১৬ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টানা পতনে পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অব্যাহত দরপতন আর লেনদেন খরার খপ্পরে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার। এতে প্রতিনিয়ত পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীদের আর্তনাদ বাড়ছেই। কোনভাবেই তারা এই শেয়ারবাজার নিয়ে আশ্বস্ত হতে পারছেন না।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় বুধবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া তিন কার্যদিবসেই দরপতন হলো।

এমন টানা দরপতন হলেও শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে সম্প্রতি বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তারল্য বাড়াতে রেপোর মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু শেয়ারবাজারে এর কোন ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। আব্দুল বারী সোহাগ নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, শেয়ারবাজারে প্রতিনিয়ত দরপতন হচ্ছে।

সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা। অবস্থা এমন দাঁ[িড়য়েছে প্রতিদিন বিনিয়োগ করা পুঁজি কমছেই। আর আমাদের নীরবে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আহসান হাবীব রাসেল নামের আর এক বিনিয়োগকারী বলেন, সবাই ২০১০ সালের মহাধসের কথা বলেন। কিন্তু গত কয়েক মাসের দরপতন ২০১০ থেকে কোন অংশে কম না। চলমান নীরব পতনে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। এসব বিনিয়োগকারীকে রক্ষা করার যেন কোন উপায় নেই।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার ডিএসইতে দরপতন হয়েছে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে দরপতন হয়েছে ২৪১টির। আর ৪৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭২৪ পয়েন্টে উঠে অবস্থান করছে।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা আস্থা সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। দিন যত যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সঙ্কট বেড়েই চলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তারল্য সঙ্কট। যে কারণে বাজারে এমন ধারাবাহিক দরপতন হচ্ছে। এদিকে দরপতনের সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে লেনদেন খরা। তবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় বুধবার লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩২০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩০১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। লেনদেন খরার বাজারে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ২০ কোটি ৭১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট পাওয়ার। এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে -স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, সিলকো ফার্মাসিটিক্যাল, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, ওয়াটা কেমিক্যাল, স্টাইল ক্রাফট এবং গ্রামীণফোন।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক সিএএসপিআই ৭৯ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৫টির। আর ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