২২ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

থিয়েট্রোনের ‘সিচুয়ানের সুকন্যা’ নাটকের চতুর্থ প্রদর্শনী কাল

থিয়েট্রোনের ‘সিচুয়ানের সুকন্যা’ নাটকের চতুর্থ প্রদর্শনী কাল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ থিয়েট্রোন ঢাকা ডট বিডি সম্প্রতি মঞ্চে এনেছে নতুন নাটক ‘সিচুয়ানের সুকন্যা’। একাধিক প্রদর্শনীর পরই নাটকটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। নিয়মিত মঞ্চায়নের ধারাবাহিকতায় আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় মহিলা সমিতি ভবনের ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটকটির চতুর্থ মঞ্চায়ন হবে বলে জানা গেছে। বার্টল্ড ব্রেখটের ‘দ্য গুড ওমেন অব সিচুয়ান’ নাটকের অনুবাদ করেছেন মামুন হক। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন এই সময়ের মেধাবী তরুণ নির্দেশক, শিক্ষক সম্রাট প্রামানিক। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেন জিনিয়া আজাদ, কৌশিক বিশ্বাস, সাদমান সাঈদ, বাপ্পি আমিন, তন্ময় বিশ্বাস, বাপ্পা রায়, শরীফুল ইসলাম, পার্থ সরকার, মাহমুদ শাকিল, ইবনে সাকিব, ফজলে রাব্বী, সায়লা পারভীন প্রিয়া, সাবরিন সুলতানা ও শিউলী ইসলাম। নাটকের ডিজাইন উপদেষ্টা আলি আহমেদ মুকুল, সেট নুর হোসেন, প্রপস এসএম সাইফুল হাসান, পোশাক শ্রেয়স্রী সরকার, আলো আতিকুল ইসলাম জয়, সঙ্গীত আহসান হাবীব বিপু, রূপসজ্জা এসএম সাইফুল হাসান, মঞ্চ ব্যবস্থাপনা নুর-ই-আলম সুমন, সহকারী মঞ্চ ব্যবস্থাপনা আহমেদ কিংশুক, প্রযোজনা নির্বাহী নুর-ই-আলম সুমন।

নাটক প্রসঙ্গে নির্দেশক সম্রাট প্রামানিক বলেন, বিশ্ব বিখ্যাত জার্মান কবি, নাট্যকার ও নির্দেশক ইউজিন বার্টল্ড ফ্রেডরিক ব্রেখটের জন্ম জার্মানিতে ১৮৯৮ সালে। ১৯৬৫ সালে পূর্ব বার্লিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিশ শতকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশকে বার্টল্ড ব্রেখট মূলত নাট্যকার হিসেবেই নন্দিত হয়ে ওঠেন। তিনি নাট্যকলা সম্পর্কে নিজস্ব নাট্যচিন্তা ও ধ্যান-ধারণায় এনেছেন নতুন নাট্যকৌশল ‘এপিক থিয়েটার’। যা ছিল পূর্ববর্তী ক্লাসিক্যাল এ্যারিস্টটলীয় নাট্যধারার বিপরীত। তিনি দর্শকদের নাটকীয় ইন্দ্রজালের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার পরিবর্তে চিন্তাশীল, গতিশীল এবং বিশ্লেষণী ভূমিকায় অবতীর্ণ করেন। মার্কসবাদী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ বার্টল্ড ব্রেখটের নাটকে উৎসারিত হয়েছে তৎকালীন আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সমাজের সাদা-কালো শাসক-শোষিতের সুস্পষ্ট দ্বন্দ্ব। বার্টল্ড ব্রেখটের ‘সিচুয়ানোর সুকন্যা’ নাটকটি এই চিন্তাধারার বাইরে নয়। বার্টল্ড ব্রেখটের নাট্যধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং তার ১২০তম জন্মবার্ষিকীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে থিয়েট্রোন ঢাকা বিডির প্রথম প্রযোজনা হিসেবে মঞ্চে এনেছেন তার রচিত নাটক ‘সিচুয়ানোর সুকন্যা’। এই পা-ুলিপিটি জার্মান ভাষা থেকে অসাধারণ প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন মামুন হক। দীর্ঘসময় মামুন হকের জার্মানিতে অবস্থান, জার্মান ভাষা-সাহিত্য এবং শিল্পবোধ অনুবাদের ভাষা-বুননে স্পষ্ট। এই নাট্যপ্রযোজনায় আমরা নির্দেশক, অভিনেতা, ডিজাইনার, মঞ্চ ব্যবস্থাপনা ও অভিনেতা মিলে ২৫ জন যুক্ত আছি। নাটলিপিটি টানা একমাস সান্ধ্যকালীন মহড়া শেষে গত ৩০ জুলাই প্রদর্শনী হয়। নাট্যনির্মাণ প্রক্রিয়ায় আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। নাটলিপিটিতে চরিত্র সংখ্যা ৩৬জন হলেও আমাদের ১৪জন অভিনেতার মাধ্যমে নাট্যনির্মাণ করা এবং অভিনয়ে ব্রেখটীয় নাট্যরীতির প্রয়োগ। পুরো নাটলিপিটি মঞ্চায়ন করতে সময়সীমা সাড়ে তিন ঘণ্টা হলেও আমরা দেড় ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যেই নাট্যপ্রযোজনাটিকে বাঁধতে চেয়েছি। নাট্যপ্রযোজনার অভিনেতারা বিভিন্ন নাট্যদল থেকে আসা এবং অল্পসময়ের মধ্যে সবাইকে একই সূত্রে বাঁধা।

