০৫ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দারিদ্র্য বিমোচন

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন অসম বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ পভার্টি এ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এক জরিপে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তারতম্যও উঠে এসেছে। এতে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের দারিদ্র্য সীমার বৈষম্যমূলক চিত্র পুনরায় স্পষ্ট হয়। ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের দারিদ্র্য দূরীকরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও রংপুর, রাজশাহী ও খুলনায় আয় বৈষম্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন মানের উন্নতির চাইতে অধোগতি দৃশ্যমান হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তবে ২০১০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ছয় বছরে ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য সীমার ওপরে উঠে এসেছে। দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে সিলেট। এর পরে রাজধানী ঢাকাও এই সীমাকে অতিক্রম করেছে। তবে চট্টগ্রামের অবস্থান পরিমিত বলে বিশ্বব্যাংকের জরিপে জানা যায়। বিশ্বব্যাংক মূলত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর আগের চারটি তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করে বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১৬ সালে দারিদ্র্যের হার ২৪ এবং অতি দরিদ্রের হার ১৩ শতাংশ ছিল। আগের ছয় বছরে ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য বিমোচনে তাদের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি ঘটায়। সব মিলিয়ে গত ১৮ বছরে দেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমাকে অতিক্রম করে সচ্ছল জীবনে প্রবেশ করার চিত্রটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।

বিশ্বব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের প্রশংসাও করেছে। বলা হচ্ছে কম সময়ে দেশটি অনেক বড় যাত্রায় উন্নয়নকে অবারিত করতে কর্মপ্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এটাও কম বড় সফলতা নয়। তবে এখনও দেশের প্রতি ৪ জনের ১ জন দরিদ্র লোক বাস করে। দারিদ্র্য বিমোচনে নিয়ামক শক্তি হিসেবে শিশু মৃত্যুর হার কমে যাওয়া, পুষ্টিগত উন্নয়ন, গড় আয়ু বাড়া এবং শিক্ষা বিস্তারকে প্রয়োজনীয় সূচক বিবেচনায় আনা হয়েছে। আবার শহরের তুলনায় গ্রামে দারিদ্র্যে কমার হার লক্ষণীয়। অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনের সঙ্গে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করে দেশের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পুনরায় প্রতিবেদনটি নতুন করে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।

নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশের ৫ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন এবং কর্মসংস্থান প্রকল্প। টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে নাগরিকদের জীবনমানকে এগিয়ে নিতে গেলে দারিদ্র্যকে অতিক্রম করার সরকারী অঙ্গীকার বৃহৎ কর্মপ্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নই একমাত্র লক্ষ্য। তেমন প্রবৃদ্ধির গন্তব্যে এগিয়ে যেতে কর্মসংস্থানমুখী পরিকল্পনাকে বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনকে সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রভাবিত করতে হরেক রকম সামাজিক কর্মসূচীও সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ কর্মপরিকল্পনায় সরকারী-বেসরকারী উভয় খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি দেশের সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে বেগবান করবে, যার সরাসরি অংশীদার হবে সাধারণ জনগোষ্ঠী। তাদের ভাগ্যোন্নয়নে নতুন নতুন মহাপরিকল্পনায় দেশকে আরও শক্তিশালী করতে দারিদ্র্যের মতো অভিশাপকে মুছে ফেলার প্রত্যয়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর সুফল পেতেও খুব বেশি দেরি হবে না। শুধু কৃষি খাতের আধুনিকীকরণ কিংবা শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগই নয়, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থানের জায়গাটিকে সম্প্রসারিত করা হলে দারিদ্র্যসীমা তার অবস্থানকে প্রতিনিয়ত অতিক্রম করবে। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