২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রামকে শহরে পরিণত করতে কাজ করছে ব্রেইভ

  • রিফাত কান্তি সেন

আমার গ্রাম আমার শহর এ স্লোগানটি বর্তমান সময়ে আমাদের এগিয়ে চলার প্রধান অনুপ্রেরণা। শিক্ষা ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো শুধু শহরকেন্দ্রিক ‘ভাল শিক্ষা’ ও সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া কোচিং বাণিজ্য। ভাল স্কুল, ভাল শিক্ষক এই ধারণাগুলো আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যেমনি অসুস্থ প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে তেমনি এই চিরায়ত প্রক্রিয়া থেকে বের হয় আসার পথও সহজ নয়। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গ্রামকে শহরে পরিণত করতে হলে একই মাপকাঠির শিক্ষা ব্যবস্থা, একই সুযোগ সবার জন্য আনতে হবে। এ ব্যবস্থাপনা সঠিক বাস্তবায়নে মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভৌগোলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ভিন্নতা। বিরাজমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে ডিজিটাল প্লাটফর্ম। সামগ্রিক পর্যায়ে এ বিষয়টি সহজে গ্রহণের ক্ষেত্রে একটু দ্বিধা কিংবা অনভ্যাস রয়েছে। সেই বাধা অতিক্রম করতেই এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট এ্যাপসের মাধ্যমে ব্রেইভ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কাজ করছে। বি রিলেটেড টু অডিও ভিজ্যুয়াল এডুকেশন (ব্রেইভ) ডিজিটাল শিক্ষা উন্নয়নধর্মী সে¦চ্ছাসেবী সংস্থা।

এসডিজির অভীষ্ট ৪-এর বাস্তবায়নে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে :

সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার গৃহীত কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এই উদ্ভাবনী কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক কেবল সংযোগের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার বড় ধরনের কারিগরি সেবা নিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। এর প্রয়োগ শিক্ষা ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘আমরাই গড়ব আমাদের সেরা বিদ্যাপীঠ।’

কার্যক্রম অডিও ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে শিক্ষা প্রচারধর্মী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি ব্রেইভ এডুকেশন এ্যাপস শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন নোটিস, ক্লাস রুটিন, রেফারেন্স বইসমূহ, ফলাফল, সরাসরি চাকরির আবেদনের সুবিধা, শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম, স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ইত্যাদি সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই এ্যাপসটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীরা এই এ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষকদের ক্লাসসমূহ দেখতে পাবে।

প্রশিক্ষণ : এই এ্যাপস নির্মাণের ক্ষেত্রে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দ্বারা সমন্বিত গ্রুপ এর নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কাজ করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্রেভের ডেভেলপারগণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ্যাপস তৈরিতে সহায়তা করবে, পাশাপাশি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে এ্যাপটি পরিচালনা করবে।

কার্যক্রমের সূচনা : গত ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০১৯ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়। ইতোমধ্যে চাঁদপুর সরকারী কলেজে এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ৈতলী গ্রামের ‘কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে’ এই কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আরও ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ চলমান।

পাইলট পরিকল্পনা : বর্তমান প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে এক বছরে চাঁদপুর জেলার ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ্যাপস ওয়েব পোর্টালে/প্লে স্টোরে সংরক্ষণ করা হবে। বিশেষত প্রান্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে এই কার্যল্ডম পরিচালনা এর প্রধান লক্ষ্য। যেখানে শিক্ষার্থীদের দ্বারা গঠিত একটি ি টম নিজেরাই প্রতিনিয়ত এ্যাপসটি আপডেট করবে। প্রাথমিকভাবে ১০০টি প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে প্রকল্পটি সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এন্ড্রয়েড এ্যাপস তৈরি করা সম্ভব হবে। যা হবে ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। গ্রাম হবে শহর।

কী থাকছে এই এ্যাপসে...

স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ছবি এই এ্যাপসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিনিয়ত আপডেট নোটিস এই অ্যাপস এর মাধ্যমে সহজেই জানা যাবে। সেটা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নোটিস কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা বোর্ডের অথবা দেশী-বিদেশী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নোটিস সহজেই দেখা যাবে, ক্ষেত্রবিশেষে নটিফিকেশন পাওয়া যাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণীর ক্লাস রুটিন এই এ্যাপসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কোন পরিবর্তন সাধিত হলে নটিফিকেশন পৌঁছে যাবে। বিভিন্ন শ্রেণীর বিভিন্ন কোর্সের প্রয়োজনীয় রেফারেন্স বই কিংবা অতিরিক্ত বই সমূহের তালিকা এবং কতিপয় ক্ষেত্রে বইয়ের পিডিএফ ভার্সন উপস্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল বুক এর মাঝে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় রেজাল্ট (অভ্যন্তরীণ কিংবা জাতীয় পর্যায়ের যে কোন পরীক্ষার) এই এ্যাপস এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্লাস ভিডিও করে আপলোড করা হবে। স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দের ক্লাসসমূহ শিক্ষার্থীরা যে কোন সময় গ্রহণ করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করতে পারবে। নিজের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণের ক্লাসও উপভোগ করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কোন পার্টটাইম চাকরি কিংবা বিভিন্ন অফিস/প্রতিষ্ঠানের চাকরির সুযোগ, এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য, চাকরির বিজ্ঞাপন ও চাকরি দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে এ এ্যাপসটি স্বয়ংক্রিয় থাকবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সকল ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমের তথ্য, সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ও সাংগঠনিক, সেবা, ক্রীড়া পরিচালনা ইত্যাদি প্রয়োজন মেটাতে এই এ্যাপসটি তথ্যভা-ার ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এই এ্যাপসটির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি তথ্যভান্ডার গড়ে উঠবে। যে কোন প্রয়োজনে যে কোন শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে উপস্থিতি নিশ্চিত ও অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তা ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে আইনগত, প্রশাসনিক, চিকিৎসাজনিত, মাদক-ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে বিরোধী কার্যক্রম, সামাজিক দুর্ঘটনাজনিত প্রয়োজনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই এ্যাপস বিশেষ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটির সমন্বয়ক রূপক রায় বলেন, গ্রামকে শহরে পরিণত করতে আমাদের এ প্রচেষ্টা। আমরা চাই আধুনিকতার ছোঁয়া যেন প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে দেয়া যায়। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। গ্রামের শিশুরা ও শহরের শিশুদের মতোই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।