২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেশায় আইনজীবী নেশায় ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পথচলা শুরু কিভাবে?

দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় আমার এক বন্ধুকে দেখলাম সে odesk (এখন যা upwork বলে পরিচিত) নামক একটি ফ্রি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে SEO and Link Building-এর কাজ করে। তাকে দেখেই আসলে শুরুটা করা। সেই বন্ধু microworkers নামক একটি ওয়েবসাইট সম্পর্কে বলল। যেহেতু আমি নতুন ছিলাম তাই ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করতে বলল। ২ মাস কাজ করেও ১০ ডলারও হলো না। পরে সব ছেড়ে দিলাম। পরে আবার চেষ্টা করলাম। কোন ভাল ফলাফল হলো না। নিজে নিজে গুগল, ইউটিউব দেখে SEO এবং online marketing নিয়ে পড়া শুরু করলাম। ২০১৪ এর শুরুর দিকে আমি তখন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আরেকজন আমাকে fiverr নামক এক Amazon online marketing, email marketing & social media মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা দিলো। তার কিছু প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে আমাকে জানাল। তার থেকে ধারণা নিয়ে আমি নিজে নিজে গবেষণা করা শুরু করলাম। মাত্র ৫ ডলার আয় করে আমার ফ্রিল্যান্সিং শুরু। পরে এর কোনদিন পেছনে তাকাতে হয়নি।

শখ বা ভাল লাগা থেকে পেশা হয়ে উঠল যেভাবে-

আসলে freelcning আমি কখনও আয়ের জন্য নাই। কারণ শুরুর দিকে আমার নিজেরও বিশ্বাস হতো না যে এভাবে আয় করা যায়। সত্যি বলতে অনলাইনে কিছু করতে আমার ভাল লাগে। নতুন নতুন জিনিস শিখা যায়। কোন জিনিস আপনার ভাললাগে বা আপনি সেটা করতে ভালবাসেন তার একটা পরীক্ষা হচ্ছে আপনি সেই জিনিস একাধারে করে যেতে পারেন কোন ক্লান্তি ছাড়াই। শুরু করার ৩-৪ মাসের মধ্যেই ভাল আয় আসতে থাকল যেটাকে আপনারা সিক্স বা সেভেন ফিগার বলেন।

ঠিক কোন্ কারণগুলো উদ্বুদ্ধ করেছিল?

নতুন নতুন জিনিস শেখার একটা ঝোঁক আগে থেকেই ছিল এটাকে আপনি একটা কারণ বলতে পারেন। প্রচুর এক্সপেরিমেন্ট করেছি। আমার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল আমি এমন কিছু করব যেখানে আমি আমার ইচ্ছামতো কাজ করব। আমার বরাবরই কারও আয়ত্তে কাজ করতে ভাল লাগত না। এ ছাড়াও একজন আমাকে বলেছিল, ‘টাকা আয় করে ডলারে খরচ না করে, ডলারে আয় করে টাকাতে খরচ কর জীবন সুন্দর হবে’ এই কথাটি কোন এক অদৃশ্য কারণে আমার মনে জায়গা করে নিয়েছিল। সব মিলিয়ে দেখলাম এটাই একমাত্র পেশা যা আমাকে ভাল একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে।

কাজের পরিধি যেভাবে বড় হয়ে উঠল-

পাঁচ ডলার দিয়ে শুরু, এর পরে আসতে আসতে কাজ বাড়তে থাকে। fiverr এ্যাকাউন্টে client/buyer-এর ভাল ফিডব্যাক আসতে থাকে। যার ফলে বেশি কাজ আসতে শুরু করে। তখন আমি দেখলাম আমি একা একা এত কাজ করতে পারব না। তখন আমি আমার আরেকজনকে নিয়ে তাকে কাজ শিখিয়ে দেই। এখন আমার গ্রামের ১৫ জন সরাসরি আমার সঙ্গে কাজ করে।

কী ধরনের প্রতিবিন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল?

সব থেকে বড় সমস্যা ছিল টাকা গ্রহণ করা। paypal ছাড়া টাকা দিতে চাইত না। বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও পরিপূর্ণ ছিল না। বাংলাদেশ সরকার paypal নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমি আশা করি এই সমস্যা দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে। আরও কিছু সমস্যা ছিল ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার/ভিসা কার্ড। কারণ অনেক কাজ আছে এমন যেখানে আপনাকে ক্লায়েন্টদের পণ্য কিনতে হয়। যদিও এখন একটি ব্যাংক প্রিপেড কার্ড দিচ্ছে। আমাদের শুরুর দিকে এসব ছিল না।

আপনার মতে সফল ফ্রিল্যান্সারের সংজ্ঞা-

যে তার কাজকে ভালবাসে এবং সেই কাজ থেকে উপার্জন করে তার জীবনকে একটা সুন্দর অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম- তাকেই একজন সফল ফ্রিল্যান্সার বলে আমি মনে করি।

এই খাত উন্নত করতে কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে?

আরও বেশি সচেতনতা তৈরি করা উচিত ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে। যেখানে আমাদের একজন শিক্ষিত বেকার মাসে ১০-২০ হাজার টাকার স্বপ্ন দেখে সেখানে নিজের দক্ষতা বিকাশ ঘটলে এই অঙ্ক দ্বিগুণ করাও সম্ভব।

নতুনদের জন্য পরামর্শ

যারা নতুন ফ্রিল্যান্সারে হতে চান আমি তাদের বলব একটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে। হতে পারে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, এসইও, গুগল এনালিস্ট, ইকমার্স, ভার্চুয়াল এ্যাসিস্ট্যান্ট, ডাটা এন্ট্রি, ব্লগার, ইউটিউব কন্টেন্ট আরও অনেক বিষয় আছে। যে কোন একটি নিয়ে দক্ষতা অর্জন করা ভাল। আর নতুনদের জন্য upwork/freelancer.com এর থেকে আমার মতে fiverr.com থেকে শুরু করা ভাল হবে। আমি নিজেও এখান থেকেই শুরু করেছি। সব কিছু শিখার থেকে যে কোন একটি বিষয়ে অনেক স্কিল থাকাই ভাল হবে কারণ মার্কেটপ্লেসে দক্ষ লোককেই খোঁজা হয়।

তারুণ্যের কাছে কী প্রত্যাশা করেন?

আমি চাই তরুণ সমাজ যেন শুধু চাকরি চাকরি করে সময় নষ্ট না করে। আমার মতে তাদের কোন নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন করা উচিৎ যেটা থেকে তারা উপার্জন করতে পারবে। বাণিজ্য এবং কৃষিতেও মন দেয়া উচিত। আজকাল আমাদের তরুণ সমাজ আর কৃষি নিয়ে ভাবছে না। আমাদের একটা ধারণা যে কৃষি মানেই ছোট কাজ। আমার মতে কোন কাজ ছোট হয় না। লন্ডনে থাকার সুবাদে এটাই দেখছি।

কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?

এমন একটা বাংলাদেশ যেখানে পূর্ণ জবাবদিহিতা থাকবে। সবাই পরস্পরকে সম্মান করবে। তরুণরা নেশা ও মাদক থেকে দূরে থাকবে। যেখানে সবাই তাদের নিজের কাজ ঠিকমতো করবে।