নাটক প্রসঙ্গে অনুবাদক মামুন হক বলেন, ১৯৯৩ সালে প্রথম জার্মানিতে এই নাটকটি দেখার সুযোগ হয় আমার। তখন দেখেই আমার মাতৃভাষায় নাটকটি দেখার এবং মঞ্চায়ন করার খুব ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম। তারই পরিবেশনা এই নাটকটি। প্রথমত বার্টল্ড ব্রেখটকে জানতে হলে আমাকে চলে যেতে হবে ১৮৯৮ সালে। জার্মানির আউসবুখ শহরে ১৮৯৮ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। আউসবুখ শহরটি জার্মানির মিউনিখের নিকটেই অবস্থিত। যৌবনেই তার জন্মস্থান ত্যাগ করে মিউনিখে বসবাস করা আরম্ভ করেন। কয়েক বছর পরেই বার্লিনে স্থানান্তরিত হন। সে সময় বার্লিন ছিল শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির কেন্দ্র বিন্দু। বার্লিনে এক্সপ্রেশনিজম নামক সাহিত্যের সঙ্গে জড়িত হন। পরবর্তীতে বুঝতে পারে শ্রমিক শ্রেণীর সঙ্গে এক্সপ্রেশনিজম সাহিত্যিকদের সংহতি খুব কম ছিল। তার নাটকে ভারফ্রেমডং (এ্যালিয়েন্যাশন) নামক জার্মান সাহিত্যে নতুন অধ্যায় চালু করে এর সমাধান বের করার চেষ্টা করেন। সিচুয়ানের সুকন্যা সেল্টের আচরণে সমালোচনামূলক বক্তব্যই খুঁজে পাওয়া যায়। সে চায় সমাজের পরিবর্তন করতে। ব্রেখট ভিন্ন দুটি ধরনের নাটক তার জীবনে করে গেছেন। একটি এপিক থিয়েটার অন্যটি ড্রামাটিক থিয়েটার। ড্রামাটিক থিয়েটারে আমরা এক ধরনের ভয় ও সহানুভূতি দেখতে পাই। এবং এই সমস্ত নাটকে একটি পরিশুদ্ধতার মাধ্যমে পরিসমাপ্তি হয়। এপিক থিয়েটার যেটা দর্শকদের মাঝে একটা সমালোচনামূলক অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়। তার এসব নাটকের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মাঝে সচেতনতা ও সক্রিয়তা বৃদ্ধি করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। প্রাচীন গ্রিসের মতো দেবতাদের মাউন্ট অলিম্পাস থেকে নামিয়ে নিয়ে আসেন। প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত নাট্যকার ইউরিপিদিস তার নাটকে দেবতাদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়েছেন। কিন্তু ব্রেখট এখানে অন্য পথে হেঁটেছেন। তার লেখক জীবনে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। যেমন ১৯৩৩ সালে এক নায়ক তন্ত্রের কারণে নিজের মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তখন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী আইনস্টাইনকেও জার্মান ত্যাগ করতে হয়েছিল। ব্রেখট জার্মানি ছেড়ে কয়েকটি দেশে বসবাস করেছেন। যেমন- সুইডেন, ডেনমার্কসহ যুক্তরাষ্ট্রেও তিনিও বহু দিন বসবাস করেছেন। ১৯৪৮ সালে তিনি পূর্ব জার্মানিতে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পূর্ব বার্লিনে থিয়েটার, নাটকের জগতে অনেক সুখ্যাতি অর্জন করেছিল। এই জগত বিখ্যাত নাট্যকার ১৯৫৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রসঙ্গত, এ বছরের ৩০ জুলাই নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। এরপরদিন ৩১ জুলাই নাটকটির দ্বিতীয় মঞ্চায়ন এবং গত ১৯ সেপ্টেম্বর নাটকটির তৃতীয় মঞ্চায়ন হয়।