১৯ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার দিনরাত

  • মারুফ রায়হান

লণ্ড ভণ্ড করা ঝড় এলে মানুষ আর তার অব্যবহিত আগের বৃষ্টির কথা মনে রাখে না। বলে না তারও আগের রোদের তীব্রতার কথা। ঝড়ের ঝাপটে পূর্বাপর সব ম্লান হয়ে যায়। ঢাকায় বয়ে গেল ক্যাসিনো ঝড়। ভুল হলো, এখনও বয়ে চলেছে এই ঝড়। আসলে বলা ভালেঅ, এ হলো ক্যাসিনো-কসাইদের শুদ্ধি অভিযান। বুধবার থেকে আজ অব্দি এটিই টক অব দ্য টাউন। সে কথায় ফিরব, তবে তার আগে মানবিক উদ্যোগের খবর দেয়া যাক।

ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগ

রাজধানীতে হাজারো বস্তি থাকলেও উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বড় বস্তি আছে ১১০। প্রত্যেকটি বস্তিই গড়ে উঠেছে সরকারী জায়গায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সমাজের হতদরিদ্র প্রান্তিক মানুষের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। এর আগে দরিদ্র মানুষের জন্য আবাসন ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার বস্তিবাসীর জন্য ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বস্তির মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য তাদের প্রশিক্ষণসহ নানা ধরনের সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।

সরকার সব করে দেবেÑ এমন ভাবনা স্বাস্থ্যকর নয়। সমাজের বিত্তবানদের দায় থাকে। আবার খুব একটা বিত্তবৈভব নেই, অথচা চিত্তের বিচারে বড়, তার পক্ষেও মহৎ কিছু করা বিলক্ষণ সম্ভব। ছোটদের প্রতি বড়দের ¯েœহ জাগবে, তাদের ভালর জন্য কিছু একটা করতে মন চাইবেÑ এটাই স্বাভাবিক। আমাদের সমাজে শিশুদের প্রতি নানা নির্মমমতার দৃষ্টান্ত জেনে আমরা শিউরে উঠি, ভাবিত হই। নিজ নিজ অবস্থান থেকে এর প্রতিবাদের শামিল হই। কিন্তু পাশাপাশি এটাও আমাদের স্মরণে রাখা সঙ্গত যে সমাজের শতভাগ মানুষ মন্দ হতে পারে না। বরং বলতে পারি অল্প কিছু লোকই হয়ে থাকে মানুষ নামের কলঙ্ক। সমাজের বেশির ভাগ মানুষই ভালর সঙ্গে থাকে, ভালকে সমর্থন দেয়। সম্মানও দিয়ে থাকে তাকে, যে ভাল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে। মানুষের কোন না কোন কল্যাণ কাজে নিয়োজিত থাকা একজন একক ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব হতে পারে না। তবে বড় পরিসরে কিছু করতে গেলে সমষ্টির প্রয়োজন পড়ে। তখন সংগঠন গড়ে তোলা জরুরী হয়ে ওঠে। মানুষের সেবার ওপরে তো আর মহান কোন কাজ হতে পারে না। মানুষ মানুষের জন্যÑ এই ব্রত নিয়ে যারা কর্মদ্যোগী হয় আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো দেখতে হলেও তারা অসামান্য মানুষ। এমন কিছু মানুষই সমাজে উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করে। তাকে দেখে অন্য মানুষও অনুপ্রাণিত হয়। এভাবেই সামাজিক শক্তি সমাজের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখে।

