১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাঙ্গাইলের ১১৮টি গ্রাম আদালতে বিচার পাচ্ছে মানুষ

টাঙ্গাইলের ১১৮টি গ্রাম আদালতে বিচার পাচ্ছে মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ গ্রামের মানুষের ন্যায়বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে দেশব্যাপী গ্রাম আদালত চালু হওয়ার পর এর সুফল পাচ্ছে টাঙ্গাইলের গ্রামাঞ্চলের বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ। বিচারকার্য পরিচালনায় আইনজীবী না লাগায় বিনা খরচেই মিলছে প্রতিকার। আর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি ও অল্প সময়ে বিচার শেষ হওয়ায় খুশি বাদি-বিবাদি দু’পক্ষই।

জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলার ১১৮টি ইউনিয়নের সবকটিতেই চালু আছে গ্রাম আদালত। এর ফলে ইউনিয়নগুলোর গ্রামের মানুষরা তাদের ছোট-ছোট যে কোন বিরোধ নিষ্পত্তি করতে দারস্থ হচ্ছেন গ্রাম আদালতের। আর বিচার প্রার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দু’পক্ষের পছন্দের মেম্বারদের নিয়ে গঠন করা হয় বিচারক প্যানেল। সাথে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান সভাপতি হিসেবে থাকেন। তারা অভিযোগের ওপর আলোচনা করে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন। নিজ ইউনিয়নে বিচার হওয়ায় যাতায়াতের খরচও হচ্ছে না। ফলে বিচার চাইতে আসা বাদি ও অভিযুক্ত দু’পক্ষই খুশি। গ্রাম আদালতে বিচার হওয়ায় সময়ও কম লাগছে। সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের পাচকাহনিয়া গ্রামের আনিছুর রহমান বলেন, ৭ মাসে আগে আমার প্রতিবেশী জামাল হোসেনের সাথে ৮০ হাজার টাকা লেনদেনের বিষয় নিয়ে এক বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে গত সপ্তাহে গ্রাম আদালতে অভিযোগ দেয়ার পর আমার সমস্যার সমাধান হয়েছে। বিষয়টি সমাধান করতে কোন প্রকার টাকা ও আইনজীবী লাগেনি। বিবাদি জামাল হোসেন বলেন, আনিছুর রহমানের সাথে যে বিরোধ ছিল তা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমাধান করতে পেরে আমি খুব খুশি। আধুনিক যুগেও গ্রাম আদালত ধরে রাখায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শরীফ নজরুল ইসলাম বলেন, জেলার ১২টি উপজেলার ১১৮টি ইউনিয়নেই গ্রাম আদালত রয়েছে। প্রতিমাসেই তারা এই আদালতের রিপোর্ট আমাদের কাছে জমা দেয়। আমরা এই রিপোর্টগুলো দেখি। এগুলো মূল্যায়ন করে সরকারকে অবহিত করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এজলাসের জন্য ফার্নিচার সরবরাহ করা হয়। গ্রামের লোকজন গ্রাম আদালতে অভিযোগ দিলে আদালত গঠন করা হয়। এ আদালত আগে থেকে থাকে না। বাদি-বিবাদি দু’পক্ষই দু’জন করে মোট চারজন মেম্বারের নাম বলে। আর এতে চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করেন। এখানে কাউকে জেল দেয়া হয় না, শুধু জরিমানা করা হয়। এভাবে বিচার হওয়ায় প্রার্থী যেমন খরচ বেঁচে যায়। তেমনি আদালতের উপরও চাপ কমে।