১৬ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এনসিএলে কোচিংয়ে অভিষেকে রোমাঞ্চিত আফতাব

এনসিএলে কোচিংয়ে অভিষেকে রোমাঞ্চিত আফতাব

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ যখন ক্রিকেট খেলতেন তখন আফতাব আহমেদের ব্যাটিংয়ে সবসময়ই লড়াকু মানসিকতা থাকত। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতেন। তাতে প্রশংসাও কুড়িয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট লীগে (এনসিএল) এবার কোচিংয়ে অভিষেক হচ্ছে আফতাবের। চট্টগ্রাম বিভাগের কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রামের ছেলে, বাংলাদেশ দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা মেট্রোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তার কোচিংয়ের অভিষেকও হচ্ছে। এই অভিষেক নিয়ে উত্তেজিত, রোমাঞ্চিত আফতাব। সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন লড়াকু মানসিকতা এখানেও থাকবে।

জাতীয় লীগে কোচিং অভিষেক নিয়ে শুরুতে আফতাব জানান, ‘অবশ্যই। প্রথমেই আমি বিসিবিকে ধন্যবাদ জানাই, আমাদের যারা সাবেক ক্রিকেটার ছিলেন তাদের মাঠে সুযোগ করে দেয়ার জন্য। আমি অবশ্যই কিছুটা উত্তেজিত। এই বছর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের হেড কোচ হিসেবে কাজ করা। আমরা শেষ ৮-১০ বছরে একই জায়গায় আটকে আছি। প্রথম বছর এসে আমি অনেক কিছু করতে পারব না। ইনশাল্লাহ, চট্টগ্রামকে ওই জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা যেখানে আগে ওরা লিড করেছে।’

এনসিএলের ২১তম আসর হবে এবার। ২০০০ সাল থেকে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটভুক্ত হয়েছে এনসিএল। ঠিক এর আগের মৌসুমেই চট্টগ্রাম বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এনসিএল নাম লেখানোর পর আর শিরোপা জেতা হয়নি। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ সর্বোচ্চ ৬ বার করে, ঢাকা বিভাগ ৫ বার, রংপুর বিভাগ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ বার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আফতাব দলকে ভাল অবস্থানে দেখতে চান।

দল নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে আফতাব বলেন, ‘আমরা পত্রপত্রিকায় অনেক সময় দেখি যে এটাকে ‘পিকনিক লীগ’ হিসেবে দেখা হয়। বিসিবি এটার পরিবর্তনের জন্যই এতো কিছু পরিবর্তন করেছে। আমরা যেহেতু পেশাদার ক্রিকেটার ছিলাম, সেটা আমাদের মধ্যে অবশ্যই আছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে খেলাকে গুরুত্ব দেয়া। যেটাকে আগে পিকনিক আসর বলা হতো সেটাকে পরিবর্তন করা। এটা অনেক বড় ক্ষতি একজন ক্রিকেটারের জন্য, যে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে না নেয়া। চট্টগ্রামে আমরা এটা সবার আগে চেষ্টা করছি যে, পেশাদারিত্ব যেন সবার মধ্যে আসে। এই আসরকে গুরুত্বের সঙ্গে নেই। কেননা আমি, তামিম বা মুমিনুল- সবাই কিন্তু এই জাতীয় লীগ খেলেই দলে জায়গা করে নিয়েছি। তো নতুন দিনের ক্রিকেটারকে আমি এটাই বোঝাতে চাই যে আমাদের যেমন জাতীয় দলে ভবিষ্যত হয়েছে এখান থেকে, সেটা কিন্তু তোমাদেরও হতে পারে। এটা আমাদের প্রথম পদক্ষেপ।’

লড়াকু মানসিকতা নিয়ে আফতাব জানান, ‘আমি যখন খেলা শুরু করেছি, তখন আমার লক্ষ্য ছিল, জাতীয় দলে খেলব। এখানে যখন কাজ করছি, তখন দলটাকে শেষ দল হিসেবে দেখতে চাই না। আমি যখন ক্রিকেট খেলেছি, তখন লড়াকু মানসিকতা নিয়েই খেলেছি। জানি না কতটুকু খেলেছি। এটা কোচিং পেশা বা যেখানেই কাজ করি না কেন সেখানেই থাকবে। আমি শতভাগ চেষ্টা করব। জানি না ফলাফল কি হবে। কিন্তু আমার চেষ্টা পুরোপুরিই থাকবে এখানে।’

এবার তামিম ইকবালও খেলবেন এনসিএল। ২০১৫ সালের পর আবার এনসিএল খেলবেন চট্টগ্রামের তামিম। সেই দলের কোচ আফতাব। তামিমকে নিয়ে আফতাব বলেন, ‘এটা অনেক বড় পাওয়া। কালকে (আজ) সম্ভবত আমাদের ৪-৫ জনের অভিষেক হবে। যাদের অভিষেক হবে তারা তামিম ইকবালের সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করবে, এটার চেয়ে বড় ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না। আরেকটা কথা হচ্ছে অনেকদিন পরও আসছে। ও ভাল কিছু করার জন্যই এসেছে আশাকরি। তাহলে চট্টগ্রামের জন্য ভাল হবে। আমাদের ক্রিকেটারদের জন্যও ভাল হবে। আমরা তামিমকে নিয়ে অনেক উত্তেজিত। সত্যি কথা বলতে ওর সঙ্গে আজকেই (গতকাল) আমার দেখা হলো। আপনারা জানেন যে ও ট্রেইনার-ফিজিও নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করছিল। ও যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে, আমার কাছে মনে হয় ও খুব ভালভাবে ফিরে আসবে।’

আফতাবের এ বছরটা ভালই যাচ্ছে। এনসিএলের কোচ হয়েছেন। আবার দেশের প্রথম কোন ক্রিকেটার দেশের বাইরে হতে যাওয়া কোন লীগের একটি দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বাংলাদেশের সাবেক হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান আফতাব। নবেম্বরে দুবাইয়ে টি২০ লীগ হবে। এই লীগে দেশেরই একটি দল বাংলা টাইগার্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন আফতাব। এ লীগ নিয়েও আফতাব উত্তেজনায় ভাসছেন, ‘এটা অবশ্যই বড় ব্যাপার। অনেক উত্তেজিত আমি।

আমি যেহেতু কোচিংয়ে এসেছি এটা আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমি চেষ্টা করব আপনাদের দোয়ায় ভাল কিছু করার।’