ঢাকায় ছায়াতল নামে যে ছোট্ট মানবিক সংগঠন গড়ে উঠেছে তার ছায়াতলে অনেক ছিন্নমূল শিশু ধীরে ধীরে শিক্ষার আলো পাচ্ছে। তাদের চিকিৎসাসেবা ও বিনোদন দানের জন্য সংগঠনটি কাজ করে আসছে। যদিও এটি শুরু হয়েছিল একজন ব্যক্তির সদিচ্ছা, আন্তরিকতা ও ইতিবাচক উদ্যোগ থেকে। মাসুদ রানা নামের এই ব্যক্তি পার্কে সময় কাটাচ্ছিলেন। সেখানে কয়েকজন পথশিশুর দেখা পান, যারা ছিল ক্ষুধার্ত। এই শিশুদের তিনি নিজ নিজ নাম লেখানোর মধ্য দিয়ে হাতেখড়ির ব্যবস্থা করেন। ওই পথশিশুরা নিয়মিতভাবে পার্কে এসে লেখাপড়া শিখতে শুরু করে। ক্রমান্বয়ে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিছু মেডিক্যাল শিক্ষার্থী এই শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার জন্য সংগঠন গড়ে তোলার আবশ্যকতার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। ফলে গঠিত হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ঝড় বৃষ্টির দিনে তো আর খোলা আকাশের নিচে বসে পাঠদান সম্ভব নয়। এগিয়ে আসেন একজন চিত্তবান উদার মানুষ। তিনি পরামর্শ দেন অফিস নিতে, যেটির ভাড়া তিনিই মেটাবেন। এভাবে পার্কের ঘাসের শিক্ষালয় থেকে পথশিশুদের স্থান হয় ভবনের কামরায়। ঝড় বৃষ্টিতেও থেমে থাকে না শিক্ষার আলো জ্বালাবার কাজ। তবে এই কাজটিকে আরও বেগবান ও সুস্থিতিদানের জন্য অর্থেরও প্রয়োজন রয়েছে। সমমনা পরোপকারী উদারহৃদয় মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, সাহায্যেও হাত বাড়ান তবে ‘ছায়াতল’-এর পথশিশুরা আরেকটু ছায়া পাবে। আমরা তো জানি যে পথশিশুদের নানা অপকর্মে ব্যবহার করা হয়। ড্যান্ডি নামে এক প্রকার নেশায় শিশুদের অভ্যস্ত করে তুলে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়ানো হয়। ছায়াতল-এর যাত্রা থেকে প্রেরণা নিয়ে সমাজে এমন দুয়েকজন করে ব্যক্তি নিজের অর্থায়নে ভাসমান ছিন্নমূল শিশুদের জীবনটাকে যদি গড়ে দেয়ার জন্যে উদ্যোগ নেয়, তবে একসময় দেখা যাবে অভিভাবকহীন শিশুরা মানুষ হয়ে উঠছে, সমাজে তারা ইতিবাচক অবদান রাখছে।

সমাজের কল্যাণ করার জন্যে কাজের অভাব নেই। হয়তো সুন্দর মনেরও অভাব নেই। শুধু প্রয়োজন উদ্যোগী হওয়া এবং হাতে নেয়া ব্রতটিকে স্থিতি ও স্থায়িত্ব দেয়ার জন্য মনোবল ও পরিকল্পনা। এভাবে বাংলাদেশ একদিন আলোয় ভরে উঠবে, এমন আশায় বুক বাঁধি।

ঢাকায় দিনরাত চলত জমজমাট ক্যাসিনো!

গত বছর জানুয়ারির ২৮ তারিখে ঢাকার দিনরাত কলামের জন্য ‘রাজধানীতে ক্যাসিনো ব্যবসা!’ শীর্ষক নিচের অংশটি লিখেছিলাম। আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছিলেন আপাতত লেখাটি ছাপতে না দিতে। পরে আরও তথ্য সংগ্রহ করে, সম্ভব হলে সরেজমিন পরিদর্শন করে সেই অভিজ্ঞতা লিখতে। আমারও ইচ্ছে ছিল পরের মুখে ঝাল না খেয়ে নিজেই কোন ক্লাবে গিয়ে ক্যাসিনো আসর দেখেশুনে তারপর বিস্তারিত লেখা। সেটি আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি বলে লেখাও তৈরি হয়নি। তবু নিচের অংশটুকু তুলে দিচ্ছি কেননা এখানে সংবাদপত্রের নামোল্লেখ না করে রেফারেন্সটুকু রয়েছে। আজ কাগজে দেলাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে সাংবাদিকেরা এ নিয়ে লেখননি। সব সংবাদপত্র না হলেও দুয়েকটি যে ফলাও করেই এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল তার প্রমাণ তো রয়েছেই। অন্যের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এলে আখেরে আমাদের দেশেরই উপকার। যাহোক, আমার সেই অপ্রকাশিত লেখাটি এখানে তুলে দিচ্ছি, তারপর চলতি সেপ্টেম্বরের এ সংক্রান্ত অভিযান প্রসঙ্গে যাব।

