরে যাচ্ছে। কিন্তু এসব নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে এখনও অনেক কাজ করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোও অভিবাসনের বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রচারে দায়বদ্ধ কিন্তু সেটি পূরণ হয়নি।

বাংলাদেশী অভিবাসী মহিলা শ্রমিক এ্যাসোসিয়েশন (বোমসা) চেয়ারম্যান লিলি জাহান বলেন, অভিবাসী নারী কর্মীদের অনেকেই শিক্ষিত নয়, দক্ষতার অভাব রয়েছে। বর্তমানে অনেক সেবা থাকার পরও নারীরা তথ্যের অভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। প্রতারণা রোধ করতে দালালদের প্রতিহত করতে হবে।

সভায় জর্দান ও ওমান থেকে ফেরত আসা দুইজন নারী অভিবাসী কর্মী তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনায় বলেন, কাজ করার পরে বেতন পরিশোধ করা হয়নি, প্রতিনিয়তই মারধর ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে জেলে আটকে রাখত, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয় না, খাবার দেয় না।