১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেঁয়াজ কিনতে না পেরে অনেকেই ফিরলেন শূন্য হাতে

পেঁয়াজ কিনতে না পেরে অনেকেই ফিরলেন শূন্য হাতে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রাজধানীর খোলাবাজারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ন্যায্যমূল্যের পেঁয়াজ কিনতে ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। মঙ্গলবার এক থেকে দুই ঘণ্টার অপেক্ষার সেই লম্বা সারিতে শ্রমিক-দিনমজুর ছাড়াও ছিলেন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী আর গৃহিণীরা।

স্কুল-কলেজ ছুটির পর কেউ কেউ আবার সন্তানের হাত ধরেই শামিল হয়েছেন কেনাকাটার সেই লাইনে। অনেকেই অফিসের কর্মঘণ্টার কোনো এক ফাঁকে এসেছেন ন্যায্যমূল্যের পেঁয়াজ কিনতে। কিন্তু ক্রেতাদের ভিড় আর লম্বা লাইনে ধৈর্যহারা তারা।

ক্রেতাদের অভিযোগ, এত সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ২ কেজি পেঁয়াজ কেনা যথেষ্ট নয়। অন্তত ৫ কেজি পেঁয়াজ দেওয়া হলে ভালো হতো৷ অনেকই আবার দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর ফিরেছেন শূন্য হাতে।

রাজধানীতে খোলাবাজারে টিসিবির পেঁয়াজ বেচাকেনা হচ্ছে এমন কয়েকটি এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

খামারবাড়ি মোড়ে রাখা টিসিবি পণ্যের ট্রাকে মিরপুর থেকে পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী লিটন। তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও পেঁয়াজ পাইনি। পেঁয়াজসহ ন্যায্যমূল্যে যা দেওয়া হয় সবই কিনব। কারণ বাজারের দামে এখন আর ওসব পণ্য কেনার সামর্থ্য নেই আমার। কষ্ট হলেও কিছু করার নেই।

বেসরকারি চাকরিজীবী ওয়াহিদুল আলম খান বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও লাইনের সামনে অনেক মানুষ। কখন সিরিয়াল পাব জানি না। বাজারে পেঁয়াজের দাম লাগামছাড়া। কী করব? এখানে কষ্ট হলেও কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত ন্যায্যমূল্যের পেঁয়াজ পাবেন কিনা- এমন উৎকণ্ঠায় থাকতে দেখা যায়।

ইন্দিরা রোডের গৃহিনী আছমিতা। লাইনে অপেক্ষা করে পেঁয়াজ আর তেল কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত পেঁয়াজ কিনতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি তো পেলাম। কিন্তু এখনও যারা লাইনে আছে তারা তো পেঁয়াজ পাবেন না। কারণ যা এনেছিল তা বিক্রি শেষ।’

টিসিবির পণ্যের ট্রাকের দায়িত্বে থাকা বিক্রেতা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ১ হাজার কেজি করে পেঁয়াজ দেওয়া হয়েছে বিক্রির জন্য। কিন্তু আজ ৪০০ কেজি পেঁয়াজ দিয়েছে। খামারবাড়ির মতো ব্যস্ত জায়গায় এমন সময়ে এত অল্প পেঁয়াজে হয়?’

দুপুর একটার দিকেই খামারবাড়িতে পেঁয়াজ বিক্রি শেষ হয়ে যায়। লাইনে থাকা অনেককেই তখন খালি হাতে ফেরত যেতে হয়েছে। এমনই একজন তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা মিজান। তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পেঁয়াজও শেষ হয়ে গেছে। খালি হাতে ফিরতে হবে ভেবে চিনি আর ডাল নিয়ে গেলাম।’

ফার্মগেটের একটি বেসরকারি অফিসের কর্মী শাহিদ। তিনি বলেন, ‘ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেঁয়াজ পাইনি।’

একই অভিযোগ করেন সংসদ ভবনের কর্মচারী মারুফা আক্তার, পোশাককর্মী সেলিনা আর বেসরকারি স্কুলশিক্ষক আলতাফ।