রাজধানীতে ক্যাসিনো ব্যবসা!

“ইউরোপ-আমেরিকার বড় বড় শহরের সান্ধ্যচিত্র অসম্পূর্ণ থেকে যাবে জমজমাট জুয়ার আসর বা ক্যাসিনো ছাড়া। সেসব শহরে বৈধ ক্যাসিনোর পাশাপাশি রয়েছে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা। আমাদের দেশে এখনও বৈধতা দেয়া হয়নি জুয়া ব্যবসাকে, এমনকি বিদেশীদের বিনোদনের অংশ হিসেবেও ক্যাসিনোর ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। এমন বাস্তবতায় বিদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জুয়াড়ি এনে রাজধানীতে চলছে পশ্চিমা ধাঁচের ক্যাসিনো ব্যবসা। অবৈধ হলেও দিন দিন বড় হচ্ছে এ ব্যবসার পরিসর। রাজধানীর নামী-দামী রেস্টুরেন্ট ও ক্লাবভিত্তিক এসব ক্যাসিনোয় প্রতি রাতে উড়ছে শতকোটি টাকা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও এ সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। এমন একটি প্রতিবেদন খবরে কাগজে পড়ে কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলাম। রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব-রেস্টুরেন্টে ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগ পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদকের সরেজমিন ক্যাসিনো পরিদর্শনের বিবরণ থেকে খানিকটা তুলে দিচ্ছি। তিনি লিখেছেন: ‘ফু-ওয়াং ক্লাবের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার পর ডান পাশে পরপর দুটি অফ- হোয়াইট রঙের দোতলা ভবন। প্রথম ভবনটি ক্যাসিনো। ওই ভবনের নিচে কাচের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই বাম পাশে বাঁকানো সিঁড়ি। ওই সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই ক্যাসিনোর দরজা। দরজা দিয়ে ঢুকে একটি হলরুমে পনেরটি বোর্ড চোখে পড়ে। প্রতিটি বোর্ডের পাশে হলুদ রঙের শার্ট আর কালো রঙের প্যান্ট পরা ২০-২২ বছরের তিনজন করে নারী। বড় হলরুমে বোর্ড রয়েছে মোট ১৫। সবুজ রঙের বোর্ডে তাস ছিটানো। নগদ টাকা জমা দিয়ে চিপ (প্লাস্টিক কার্ড) সংগ্রহ করছেন জুয়াড়িরা। একবার চিপ শেষ হয়ে গেলে আবারও টাকা জমা দিয়ে চিপ সংগ্রহ করছেন কেউ কেউ। জুয়াড়িদের অনেকেই এভাবে সর্বস্ব খুইয়ে বাড়ি ফিরছেন।’

রাজধানীতে অনানুষ্ঠানিক ক্যাসিনোয় দৈনিক কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন হিসাব নেই। তবে একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একেকটি ক্যাসিনোয় প্রতি রাতেই ২-৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়। ক্যাসিনোয় আগতদের মধ্যে রয়েছে উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরাও।”

