২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাগদাদে পুলিশ-বিক্ষোভকারী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১১

বাগদাদে পুলিশ-বিক্ষোভকারী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১১

অনলাইন ডেস্ক ॥ ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পুলিশের সঙ্গে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আরও ১১ জন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ ও মেডিকেল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

চাকরির সংকট, নিম্নমানের পরিষেবা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে বাগদাদ ও অন্যান্য শহরে চলমান এ বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কর্তৃপক্ষ কারফিউ তুলে নেওয়ায় এবং বাগদাদের কেন্দ্রস্থলে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক থাকায় শুক্রবার বিক্ষোভের মাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও শনিবার ফের ভয়াবহ সহিংসতার সাক্ষী হয় ইরাকের রাজধানী।

এদিন বাগদাদের চত্বরগুলোতে হাজার হাজার পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছিল। শুক্র ও শনিবার বাগদাদের পূর্বাঞ্চলে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের স্নাইপাররা গুলিও চালায় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

৫ দিনের এ বিক্ষোভে আহতের সংখ্যা এর মধ্যেই তিন হাজার পেরিয়ে গেছে, জানিয়েছে ইরাকের আধা সরকারি মানবাধিকার হাইকমিশন।

বিক্ষোভ-সহিংসতায় ৯৪ জন নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। যদিও রয়টার্স তাদের এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভে এরই মধ্যে বিরোধী অনেক দলই সমর্থন দিয়েছে। প্রভাবশালী শিয়া নেতা মোকতাদা আল সদর তার অনুসারী সাংসদদের পার্লামেন্টের সকল কাজকর্ম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের কাছে আগাম নির্বাচনও দাবি করেছেন তিনি।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৮ সদস্য নিহত এবং হাজারেরও বেশি আহত হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

বাগদাদের পাশাপাশি শনিবার দক্ষিণের শহর নাসিরিয়াতেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শহরটিতে অবস্থিত দাওয়া পার্টির সদরদপ্তরসহ বেশ কয়েকটি দলের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে পুলিশকে তাজা গুলিও ছুড়তে হয়েছে। কয়েকদিনের টানা সহিংসতায় এ শহরেও অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

শনিবার বাগদাদের দক্ষিণের শহর দিওয়ানিয়াতে হওয়া সহিংসতায়ও অন্তত একজন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা চাকরির সংকট, নিম্নমানের পরিষেবা ও দুর্নীতি দমনে সরকারের ‘অস্পষ্ট কোনো সংস্কার কর্মসূচি’ মেনে নেবেন না।

ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শনিবার দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ আল হালবুসির সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের নেতা পরিচয়ের কয়েকজনের বৈঠক সরাসরি সম্প্রচার করে। হালবুসি শুক্রবার দরিদ্র ইরাকিদের গৃহায়ন ও তরুণদের চাকরির সুযোগ বৃদ্ধিসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের পাশাপাশি গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন।