১৭ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুনেতেই সিরিজ নিশ্চিত করতে চান কোহলি

  • ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় টেস্ট শুরু আজ, ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া প্রোটিয়ারা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্রিকেটে বাইরের দলগুলোর জন্য উপমহাদেশে ভাল করা সবসময় চ্যালেঞ্জিং। আর সেটা যদি হয় ভারতের মাটিতে তবে চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলও যেখানে খাবি খায়। সেখানে এবি ডি ভিলিয়ার্স, হাসিম আমলা, ডেল স্টেইনের মতো তারকা পারফর্মার অবসরে যাওয়ায় তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে এবার ভারত সফর করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১-১এ টি২০ সিরিজ ড্র করে ভাল কিছুর ইঙ্গিত দেয়া প্রোটিয়ারা অবশ্য বিশাখাত্তমে প্রথম টেস্টে পাত্তা পায়নি। ফ্যাফ ডুপ্লেসিসের দল হার মেনেছে ২০৩ রানের বড় ব্যবধানে। নাম্বার ওয়ান ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি চাইছেন, সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে পুনেতেই সিরিজ নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে হারলেও আগের ম্যাচ পঞ্চমদিনে টেনে নিয়ে যাওয়া সফরকারীদের সাহস যোগাচ্ছে। হারার আগে হারতে রাজি নন প্রোটিয়া সেনাপতি ডুপ্লেসিসও। অবশ্য মহারাষ্ট্র ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশনের চিরায়ত স্পিনিং কন্ডিশনে রবীন্দ্র জাদেজা-রবিচন্দ্রন অশ্বিনদের সামলে অতিথিদের জন্য সিরিজে ফিরে আসা মোটেই সহজ নয়। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় সকাল দশটায়।

ডুপ্লেসিস বলেন, ‘ভারত সফর সবসময় চ্যালেঞ্জিং আমরা সেটা জানি। তাই বলে হাল ছাড়তে রাজি নই। বিশাখাত্তমে একাধিকবার ম্যাচে ফিরেও স্পিরিট ধরে রাখতে পারিনি। নইলে পঞ্চমদিনে গড়ানো ম্যাচে অনেক কিছুই হতে পারত। আমরা আরও ভাল ক্রিকেট উপহার দিতে চাই। জয়ের জন্যই মাঠে নামব।’ আর স্বাগতিক অধিনায়ক কোহলি চান সিরিজ নিশ্চিত করতে, ‘প্রথম টেস্টে ছেলেরা যেভাবে খেলেছে তাতে আমি খুশি। তবে অতিআত্মবিশ্বাসে ভোগার সুযোগ নেই। কারণ প্রতিপক্ষ শক্তিশালী। ওরা ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে। আমরা নিজেদের খেলাটা খেলে এখানেই সিরিজ নিশ্চিত করতে চাই।’ আগেরবার ভারত সফরে এই পুনেতে শক্তিশালী ব্যাটিংলাইন নিয়েও মাত্র তিনদিনে পেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এখানকার ঘূর্ণিপিচে ভারতীয় স্পিনারদের সামলাতে পারেনি তারা। বিশাখাত্তমে জাদেজা ও অশ্বিনের স্পিন সামলাতে পারেনি ডুপ্লেসিসের দল। পুনেতে কি স্পিনার সংখ্যা আরও বাড়বে? সিরিজ নিশ্চিত করতে স্বাগতিকরা সেই পথে হাঁটতেই পারে। তবে ভারত ব্যাটিং কোচ বলেছেন, স্পোর্টিং উইকেট হলে ভাল, যেটি গোটা দলকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তুলবে। প্রথম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নবীন মায়াঙ্ক আগারওয়াল (২১৫)। ওপেনিংয়ে রোহিত শর্মার সঙ্গে গড়েছেন ৩১৭ রানের জুটি। ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আর দীর্ঘ ২৭ টেস্ট পর ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়ে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন রোহিত শর্মা। খেলেছেন ১৭৬ ও ১২৭ রানের দারুণ দুটি ইনিংস। টেস্ট স্পেশালিস্ট চেতেশ্বর পুজারা বিশাখাপত্তমে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬ রানে ফিরলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানের ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক কোহলি প্রথম ইনিংসে ২০ রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৫ বলে ৩১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। গত বছর ডিসেম্বরে সর্বশেষ সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া সুপার কোহলিও নিশ্চয়ই জ্বলে উঠতে চাইবেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুর্দান্ত খেলা সহ-অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে করেন ১৫ ও অপরাজিত ২৭ রান। মিডলঅর্ডারে তার জায়গা পাকা। ছয় নম্বর পজিশনে হনুমা বিহারি উইন্ডিজ সফরে সিরিজসেরা হয়েছিলেন। বিশাখাপত্তমে প্রথম ইনিংসে ১০ রান করে আউট হন তিনি।

ঋদ্ধিমান সাহার এটি কামব্যাক সিরিজ। অনেক নাটকীয়তার পর ঋষভ পন্থের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন। প্রথম ইনিংসে শেষদিকে মারতে গিয়ে আউট হন ২১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে হয়নি। তবে কঠিন পিচেও উইকেটের পেছনে দুরন্ত পারফর্মেন্সে দলকে ভরসা দিয়েছেন। রবীন্দ্র জাদেজার কথা আলাদা করে বলতে হয়। ৩০ ও ৪০ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ৬ উইকেট। সাকিব আল হাসানকে টপকে আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে অলরাউন্ডারদের তালিকায় উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। আর দীর্ঘদিন পর ফিরে প্রথম ইনিংসে ৮ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেট নিয়ে গ্রেট মুত্তিয়া মুরলিধরনের সমান ৬৬ টেস্টে দ্রুত সাড়ে তিন শ’ উইকেটের তালিকায় যৌথভাবে নাম লিখিয়েছেন অশ্বিন। ঘরের মাটিতে স্পিনিং পিচেও দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন পেসার মোহাম্মদ শামি। নিয়েছেন ৫ উইকেট।

তাকে দ্বিতীয় ইনিংসের ‘বিশেষজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছেন কোহলি। ইশান্ত শর্মা একদমই সুবিধা করতে পারেননি। পুনেতে তার স্থলে কি চায়নাম্যান স্পিনার কুলদীপ যাদবকে খেলানো হবে? সেটিই দেখার অপেক্ষা।