২০১৭ সালের জুনে প্রথম গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছিল ঢাকার ক্যাসিনোর খবর। আর অভিযান শুরু হলো তার দুই বছরেরও বেশি সময় পরে। রবিবারে যখন এ কলাম লিখছি তখন জানতে পারলাম এবার একসঙ্গে চার ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর মতিঝিলে ক্লাবপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও দিলকুশা ক্লাব থেকে অন্তত বারোটি ক্যাসিনোসহ বিপুল পরিমাণ জুয়া খেলার সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ এই অভিযান চালায় পুলিশের মতিঝিল বিভাগ। এই তিন ক্লাবের পাশাপাশি আরামবাগ ক্লাবেও অভিযান চালানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার এই অভিযানে ক্লাবগুলো থেকে ক্যাসিনো বোর্ডের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তাস খেলার সামগ্রী, জুয়ার বোর্ড, জুয়া খেলার সামগ্রী এবং মাদকদ্রব্য (মদ, সিসা) উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযান চালানো এই ক্লাবগুলোতে যে জুয়া খেলা হয়, সে ব্যাপারে আগে থেকে কোন তথ্য পুলিশের কাছে ছিল না বলে দাবি করেছেন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি)। তিনি বলেন, এই ক্লাবগুলোর ভেতরে যে ক্যাসিনো আছে বা এখানে যে জুয়া খেলা হতো, এ বিষয়ে পুলিশের কোন ধারণা ছিল না। অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বুধবার প্রথম অভিযান হয় ইয়ংমেন্স ক্লাবে। পরে গ্রেফতার হয় ক্লাবটির দখলদার ও ক্যাসিনোকা-ের কর্তা যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ। দুদিন পরে আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীমও বিপুল পরিমাণে নগদ টাকাসহ গ্রেফতার হন। ঢাকাবাসী প্রায় হতবাক। দেখা যাক সামনে কী অপেক্ষা করছে।

বিদায় আবৃত্তিকার

আমরা অভিন্ন শহর থেকেই ঢাকায় এসেছিলাম। তিনি ছিলেন আমার বেশ ক’বছরের সিনিয়র। আশির দশকের শুরুতে আবৃত্তিচর্চার পালে হাওয়া লাগল। সে সময়েই স্বতন্ত্র উপস্থাপনা, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং আর্কষণীয় বাচনের জন্য কবিতামোদিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কবিতাও লিখতেন কামরুল হাসান মঞ্জু। তবে বই করেননি। বিদায় নিলেন শনিবার। তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখক-সাংবাদিক জ্যোৎস্নালিপি ফেসবুকে লিখেছেন: ‘কামরুল হাসান মঞ্জু দেশের অগ্রগণ্য গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব। গণমাধ্যম উন্নয়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টার (এমএমসি)। স্থানীয় সংবাদপত্রের মানোন্নয়ন, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, পত্রিকা প্রকাশ, সামাজিক নেটওয়ার্কিং, গণমাধ্যমবিষয়ক গবেষণা পত্রিকা ও জার্নাল এবং গণমাধ্যম গবেষণা বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এমএমসি থেকে একশ’ আশিটির মতো গণমাধ্যমবিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া এমএমসির মাধ্যমে বাংলাদেশে অসংখ্য শিশু সাংবাদিক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেরও তিনি প্রধান কাণ্ডারি। কামরুল হাসান মঞ্জুর আরেকটি পরিচয় হলো তিনি দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় আবৃত্তিশিল্পী। সৃজনশীলতার বহুমাত্রিক প্রয়োগ এবং কঠোর অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে আবৃত্তিতে তিনি অর্জন করেছেন ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। গণমাধ্যমবান্ধব এই মানুষটির একমাত্র ধ্যানজ্ঞান ছিল সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার পেশার উন্নয়ন। যার কাছে সহায়তা চেয়ে নিরাশ হয়নি কেউ। যে উদাত্ত কণ্ঠস্বর আবৃত্তিপ্রেমীদের আন্দোলিত করত, সেই কণ্ঠস্বরটি আজ থেমে গেল! যে হাতের কলম একদিন তৃণমূল সাংবাদিকদের অধিকার আর দক্ষতা উন্নয়নে কথা বলত, সেই হাতটি আজ নীরব! নিথর!’

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

marufraihan71@gmail.com