২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চুয়াডাঙ্গার ১০ রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি

  • টিকেট চাহিদাও মিটছে না

রাজীব হাসান কচি, চুয়াডাঙ্গা ॥ জেলার ১০টি রেলস্টেশনে কোন যাত্রী পরিষেবাই নেই। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার কেন্দ্রস্থল হলেও টিকেট চাহিদা মিটছে না যাত্রীদের। এতে দারুণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। ট্রেন যাত্রা চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করলেও যাত্রীরা বেশি দামে টিকেট কিনছে পার্শ্ববর্তী যশোর ও খুলনা থেকে। বেশি দামে অন্য জেলা থেকে টিকেট কিনে অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রেল কর্তৃপক্ষ থেকে এর প্রতিকার না পেয়ে দিনের পর দিন বাড়তি টাকা ব্যয় করছে যাত্রী সাধারণ।

জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের ব্যবসায়ী জাহিদ ও আব্দুল লতিফ জানান, আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশনের সকল কার্যক্রম ভালভাবেই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ স্টেশনের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। বসবার স্থান নেই। প্রভাবশালীরা গোটা স্টেশন তাদের ব্যবসার জন্য দখল করে নিয়েছে। বেশিদিন বন্ধ থাকলে আরও অকেজো হয়ে যাবে এ স্টেশনটি। এ স্টেশনে শুধু লোকাল ও মেইল ট্রেন থামে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের সংবাদকর্মী সালাউদ্দীন কাজল জানান, উথলী রেলস্টেশনে যাত্রীদের বসবার জায়গা থাকলেও সেখানে কোন শৌচাগার নেই। এ কারণে বয়স্ক, শিশু, পুরুষ ও মহিলা যাত্রীদের দারুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ ও সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু বলেন, দর্শনা হল্ট স্টেশন প্ল্যাটফর্ম বাড়িয়েছে। কিন্তু সেখানে কোন সীমানা প্রাচীর না থাকার কারণে যাত্রীরা যে কোন সময় খাদের মধ্যে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এছাড়া স্টেশনের অনেক অংশ জুড়ে কোন শেড নেই। সেজন্য যাত্রীরা রোদ বৃষ্টিতে সমস্যায় পড়ছে। এ স্টেশনে প্রতিদিন কয়েকশত যাত্রীর জন্য একটি শৌচাগার আছে। এখানকার যাত্রী বিশ্রামাগারটি জিআরপি পুলিশের দখলে থাকায় যাত্রীরা সেটা ব্যবহার করতে পারে না। তাছাড়া এ স্টেশনটি মাদক কারবারি ও পকেটমারদের দখলে থাকায় যাত্রীদের বড় রকমের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, এ স্টেশন থেকে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার যাত্রীরা ট্রেনে যাতায়াত করে। স্টেশনে প্রতিদিন দেড় হাজারের মতো যাত্রী বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এখানে প্রথম শ্রেণী ও সাধারণ যাত্রীদের বিশ্রামাগার রয়েছে। কিন্তু প্রথম শ্রেণীর বিশ্রামাগার খোলা হয় না। গোটা স্টেশনে দুটি শৌচাগার রয়েছে। টিন শেডগুলো জরাজীর্ণ ও ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টিতে যাত্রীরা ভিজে যায়। অপেক্ষার জন্য এখানে কোন ঘর নেই। বিকল্প বিদ্যুত ব্যবস্থা না থাকায় লোডশেডিংয়ের সময় সম্পূর্ণ প্ল্যাটফর্ম অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। যাত্রী সুবিধার জন্য প্ল্যাটফর্ম দুধারে বাড়ানো হলেও সেখানে শেড ও বসবার জায়গা না থাকায় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে ও বর্ষাকালে বৃষ্টিতে যাত্রীদের ভিজতে হয়। তিনি বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনে তিন জেলার যাত্রীর চাপ থাকলেও এখান থেকে টিকেট পাওয়া যায় না। কমপক্ষে ৬০টি তাপানুকুল ও কেবিনের টিকেট দেয়ার সামর্থ্য থাকলে কিছুটা ঝামেলা মুক্ত থাকা যায়। যাতায়াতের জন্য এ টিকেটগুলো বেশি দামে যশোর ও খুলনা থেকে সংগ্রহ করে যাত্রীরা। বিশেষ করে ঢাকা-চুয়াডাঙ্গা-খুলনাগামী আন্তঃনগর চিত্রা ও সুন্দরবন ট্রেনে টিকেট সঙ্কট প্রকট আকার ধারন করেছে। তাছাড়া ঢাকা-বেনাপোল আন্তঃনগর বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে থামার বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানান তিনি। এতে টিকেট বিক্রি হলে রেলের রাজস্ব বাড়বে সেই সঙ্গে যাত্রীরা নির্বিঘেœ তাদের গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গার দুটি রেলগেটে বিদ্যুত ব্যবস্থা না থাকায় গেটম্যানদের দায়িত্ব পালন করতে যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি উর্ধতন রেল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ আশা করেছেন। তিনি আরও জানান, গত জুন মাসে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনে যাত্রীদের কাছে ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৯২৪, জুলাই মাসে ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬ ও আগস্ট মাসে ৬২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭১ টাকার টিকেট বিক্রি হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর রেলস্টেশন সরকারীভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও সেখান থেকে বেসরকারীভাবে মেইল ও লোকাল ট্রেনের চলাচল করছে। অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে প্লাটফর্মটি। সেটা দখলদারদের দখলে রয়েছে। এক অংশ দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যালয়।

সরকারীভাবে বন্ধ মুন্সীগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে প্রত্যেকদিনই বেসরকারীভাবে চলাচল করা ট্রেনগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। টিকেট বিক্রির ছোট একটি বন্ধ ঘরে সিগন্যালের কার্যক্রম পালাক্রমে পরিচালনা করছেন গেটম্যান আব্দুল গনি ও বিল্লাল হোসেন। গেটম্যান আব্দুল গনি বলেন, খুব সমস্যার মধ্যেই এ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এটা দেখার কেউ নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেলস্টেশনের সিগন্যাল ঘরটি রেলের পরিত্যক্ত জমি দখল করে ঘর তোলা ব্যক্তিরা তাদের শৌচাগার রূপে ব্যবহার করছে। এছাড়া দখলদাররা স্টেশনের প্লাটফর্মে ব্যবসা কেন্দ্র ও চা বিক্রির দোকান দিয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

পাবনা জেলার পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, এ বিভাগের আওতায় ১০টি জেলা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় রয়েছে ১০টি স্টেশন। এগুলো হলো আনসারবাড়ীয়া, উথলী, দর্শনা হল্ট, আন্তর্জাতিক স্টেশন দর্শনা, জয়রামপুর, গাইদঘাট, চুয়াডাঙ্গা, মোমিনপুর, মুন্সীগঞ্জ ও আলমডাঙ্গা। এর মধ্যে আনসারবাড়ীয়া, জয়রামপুর, গাইদঘাট, মোমিনপুর ও আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের সরকারী কার্যক্রম জনবল সঙ্কটের কারণে বন্ধ রয়েছে কিন্তু বেসরকারী ট্রেনগুলো এ সব স্টেশনে থেকে যাত্রী ওঠানামা করায় এবং টিকেট বিক্রি করে। তবে জনবল সঙ্কট নিরসন করে সরকারীভাবে প্রত্যেকটি রেলস্টেশনের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে খুব দ্রুতই চালু করা হবে। তবে টিকেট সঙ্কটটির ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা ওপরের ব্যপার সেকারণে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না।

নির্বাচিত সংবাদ