১৬ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরও দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ

  • বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক সংস্থা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ৭৮ শতাংশ ব্যবসায়ীর অভিযোগ সরকারী কাজ পেতে তাদের ঘুষ দিতে হয়েছে। ৭৬ শতাংশ অভিযোগ করেছেন, পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে তাদের ঘুষ দিতে হয়েছে। কর পরিশোধ করতে ঘুষ দিয়েছেন বলে ৭৪ শতাংশ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত না হওয়ায় সূচকে বাংলাদেশের অবনতি হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশ আরও দুই ধাপ পিছিয়েছে। বিশ্বের ১৪১টি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ নিয়ে করা জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম। আগের বছর ১৪০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছিল ১০৩তম। তার আগের বছর ছিল ১০২তম। বুধবার সারা বিশ্বে একযোগে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ডব্লিউইএফ। বেসরকারী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ২০০১ সাল থেকে ডব্লিউইএফের পক্ষ হয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। একটি দেশে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ কতটা সহায়ক, সরকারের নীতি কৌশল, প্রতিষ্ঠান কতটা ব্যবসা সহায়ক এবং একজন ব্যবসায়ী প্রতিযোগিতা করতে কতটা সক্ষম এসব বিষয় নিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতিবছর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনটি তৈরি করে আসছে ডব্লিউইএফ। ১২টি স্তর বা সূচকের অবস্থান নিয়ে একটি দেশের তালিকা নির্ধারণ করা হয়। সেগুলো হলো, প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, তথ্য-প্রযুক্তির অভিযোজন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, পণ্য বাজার, শ্রমবাজার, আর্থিক ব্যবস্থা, বাজারের আকার, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও ব্যবসার গতিশীলতা। বাংলাদেশ কেন দুই ধাপ অবনমন হলো তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই বছর ১২টি সূচকের মধ্যে দশটিতেই পতন হয়েছে। শুধু পণ্য বাজার ও স্বাস্থ্য এই দুটি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নতি হয়েছে। যে দশটিতে অবনমন হয়েছে, তার মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি অভিযোজন এবং অবকাঠামো হয়েছে।

বৈশ্বিক বিচারে বাংলাদেশের দুই ধাপ পেছানোর পেছনে আরও যুক্তি তুলে ধরে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১২৩তম। দুর্নীতির ঘটনায় ১২৫তম। জনসংখ্যার তুলনায় অনিরাপদ পানি গ্রহণের সূচকে ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬তম। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ভূমি ব্যবস্থাপনার গুণগত মান, আর্থিক খাতের অবস্থানেও অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশ এখন জনসংখ্যার বোনাস কাল ভোগ করছে। যেখানে প্রায় ৬৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ১৫ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। এরা সবাই কর্মক্ষম। কিন্তু এই অদক্ষ জনশক্তি একদিন বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে চতুর্থ শিল্প বিপবের কারণে। তাঁর মতে, আমাদের দেশে ব্যবসায় গতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের মারাত্মক বাধা রয়েছে। উদ্যোক্তা তৈরি ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বড় ধরনের বাধা রয়েছে। এই কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে আশানুরূপ ফল করতে পারছে না। বরং পিছিয়ে পড়ছে। সিপিডি মনে করে, বাংলাদেশ যেখানে হাঁটছে; বিশ্বের অপরাপর দেশ সেখানে দৌড়াচ্ছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সুশাসনে মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, যে কোন কাজ পেতে এখানে ঘুষ লেনদেন হয়। ৭৮ শতাংশ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, সরকারী কাজ পেতে তাদের ঘুষ দিতে হয়েছে। ৭৬ শতাংশ অভিযোগ করেছেন, পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে তাদের ঘুষ দিতে হয়েছে। কর পরিশোধ করতে ঘুষ দিয়েছেন বলে ৭৪ শতাংশ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন।

নির্বাচিত সংবাদ